পারিবারিক টানাপোড়েন নিয়ে ‘আঁতকা’

পারিবারিক পটভূমিতেই এগিয়েছে সিরিজটির কাহিনিছবি: চরকির সৌজন্যে

হাসি–কান্না, ভুল–বোঝাবুঝি, টানাপোড়েন আর হঠাৎ ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা—বাংলাদেশি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের চেনা গল্পই নতুন উপস্থাপনা নিয়ে ‘আঁতকা’। ১৪ জানুয়ারি রাত ১২টায় অরিজিনাল সিরিজটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে আসছে। গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রাবা খান আর পরিচালনা করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি। নির্মাতাদের ভাষ্যে, পারিবারিক পটভূমিতেই এগিয়েছে সিরিজটির কাহিনি। তবে তার ভেতরে রয়েছে হরর–কমেডির হালকা ইঙ্গিত আর কয়েকটি নাটকীয় আকস্মিক মোড়।

‘আঁতকা’ গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন রাবা খান আর পরিচালনা করেছেন আরাফাত মহসীন নিধি
ছবি: চরকির সৌজন্যে

আঁতকাতে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, রোজী সিদ্দিকী, সাবেরী আলম, মৌসুমি নাগ, সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল, আরশ খান, সোহেল মণ্ডল ও ফারিহা রহমান। পাশাপাশি আরও আছেন মুকুল সিরাজ, সুমন আনোয়ার, তন্ময় পারভেজ, দুর্জয়, আলিফ খান, ফারদীন খান, ফাহাদ রিয়াজ খান, ডালিয়া ও আবু নায়েম। নবীন ও অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মিত এই সিরিজকে নতুন বছরের প্রথম কনটেন্ট হিসেবে দর্শকের সামনে আনছে চরকি।

আরও পড়ুন

নামের পেছনের গল্প
বাংলায় প্রচলিত একটি শব্দ ‘আঁতকা’। যার অর্থ, হঠাৎ ঘটে যাওয়া কিছু কিংবা আচমকা পরিস্থিতি। নির্মাতারা জানান, পরিবারের ভেতরে চলতে থাকা স্বাভাবিক জীবনের মধ্যেই কখনো কখনো এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা আগে থেকে ভাবা যায় না। সেই ধারণা থেকেই সিরিজের নাম রাখা হয়েছে আঁতকা। একই পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প। এক ছাদের নিচে থাকা মানুষদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ভালোবাসা, ভুল–বোঝাবুঝি, টানাপোড়েন, হাসিঠাট্টা—এসবই ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সামনে এসেছে। নির্মাতাদের মতে, একটি মাঝারি আকারের পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহের মধ্যেই যে নাটকীয়তা থাকে, সেটিই এখানে তুলে ধরা হয়েছে—যা দর্শকের কাছে খুব চেনা মনে হবে।

শুটিং অভিজ্ঞতা
শুটিং অভিজ্ঞতা নিয়ে শিল্পীরা জানান, একাধিক প্রজন্মের শিল্পীদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ হওয়ায় সেটে তৈরি হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ। অল্প কথায় শিল্পীরা অভিজ্ঞতা জানালেন। ‘খুব চমৎকার এক্সপেরিয়েন্স’, বললেন সাবেরী আলম। রোজী সিদ্দিকী বলেন, ‘পুরোদস্তুর ফ্যামিলি ড্রামা।’ আবুল হায়াতের মন্তব্য, ‘ফ্যামিলি ফান।’ সুনেরাহ্‌ বিনতে কামাল বলেন, ‘অনেক ফান।’ নবীনদের মধ্যে আরশ খান বলেন, ‘সিনিয়র শিল্পীদের সঙ্গে প্রথম দৃশ্য করার আগের রাতে ভীষণ নার্ভাসে পড়ে গিয়েছিলাম।’ ফারিহা রহমান বলেন, ‘গুণী শিল্পীদের সামনে আবেগপ্রবণ দৃশ্য করতে গিয়ে ভয়ে কেঁদে ফেলেছিলাম।’ সোহেল মণ্ডলের ভাষ্যে, ‘সবাই মিলে কাজ করার অভিজ্ঞতা বেশ আনন্দের ছিল।’
শিল্পীদের ভাষ্য, এই কাজের মাধ্যমে তাঁরা শুধু অভিনয় নয়, একে অপরের কাছ থেকে শেখারও সুযোগ পেয়েছেন। বিশেষ করে তরুণ শিল্পীরা বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করা তাঁদের জন্য ছিল বড় পাওয়া।

আরও পড়ুন

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, নতুন বছরের শুরুতেই দর্শকদের জন্য পারিবারিক গল্প উপস্থাপন করতে চেয়েছেন তাঁরা। তাঁর আশা, সিরিজের হাস্যরস ও পারিবারিক সম্পর্কের দিকগুলো দর্শকের কাছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাবে এবং আঁতকা পুরো পরিবার একসঙ্গে বসে দেখার মতো কনটেন্টে পরিণত হবে।
পরিচালক আরাফাত মহসীন নিধি বলেন, তিনি অনেক দিন ধরেই একাধিক শিল্পীকে নিয়ে পারিবারিক গল্প নির্মাণের পরিকল্পনা করছিলেন। তাঁর মতে, একই পরিবারের ভেতর ঘটে যাওয়া ছোট ছোট ঘটনা থেকেই বড় গল্প তৈরি হয়। সেই জীবনের কাছাকাছি থাকা গল্পই পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। যাঁদের নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল, তাঁদের অনেককে এই সিরিজে একসঙ্গে পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
গল্পকার ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে প্রথমবার সিরিজ নির্মাণে যুক্ত হলেন রাবা খান। তিনি বলেন, পরিবার এমন একটি জায়গা, যেখানে আনন্দের পাশাপাশি দুঃখ, উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি টেনশন—সবকিছুই মিশে থাকে। এসব অভিজ্ঞতা প্রায় সবার জীবনেরই অংশ। তাই দর্শকের কাছে গল্পটি খুব বেশি অচেনা মনে হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।