বিজ্ঞাপন

এ যাবৎ আপনার কতগুলো অ্যালবাম প্রকাশিত হলো?

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, লেজার ভিশন ও কলকাতার পি অ্যান্ড এম থেকে বেশ আগেই আমার পাঁচটি নজরুলসংগীতের একক এবং খায়রুল আনাম শাকিলের সঙ্গে একটি দ্বৈত অ্যালবাম বেরিয়েছিল। পরে গত ছয়–সাত বছরে নজরুলের বিভিন্ন আদি রেকর্ড এবং স্বরলিপি থেকে নানা ধরনের অপ্রচলিত গান নিয়ে সিরিজ আকারে নিয়মিত সিডি করছি। ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেই সিরিজের ১২টি খণ্ড বেরিয়েছে। আমার এবারের একক অ্যালবামটি হবে সেই সিরিজের ১৩তম খণ্ড।

default-image

গান নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা কী?

প্রথমে ঠিক করেছিলাম ১০টি অ্যালবাম দিয়ে সিরিজটি শেষ করব। কিন্তু কাজটি শুরু করার পর দেখলাম, নজরুলের গানের আদি রেকর্ড বা স্বরলিপির বিশাল ভান্ডার এখন নানা সূত্র থেকে বেরিয়ে আসছে। বহু বছর এগুলো লোকচক্ষুর আড়ালে ছিল। এই নতুন করে খুঁজে পাওয়া নজরুলের প্রমিত গানগুলো সবার সামনে প্রকাশ করাটা কর্তব্য বলে মনে করছি। সেই ভাবনা থেকে এবং একজন নজরুলপ্রেমী হিসেবে নজরুলের গান প্রচার ও প্রসারের দায়িত্ববোধ থেকেই সিরিজটি চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পাশাপাশি আমি ও খায়রুল আনাম শাকিল আরেকটি উদ্যোগ নিয়েছি। দুই বাংলার নবীন ও প্রতিষ্ঠিত ১১০ জন গুণী শিল্পীর গান সংকলন আকারে প্রকাশ করব।

নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে সংকলনের কথা মাথায় এল কেন?

ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বহু ভালো কণ্ঠের গুণী শিল্পী আছেন, যাঁরা যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রচারের মাধ্যম পাচ্ছেন না বলে হারিয়ে যাচ্ছেন। আমি ছায়ানটের শিক্ষক হিসেবে প্রতিবছর এ রকম বহু প্রতিভার সন্ধান পাচ্ছি। সেই সঙ্গে ঢাকার বাইরে আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েও বহু গুণী শিল্পী এবং ভালো কণ্ঠের খোঁজ পাচ্ছি। নজরুলসংগীতে নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনাময় এ রকম ৪৬ জন শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া ৬০টি গান সংগীত অনুরাগীদের সামনে তুলে ধরতে অরুণরঞ্জনীর ব্যানারে ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর ৬টি সিডি প্রকাশের প্রয়াস নিই। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলামের অপ্রচলিত গানগুলো এই প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং বেশ সাড়া পাচ্ছি। পরে আমরা বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ১১০ জন শিল্পীর কণ্ঠে আদি ও প্রমিত সুর ও বাণীতে নজরুলসংগীত প্রকাশের আরেকটি উদ্যোগ নিই। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে নজরুলসংগীতের নানা ধরনের বিকৃতি রোধ করতে এবং সেখানেও নজরুলের প্রমিত সুর ও বাণী প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমরা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠিত এবং সম্ভাবনাময় শিল্পীদের কণ্ঠে প্রমিত সুর ও বাণীতে নজরুলসংগীত ধারণ করবার পরিকল্পনা করি।

default-image

এতে কারা গান করছেন?

বাংলাদেশ থেকে ফেরদৌস আরা, ইয়াকুব আলী খান, ফাতেমাতুজজোহরা, সালাউদ্দিন আহামেদ, ইয়াসমিন মুশতারী, নাশিদ কামাল, শাহীন সামাদ, ডালিয়া নওশিন প্রমুখ। পশ্চিমবঙ্গ থেকে হৈমন্তী শুক্লা, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, জয়তী চক্রবর্তী, মনোময় ভট্টাচার্য, ইমন চক্রবর্তী প্রমুখ। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসে দুই দিনব্যাপী উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা এই ১১০টি গানের সংকলন প্রকাশ করব।

নজরুলের প্রমিত বাণী ও সুর নিয়ে নানা রকম বিতর্ক শোনা যায়। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

আমি মনে করি, নজরুলের গানের প্রমিত সুর ও বাণী প্রতিষ্ঠিত করার মূল আন্দোলনটি শুরু করেন সুধীন দাস ও তালিম হোসেন। আমার সৌভাগ্য, ছোটবেলায় শ্রদ্ধেয় সুধীন দাসের কাছেই আমার সংগীতের প্রথম হাতেখড়ি হয়। সুধীনদার কাছেই বহুবার শুনেছি, কত প্রতিকূলতার মধ্যে তাঁদের এই কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছিল। পদে পদে কীভাবে তাঁকে নিগৃহীত হতে হয়েছিল। তাঁদের সেই প্রায় অসাধ্য সাধনের ফসলই আমরা এখন ভোগ করছি এবং তা আরও সহজলভ্য করে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের হাতে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। নজরুলের প্রমিত বাণী এবং সুরে সংগীত পরিবেশন করার বিষয়টি এখন সরকারিভাবেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া আদি বাণী ও সুরের প্রামাণ্য দলিলও বর্তমান প্রযুক্তির যুগে সবার কাছেই সহজলভ্য। তাই এই ব্যাপারে প্রতিকূলতা বা বিভ্রান্তির খুব একটা সুযোগ নেই।

default-image

নতুন প্রজন্ম নিয়ে কী ভাবছেন?

নতুন প্রজন্ম নিয়ে আমি আশাবাদী। তাদের অনেকে প্রতিভাধর এবং চট করে যেকোনো বিষয় বুঝে নেয়। আর বর্তমান প্রযুক্তির যুগে খুব সহজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ও রক্ষা করা সম্ভব। আমরা চেষ্টা করছি নজরুল চর্চা কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক না করে, তা বিভিন্ন জেলা এবং দেশের বাইরেও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে। ইতিমধ্যে আমরা আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ নজরুলসংগীত সংস্থার মাধ্যমে ২৮টি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন করেছি। এই করোনাকালেও আমরা অনলাইন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলায় বিভাগীয় পর্যায়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ দিয়েছি। দেশ ও বিদেশের (ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা অস্ট্রেলিয়া) শিল্পীরা যুক্ত হচ্ছেন আমাদের এই কর্মশালাগুলোতে।

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন