একাকিত্বে পিয়ানো ছিল তাঁর একমাত্র বন্ধু। পিয়ানোতে খুব সহজে যেকোনো গান বা সুর তুলে ফেলতে পারতেন। পুরো নাম স্যার এলটন হারকিউলিস জন সংক্ষেপে এলটন জন। শৈশবে তাঁর নাম ছিল রেজিনাল্ড কেনেথ ডোয়াইট।
যুক্তরাজ্যের মিডলসেক্সের অন্তর্গত একটি ছোট গ্রাম পিনার। সেখানে ১৯৪৭ সালের ২৫ মার্চ তাঁর জন্ম। জন্মগতভাবেই সংগীতের আশীর্বাদ নিয়ে জন্মেছিলেন তিনি। মাত্র ৩ বছর বয়সে ঘরের পিয়ানোতে ‘দ্য স্কেটারস ওয়ালজে’র সুর তুলেছিলেন। ১১ বছর বয়সে রয়্যাল একাডেমি অব মিউজিক থেকে জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন। পরে অসাধারণ সব গান উপহার দিয়েছেন প্রতিভাবান এই গায়ক, সুরকার, গীতিকার ও পিয়ানোবাদক।
মাত্র ১৭ বছর বয়সে পড়ালেখার পাট চুকিয়ে বন্ধুদের নিয়ে নিজেদের ব্যান্ড ‘ব্লুসোলজি’ গঠন করলেন এলটন।
রক অ্যান্ড রোল থেকে শুরু করে বুগি-উগি, জ্যাজ, ব্লুজ খুব সহজেই বাজিয়ে ফেলতে পারতেন তিনি। এলটন জনের কণ্ঠে ১৯৬৫ সালে ব্লুসোলজির প্রথম গান ‘কামব্যাক বেবি’ মুক্তি পায়। কিন্তু ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পিয়ানো বাজিয়ে যেন মন ভরছিল না।
রক অ্যান্ড রোল থেকে শুরু করে বুগি-উগি, জ্যাজ, ব্লুজ খুব সহজেই বাজিয়ে ফেলতে পারতেন তিনি। এলটন জনের কণ্ঠে ১৯৬৫ সালে ব্লুসোলজির প্রথম গান ‘কামব্যাক বেবি’ মুক্তি পায়। কিন্তু ব্যান্ডের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পিয়ানো বাজিয়ে যেন মন ভরছিল না।
এরপর সাহিত্যপ্রেমী ১৭ বছর বয়সী বার্নি তাওপিনের সঙ্গে পরিচয়। তাঁদের মধ্যে ভালো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ১৯৬৭ সাল থেকে এলটনের জন্য গান লেখা শুরু করেন বার্নি। প্রায় ৩০টির ওপর অ্যালবামে একসঙ্গে কাজ করেছেন এই যুগল। বার্নি মনের কথা, আবেগ, অনুভূতি ফুটিয়ে তুলতেন তাঁর লেখায়। অন্যদিকে সেই কথাগুলোকে নিজের জীবনের রসদের মতো করে সুর দিতেন এলটন।
১৯৭১ সালে এলটন ও বার্নি যুগলের ‘টাইনি ডান্সার’, ‘লেভন’ এবং ‘মেডম্যান অ্যাক্রস দ্য ওয়াটার’ গানগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শুরু হয় সংগীতজগতে এলটন জনের বিজয়যাত্রা।
১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে মোট সাতটি অ্যালবামের কাজ করেন এলটন। অ্যালবামগুলোর বেশ কিছু গান ‘রকেটম্যান’, ‘মোনালিসাস অ্যান্ড ম্যাড হেটারস’, ‘ক্রোকোডাইল রক’, ‘ডেনিয়েল’, ‘ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড’, ‘দ্য বিচ ইজ বেক’, ‘গ্রিমসবাই’, ‘ডোন্ট লেট দ্য সান গো ডাউন অন মি’, ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’, ‘সামওয়ান সেভড মাই লাইফ’, ‘আই ফিল লাইক আ বুলেট’, ‘বর্ডার সং’ ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
অল্প সময়ের মধ্যে পপ তারকার খ্যাতি পান তিনি। অদ্ভুত সব পোশাক গায়ে জড়িয়ে মঞ্চে হাজির হতেন। অতিরিক্ত সাজপোশাকের জন্য সবার কাছে ‘ফ্লেমবয়েন্ট পারফরমার’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর প্রায় একটি করে অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে ব্রেকিং হার্ট (১৯৮৪), টু লো ফর জিরো (১৯৮৩), আইস অন ফায়ার (১৯৮৫) এবং স্লিপিং উইথ দ্য পাস্ট (১৯৮৯) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে অনেক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এলটন জন। ১৯৯৫ সালে সংগীতে অস্কার লাভ করেন। তিনি ছয়বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী হন। ১২ বার আইভর নোভেলো অ্যাওয়ার্ড এবং একবার টনি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। ১৯৯২ সালে তিনি ‘এলটন জন এইডস ফাউন্ডেশন’ গঠন করেন। এ ছাড়া ২৪টির ওপর দাতব্য সংস্থার সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি। সংগীতে ও দাতব্যে তাঁর অসামান্য কীর্তির জন্য ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে নাইট উপাধি অর্জন করেন।