মামুর ব্যাটারা ফাট্টিয়ে দিল!
নির্মাতা ও সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছে ওয়েব সিরিজ ‘শাটিকাপ’। রাজশাহীর আঞ্চলিক ভাষার এই ওয়েব সিরিজটি গত বৃহস্পতিবার চরকিতে মুক্তি পেয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম। রাজশাহীর একঝাঁক তরুণ অভিনয়শিল্পীর অভিনয় যেন প্রাণ দিয়েছে সিরিজটিকে। এই সিরিজের সময় উপযোগী গল্প, সাবলীল অভিনয়, গল্প বলার ধরন, ক্যামেরাশৈলী, চরিত্রায়ণ সবই যেন এক শতে এক শ।
ফাহমিদুল হক, শিক্ষক ও চলচ্চিত্র গবেষক
সিরিজটা আপনাকে ভড়কে দেবে, চমকে দেবে। দুর্দান্ত থ্রিলার, তবে দুয়েকবার পিস্তল দেখা গেলেও তা থেকে গুলি বের হয়নি। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক, ক্রসফায়ার—সব প্রসঙ্গ আছে...বড় ডিলারের আদেশে খুচরা ডিলারকে তাড়া করে ফেরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও মাদক নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী। আর তাড়া খেয়ে ‘শাটিকাপে’ নিজেকে বাঁচাতে উদ্ভ্রান্ত খুচরা তরুণ। রাজনৈতিকই বলতে হবে সিরিজটিকে। ছোট শহরের খুচরা মানুষের অথেনটিক, বাস্তবানুগ জীবনের গল্প। কেন্দ্রের পুনরাবৃত্তিমূলক গল্প দেখতে দেখতে ক্লান্ত? সীমান্ত শহরের ভিন্ন মানুষের, ভিন্ন অ্যাকসেন্টের, ভিন্ন বাস্তবতার কাহিনি শোনায় ‘শাটিকাপ’। কোনো চেনা তারকা নেই, নেই মানে একেবারেই নেই। তবু গল্পটি ও তার বয়ানে ক্যামেরার যে শৈলী, আপনাকে মুগ্ধ করবে।
রাজশাহীর গল্প, রাজশাহীর নির্মাতা, রাজশাহীর কলাকুশলী। আমার শহরের গল্প বলে কি বেশি ভালো লাগল? লাগতেও পারে, তবে সিরিজের নিজের শক্তিটা যেকোনো দর্শক টের পাবেন। বাড়তি শক্তি এই যে ঢাকাকেন্দ্রিক অডিও ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরির যে চর্চা, শিক্ষণ-নির্মাণ-পরিবেশনের যে চেনা নেটওয়ার্ক, তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানায় এই সিরিজ, এমনকি নন্দনতত্ত্বের জায়গাতেও। অভিবাদন নির্মাতা তাওকীর শাইক (মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম) ও চরকি টিমকে। কাহিনি বাদেও আবহ সংগীত ও কয়েকটি র্যাপ এই সিরিজের অন্যতম শক্তির দিক। আর পদ্মার চরের টপ-অ্যাঙ্গেল কিংবা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল শটগুলো চোখে লেগে আছে। সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: নিঃসন্দেহে এটা আঠারো প্লাস কনটেন্ট। না যৌনতা নেই, আছে প্রচুর গালি, মাদকের প্রসঙ্গ। এটা সপরিবার দেখার মতো নয়, ব্যক্তির একক দর্শনের বস্তু ‘শাটিকাপ’। এক সিরিজে যত গালি, নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী তাঁর পুরো ক্যারিয়ারে এত গালি দেননি। আর গালির ক্রিয়েটিভ প্রয়োগ, যেটা রাজশাহীর লোকের সহজাত, সেটা কেউ যদি শিখতে চান, তার জন্যও সিরিজটা টিউটোরিয়াল হবে। মামুর ব্যাটারা ফাট্টিয়ে দিল।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, চলচ্চিত্র নির্মাতা
কনগ্র্যাচুলেশনস টিম ‘শাটিকাপ’! আমি সব সময়ই সেই তারুণ্যের গান গাই, যে সীমাবদ্ধতার কথা বলে না, বরং নিজের সীমানার ভেতরে কী কী সম্ভব, সেটা করে দেখতে চায়। তোমাদের স্পর্ধাকে স্বাগত!
অমিতাভ রেজা চৌধুরী, চলচ্চিত্র নির্মাতা
শহুরে নান্দনিকতা Urban aesthetics আর বড়োলোকি ফিল্ম স্টাইলের film style–এর গুষ্টি...দিয়ে একটা অসাধারণ নির্মাণ। স্যালুট টু ফিল্ম মেকার অ্যান্ড পুরো টিম। রেদওয়ান রনি, (চরকির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা) তোর প্রতি জাতি কৃতজ্ঞ থাকবে। আমার পক্ষ থেকে পরিচালককে সালাম দিস।
শঙ্খ দাসগুপ্ত, চলচ্চিত্র নির্মাতা
‘শাটিকাপ’ একটি মৌলিক গল্প। এমনকি এটাতে আরও বেশি বাস্তবতার ছোঁয়া আছে। সিরিজের অভিনেতাদের অসাধারণ অভিনয়। আমার কাছে মনে হয়, এটাতে আমাদের ভবিষ্যৎ গল্প বলার ধরন দেখতে পাচ্ছি। মোহাম্মদ তাওকীর ইসলামকে অভিনন্দন।