কাকে বাবা ডাকবে ছোট্ট রাজকন্যা

বিজ্ঞাপন
default-image

‘বাবা তো ঘুম থেকে উঠছে না। অনেক ডাকছি, শুনছেও না। বাবা কেন এভাবে ঘুমাচ্ছে? বাবা আমার কথা কেন শুনছে না। ওরা বলছে, বাবা নাকি মারা গেছে। আমি এখন কাকে বাবা ডাকব, বলো না। প্লিজ বলো না, আমি কাকে বাবা ডাকব।’ এভাবেই বিলাপ করছিল সুরস্রষ্টা আলাউদ্দীন আলীর ছোট মেয়ে আদ্রিতা আলাউদ্দীন রাজকন্যা।

হাসপাতালে ছোট্ট রাজকন্যার কান্নায় চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। থামানো যাচ্ছিল না তাকে। দুই দিন আগেও বাবার কোলে মাথা রেখে ঘুমাত সে। বাবা আর বুকে নিয়ে ঘুম পাড়াবে না, সে–ও আর বাবাকে ডাকতে পারবে না। সেই যন্ত্রণায় হাহাকার করছে রাজকন্যা।

বাবাকে নিয়ে গতকালই ফেসবুকে লিখেছিল রাজকন্যা। ‘বাবা লাইফ সাপোর্টে আছেন। আশা রাখছি আল্লাহর কাছে, তিনি বাবাকে সুস্থ করে আমার বুকে ফিরিয়ে দেবেন। আমি ইতিবাচক।’ লাইফ সাপোর্ট থেকে ফেরেননি আলী। কোনোভাবেই সেটা মানতে পারছে না সে।

গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় আলাউদ্দীন আলীকে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। আজ সন্ধ্যায় মারা যান এই কিংবদন্তিতুল্য সুরস্রষ্টা। এ সময় হাসপাতালেই ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। স্বামীর মৃত্যুসংবাদ শুনে জ্ঞান হারান স্ত্রী ফারজানা মিমি।

আদ্রিতা আলাউদ্দীন রাজকন্যা বরেণ্য গীতিকার, সুরস্রষ্টা, সংগীত পরিচালক আলাউদ্দীন আলীর বর্তমান স্ত্রীর একমাত্র মেয়ে। আগের সংসারে আলীর রয়েছেন আরও চার সন্তান, আজমেরী আলী, শওকত আলী রানা, আফরীন আলী ও আলিফ আলাউদ্দীন। স্কুলপড়ুয়া রাজকন্যাকে নিয়ে আলাউদ্দীন আলীর ছিল অনেক স্বপ্ন। এই সন্তানকেও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন তিনি। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে এই সন্তানকে নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ছিলেন আলী। বড় সন্তানেরা যাঁর যাঁর অবস্থানে ভালো আছেন। রাজকন্যাকে এখনো পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ পথ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন