default-image

গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান সংগীতাঙ্গনের দুই পরিচিত বাদ্যযন্ত্রী হানিফ আহমেদ ও পার্থ গুহ। এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নাকি ‘হত্যা’, এই প্রশ্ন তুলেছেন সংগীতাঙ্গনের কেউ কেউ। তাই এই ‘হত্যা’র বিচার চেয়ে ব্যানার হাতে দাঁড়িয়েছেন দূরবীন ব্যান্ডের ভোকাল সৈয়দ শহীদ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকাহত তিনি। শহীদ মনে করেন, সংগীতের প্রতিটি মানুষ যদি নিজের জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেন, তাহলে এই হত্যার দ্রুত বিচার হবে। তাঁর এই প্রতিবাদে সমর্থন জানিয়েছেন সংগীত, নাটক ও চলচ্চিত্রের অনেকেই।

গতকাল শনিবার ভোরে কক্সবাজার যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের মিরসরাই এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বাদ্যযন্ত্রী হানিফ আহমেদ ও পার্থ গুহ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। মারাত্মক আহত হন তরুণ গায়িকা বিউটি খান। কক্সবাজারগামী সেই গাড়িতে আরও ছিলেন গিটারবাদক রাহাত পাপ্পু আর কি-বোর্ডিস্ট নন্দন। তাঁরা সবাই মিলে একটি মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন কনসার্ট করতে। এই দুর্ঘটনার প্রতিবাদেই ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর এলাকায় দাঁড়িয়েছেন সংগীতশিল্পী শহীদ। তিনি দুই হাত দিয়ে লাল একটি ব্যানার ধরে আছেন। তাঁর পাশে কেউ নেই। হাতে থাকা ওই ব্যানারের ওপর লেখা ‘আমরা মিউজিশিয়ান, আমার ভাই মরল কেন? আপনারা চাইলেই আমাদের ওপর গাড়ি তুলে দিতে পারেন না। মিউজিশিয়ান হানিফ ভাই ও পার্থ গুহ দাদার হত্যার বিচার চাই।’

বিজ্ঞাপন

সংগীতশিল্পী হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তিনি নিজেই প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অঙ্গনের দুজন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আমি কষ্ট পেয়েছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, মিউজিশিয়ানদের এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত। আজ অন্য কেউ মারা গেলে তাঁর জন্য প্রতিবাদে মানুষ রাজপথে নামত। কিন্তু মিউজিশিয়ানদের কেউ সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমরাও হয়তো একত্র হতে পারছি না। সে কারণে আমার পক্ষ থেকে একাই প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছি। আমার চাওয়া, প্রত্যেক মিউজিশিয়ান যেন তাঁদের জায়গা থেকে প্রতিবাদে মাঠে নামেন। মিউজিশিয়ানদের এক পরিবারের মতো হতে হবে। তাহলেই আমরা বিচার পাব।’

default-image


শুধু শহীদ নন, ফেসবুকে সরব সংগীতাঙ্গনের অনেকেই। আজমির বাবু প্রশ্ন তুলেছেন, হানিফ ও পার্থর মৃত্যু কি নিছক একটি দুর্ঘটনা, নাকি হত্যা? তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও তিনজন—বিউটি, পাপ্পু ও নন্দন। একটা প্রশ্ন কোনোভাবে এড়াতে পারছি না। সেটা হলো, চার লেনের ঢাকা চিটাগাং হাইওয়ে, মাঝখানে ডিভাইডার, দুই দিকে ওয়ানওয়ে রোড। তাহলে উল্টো দিকের লরিটা ডিভাইডার পার হয়ে এপারে এসে মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিল কী করে?’ এই দুর্ঘটনার দায় কার? তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনায় গতকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন সংগীতাঙ্গনের অনেকেই।

সারা দেশে সাড়ে তিন হাজারের মতো মিউজিশিয়ান আছে। এই মানুষগুলো দেশের কোটি কোটি মানুষকে গান শোনাচ্ছেন। তাঁরা সবাই যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে যান, তাহলে আরও অনেক মানুষ তাঁদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন। এই হত্যার প্রতিবাদ করতে এগিয়ে আসবেন—এমনটি মনে করেন শহীদ। তিনি তাঁর প্রতিবাদের ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করলে একাধিক মানুষ সেটি শেয়ার করেন। অনেক সংগীতশিল্পী তাঁকে ফোন দিয়ে এই প্রতিবাদের সমর্থন করেছেন। এর মধ্যে আছেন বাংলাদেশ মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন ‘বামবা’র একাধিক নেতা ও সদস্য এবং সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর, অভিনেত্রী মনিরা মিঠু, শাহনুর, কেয়া, কায়েস প্রমুখ।

default-image

শহীদ বলেন, ‘অনেকে ফোন ও স্ট্যাটাস দিয়ে আমার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। কীভাবে কী করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। আমার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ শুরু করেছি। আমি যেকোনোভাবে সহকর্মীর পাশে থাকতে চাই।’
এই ঘটনায় একাধিক সংগীতশিল্পী ফেসবুকে সোচ্চার হয়েছেন। সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর ফেসবুকে লিখেছেন, ‘পরিবারের ভরণপোষণের লক্ষ্যে ছুটে চলা আমাদের মিউজিশিয়ানদের জীবন কাটে সড়কের ওপর। তাঁদের মৃত্যুতে বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যাচ্ছে। চিৎকার করে কাঁদতে পারলে হয়তো শান্তি লাগত একটু।’
সংগীতশিল্পী মুহিন খান লিখেছেন, ‘বেপরোয়া ড্রাইভারের কারণে আজ দুটি পরিবার হারাল তাজা দুটি প্রাণ। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’

default-image
বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন