হঠাৎ শোবিজে কী হচ্ছে? ৭ দিনে একের পর এক ঘটনা

স্ত্রী ইকরা ও যাহের আলভী
কোলাজ

ঢাকার শোবিজ অঙ্গনে যেন হঠাৎ করেই অস্থিরতার ছায়া নেমে এসেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক ঘটনার জেরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। আত্মহত্যার মর্মান্তিক খবর থেকে শুরু করে শুটিং সেটে মারামারি—নানা ঘটনায় প্রশ্ন তুলছে এই অঙ্গনের ভেতরের বাস্তবতা নিয়ে। কী ঘটছে তারকাদের ঝলমলে দুনিয়ার আড়ালে, সেই নিয়েই এখন সরব শিল্পী ও দর্শক মহল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হঠাৎ করেই জানা যায়, ‘আত্মহত্যা’ করেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরা। এ ঘটনার পর আলভী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি বর্তমানে নেপালে শুটিংয়ে। আমি বুঝতে পারছি না, আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’

লাইভে মুখ খোলেন যাহের আলভী
কোলাজ

স্ট্যাটাসের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। সামনে আসতে থাকে আলভীর অপ্রকাশিত অতীতের ঘটনা। কেউ কেউ পোস্টে মন্তব্য করতে থাকেন, দীর্ঘদিন ধরেই আলভী সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন। যে কারণে নিয়মিত জুটি হিসেবে তাঁদের অভিনয় করতে দেখা যায়। এমনকি সহশিল্পী তিথির জন্মদিন ঘিরেই নেপালে শুটিংয়ের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। নানা সমালোচনার মধ্যে ইকরার ফেসবুক পেজ উধাও হয়ে যায়। পরে এই অভিনেতা স্ত্রীর জানাজায় না এলে নতুন করে সমালোচনা তৈরি হয়। একসময় মামলাও হয়।

মুখ খোলেন আলভী
স্ত্রী মৃত্যুর এক দিন পর ফেসবুক লাইভে মুখ খোলেন আলভী। কারণ, শুটিং থেকে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে শুরু হয় ধোঁয়াশা। কোথাও লেখা হতে থাকে, এই অভিনেতা দেশে ফিরে আত্মগোপনে আছেন। এটাও শোনা যায়, এই অভিনেতা স্ত্রীর মুখ দেখবেন না। নানা আলোচনা–সমালোচনার মধ্যেই আলভী ২৮ মিনিটের ফেসবুক লাইভে জানান, দেশে ফিরলে তিনি মবের শিকার হতেন। তিনি ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ফিরতে পারেননি। আলভী বলেছিলেন, ‘আপনারা বলছেন, যে মানুষটা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করে চলে গেল, শেষবারের মতো তার মুখটা দেখতেও আমি আসলাম না! কিন্তু আপনারা কি আমার দেশে আসার পরিস্থিতি রাখছেন? আমি দেশে আসামাত্রই মব তৈরি হতো। আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলতেন। আমার ফোনে এ রকম এত এত হুমকি—আমি বলে বোঝাতে পারব না। আর আমি কখনোই বিচ্ছেদ হোক, এমন কিছু চাই নাই। আমি নিজেও ব্রোকেন পরিবারে বেড়ে ওঠা।’

আরও পড়ুন
শোক প্রকাশ করেছেন জোভানসহ অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী
ছবি: ফেসবুক

তারকাদের ফেসবুকে ছিল শোকের ছায়া
আলভী ও ইকরা দম্পতির আত্মহত্যার ঘটনায় ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেন অনেকে। মূলত তাঁদের ছোট্ট ছেলেকে নিয়েই ইমোশনাল স্ট্যাটাস দেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা। অভিমান নিয়ে অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা লিখেন, ‘নিজের কষ্ট যদি বাবা-মা ও সন্তানের কষ্টের চেয়ে বড় হয়ে যায় এবং সন্তানকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি নেওয়াই মুখ্য হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে স্বার্থপরতা।’ অভিনেতা ফারহান আহমেদ জোভান আলভী ও ইকরাদের ছোট্ট শিশুর কথা প্রসঙ্গে লিখেছিলেন, ‘তোমাকে আমি কখনো দেখিনি বাবা। কিন্তু গত ৩টা দিন যাবৎ তোমার চেহারাই শুধু আমার চোখে ভাসছে, এমনকি স্বপ্নেও আমি তোমাকেই দেখেছি। মা ছাড়া তুমি কীভাবে থাকবে জানি না, আল্লাহ যেন তোমাকে ভালো রাখেন।’ তমা মির্জা, তৌসিফ মাহবুবসহ দেশের অনেক তারকা এই ঘটনা নিয়ে স্ট্যাটাস দেন।

আরও পড়ুন
ফজলুর রহমান বাবু
কোলাজ

ফজলুর রহমান বাবুর অসুস্থতা
আত্মহত্যার ঘটনার মধ্যেই অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর অসুস্থতার খবর আসে। গত মাসের মাঝামাঝির দিকে রাত ১২টার দিকে এই অভিনেতার হার্ট অ্যাটাক হয়। গত মাসে এই অভিনেতার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হলেও ঘটনা প্রকাশ্যে আসে গত মঙ্গলবার। তাঁর অবস্থা কিছুটা গুরুতর হওয়ায় আগামী এক বছর তিনি কোনো অভিনয় করতে পারবেন না। শুটিং থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেতা। বর্তমানে ফজলুর রহমান বাবু বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন। এখনো তাঁকে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শে থাকতে হচ্ছে।

আলোচনায় রবি চৌধুরীদের বিচ্ছেদ
কোলাজ

আলোচনায় রবি চৌধুরীর বিচ্ছেদ
প্রায় তিন দশক আগে বিয়ে করেছিলেন গায়ক রবি চৌধুরী ও গায়িকা ডলি সায়ন্তনী। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করেই সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সেই বিবাহবিচ্ছেদের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন রবি চৌধুরী। তিনি জানান, তাঁর সাবেক স্ত্রী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় তাঁদের ডিভোর্স হয়। দীর্ঘদিন পর এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা–সমালোচনা তৈরি করে। ভক্তরা কেউ কেউ বিব্রত হয়েছেন, এমন মন্তব্যও করতে থাকেন। এ ঘটনার দুই দিন পর মুখ খুলেছেন ডলি সায়ন্তিনী। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চাই না। সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় বানাবেন না।’

আরও পড়ুন
সামিয়া অথই ও তানজিন তিশা
কোলাজ

হঠাৎ দুই নায়িকার মারামারি
হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেত্রী সামিয়া অথই অভিযোগ করেন, মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নামের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তাঁকে চড় মেরেছেন তানজিন তিশা। সেদিন সন্ধ্যা থেকেই এই ঘটনা নিয়ে শুরু তুমুল আলোচনা–সমালোচনা। অথই তাঁর অভিযোগে বলেন, ‘চিত্রনাট্য অনুযায়ী দৃশ্যটিতে তিশাকে তাঁর একটি চড় মারার কথা ছিল, সেই মতোই তিনি চড়টি মেরেছেন। এরপর তিশা তাঁকে একাধিক চড় মেরেছেন। চিত্রনাট্যে তিশার চড় মারার কথা ছিল না।’ এ ঘটনা নিয়ে পরে ফেসবুক লাইভ ও গণমাধ্যমে আলাদা করে বক্তব্য দেন তানজিন তিশা। তিনি প্রথম আলোকে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ‘যে ব্যাপারটা ঘটেছে, আমি পুরোপুরি আমার চরিত্রটা প্লে করছি। এখানে আমি একজন স্পেশাল চাইল্ডের চরিত্রে অভিনয় করেছি। যে তার চরিত্রের প্রয়োজনে যে কাউকে মারতে পারে।’

আরও পড়ুন
ইকরার অপমৃত্যুকে ঘিরে চলমান বিতর্কে কথা বললেন ইফফাত আরা তিথি
কোলাজ

মুখ খোলেন তিথি
অভিনয়শিল্পী যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার অপমৃত্যু ঘিরে চলমান বিতর্কে অবশেষে গতকাল মুখ খুলেছেন ইফফাত আরা তিথি। শুরু থেকেই ছড়িয়ে পড়ে, এই অভিনেত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ছিল আলভীর। এ ছাড়া বিনোদন অঙ্গনে গুঞ্জন ছড়ায়, তিথির জন্মদিন উদ্‌যাপনের উদ্দেশ্যেই নেপালে শুটিংয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। এসব ঘটনা অস্বীকার করেন এই তরুণ অভিনেত্রী। তিনি বুধবার বিকেলে নিজের ফেসবুকে পোস্ট স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন। সেখানে তুলে ধরেন, যা ছড়িয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। তিনি কখনোই আলভী ও ইকরার বিবাহবিচ্ছেদ চাননি; বরং ইকরার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। তিথির দাবি, তাঁকে নিয়ে ‘ভুল ব্যাখ্যা’ ও ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে। তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘কারও সংসার ভাঙার ইচ্ছা আমার ছিল না। ও কয়েকবারই আমাকে বলেছে ও আমেরিকা চলে যাবে, আমার রিপ্লাই বরাবরই ছিল, “এহ, বললেই হবে! চাইলেও যেতে পারবা না, তুমি তাকে ভালোবাসো। তুমি রানি, তুমি তার রানি।” তাহলে তার আত্মহত্যার জন্য উসকানি আমি কেমন করে দেব?’