দেশের অনেক নির্মাতার মতো ইফ্ফাতেরও শুরুটা বিজ্ঞাপন দিয়ে। বানিয়েছেন মিউজিক ভিডিও। গত বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণ করেন। কবীর সুমনের কথা ও সুরে আরমান আহমেদ সিদ্দিকীর ‘কোথায় হাঁটব দুজনে’ গানের ভিডিও বানান। ঝুলিতে আছে আরও কয়েকটি মিউজিক ভিডিও ও বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের অভিজ্ঞতা। কেবল দেশেই নয়, বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র বানিয়েছেন ভারতেও।

যেভাবে ‘মুনতাসীর’-এর স্বপ্ন
‘বাংলাদেশে বেশির ভাগ সময়ই নারীদের যৌন হয়রানি নিয়ে কথা হয়। কিন্তু পুরুষেরাও কিন্তু যৌন হয়রানির শিকার হয়। মেয়েশিশুদের মতো ছেলেশিশুরাও নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়। আমার বন্ধু, আশপাশের পরিচিত অনেকের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি ছেলেরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তখন মনে হলো এটা নিয়ে কাজ করা উচিত।’ বলছিলেন ইফ্ফাত জাহান। নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবাই যৌন নির্যাতনের শিকার, মূলত এই ভাবনা থেকে শুরু হয় ‘মুনতাসীর’ করার চিন্তা।

কাজ শুরুর আগে তরুণ এই নির্মাতা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন, প্রচুর মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। বুঝতে পারেন নির্যাতনের শিকার হলেও অনেক পুরুষই এটা নিয়ে কথা বলতে চান না। শৈশবে বা বড় হওয়ার পর নির্যাতনের শিকার অনেকে একটা ট্রমার মধ্যে চলে যান। তখন পরিচালকের মনে হয়, তাদের গল্পটাও তুলে ধরা জরুরি।

পুরুষদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো বিষয় নিয়ে ছবি করতে কতটা বেগ পেতে হয়েছে? পরিচালক জানালেন, তাঁকে সেভাবে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বিঞ্জ-এ যখন নিজের গল্পটা শোনান, তাঁরা পছন্দ করে সবুজসংকেত দেন। ইফ্ফাত বলেন, অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম এমন একটা বিষয় বেছে নেব, যা আশপাশে ঘটছে। ফলে ছবি করার প্রস্তাব পাওয়ার পর এ ধরনের গল্পই তিনি তুলে ধরবেন বলে ঠিক করেন। তিনি বলেন, ‘যে কাজটা করব, যেন একটা প্রভাব ফেলে সেটা মাথায় ছিল। রোমান্টিক, থ্রিলার, অ্যাকশন নানা ধরনের কাজ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের সমাজে আরও কিছু বিষয় আছে, যে গল্পগুলো বলাও জরুরি।’

১০ দিনেই শুটিং শেষ
গত ৯ অক্টোবর শুরু হয় শুটিং। দুই ধাপে ১০ দিনেই শেষ করেন কাজ। কেমন ছিল শুটিং অভিজ্ঞতা? পরিচালক বলেন, ‘সবাই অভিজ্ঞ শিল্পী, প্রত্যেকেই সহযোগিতা করেছেন। আমি যেহেতু পরিচালনায় নতুন, সবার সহযোগিতা, টিমওয়ার্ক কাজটা সহজ করে দিয়েছে।’

তরুণ এই পরিচালক মনে করেন, ওটিটির কল্যাণে এখন নানা ধরনের নিরীক্ষাধর্মী কাজের সুযোগ বেড়েছে। তিনি বলেন, তরুণ দর্শকেরা এখন পরিচালক, অভিনয়শিল্পী এসব নিয়ে মাথা ঘামান না, তাঁরা কাজটা দেখেন। ইফ্ফাতের আশা, আরও অনেক তরুণ, বিশেষ করে নারীরা, পরিচালনায় এগিয়ে আসবে। ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আরও বৈচিত্র্যময় গল্প পাওয়া যাবে।

শুটিং শেষে ‘মুনতাসীর’ এখন প্রচারের অপেক্ষায়। পরিচালক মনে করেন, নির্মাণের আগে যে গল্পটি তিনি বলতে চেয়েছিলেন, সেটি বলতে পেরেছেন। নিজের প্রথম কাজ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। ইফ্ফাত জাহানের প্রথম ওয়েবফিল্ম ‘মুনতাসীর’-এ অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, অশোক বেপারী, মনোজ প্রামাণিক, এলিনা শাম্মী, ফারহানা হামিদ, ইকবাল হোসেইন। প্রথম ওয়েবফিল্ম মুক্তির আগেই ইফ্ফাত শুরু করেছেন পরের ছবির প্রস্তুতি। বিষয় নারী ক্রিকেট। আগামী বছরের মার্চে শুরু হবে ছবিটির শুটিং।