default-image

বিশ্বকাপের উন্মাদনায় দর্শকদের গানে আর সুরে মাতিয়ে রাখতে তৈরি সংগীতাঙ্গনও। এবারের বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন গান তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা জোগাতে পিছিয়ে নেই ক্রিকেট বোর্ডও। এর মধ্যেই ক্রিকেট বোর্ডের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ‘এসপার নয় ওসপার’ শিরোনামের একটি গান। শংকর সাঁওজালের লেখা এ গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন বাপ্পা মজুমদার। আর গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন এলিটা, কোনাল, সানবীম, মাসুম, শার্টন এবং বাপ্পা মজুমদার নিজেই। সম্প্রতি গানটির ভিডিও ধারণও শেষ হয়েছে।
ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে দেশবাসীর আগ্রহ অনেক। বাংলাদেশের মানুষের আবেগ অনুভূতি অন্য রকম। সবদিক বিবেচনা করে ক্রীড়ামোদী সবার মাঝে নতুন মাত্রা যোগ করতে গানটি তৈরি করা হয়েছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ১৩ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে শিল্পীরা গানটির পরিবেশনায় অংশ নেবেন।’
‘এসপার নয় ওসপার’ গানটি নিয়ে বাপ্পা মজুমদার বলেন, ‘ক্রিকেট নিয়ে গান হলেও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি দেশাত্মবোধের ব্যাপারগুলো চলে আসে। গানের কথার মধ্যে শুধু খেলার ব্যাপার নয়, দেশপ্রেমের নানা দিক ফুটে ওঠে। তাই এ ধরনের গানে ভালো লাগার ব্যাপারটি থাকে বেশি। ক্রিকেট অনুরাগী এবং ক্রিকেটারদের উদ্দীপ্ত করতে এ ধরনের কথার গান সহযোগিতা করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে উপলক্ষ করে মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীনফোনও একটি গান তৈরি করেছে। গ্রে অ্যাডভার্টাইজিংয়ের সহায়তায় ‘চলো বাংলাদেশ’ শিরোনামের এ গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন হাবিব ওয়াহিদ। আল আমীন ও মেহেদী আনসারীর লেখা এ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন এমিল, জোহাদ এবং হাবিব নিজে।
গ্রে অ্যাডভার্টাইজিংয়ের পক্ষ থেকে গাউসুল আলম শাওন বলেন, ‘আমরা এমন একটা গান করতে চেয়েছি, যে গানে সবাই একাত্ম হতে পারবে। বাংলাদেশ দলের ভালো সময়ে আমরা থাকব, খারাপ খেললেও আমরা তাদের সঙ্গেই থাকব। এমন একটা ভাবনা নিয়েই গানটি তৈরি।’

default-image

চলো বাংলাদেশ নিয়ে হাবিবের মন্তব্য, ‘গানটি গতানুগতিক নয়। আমরা যে কোনো বিশ্বকাপ খেলায় জাগরণ কিংবা এগিয়ে যাওয়ার থিম নিয়ে গান করি। কিন্তু এই গানটি একটু মজার, একটু ফুর্তির ঢঙে করেছি।’
ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরে বীরত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে একটি বিশেষ গান তৈরি করেছে মাছরাঙা টেলিভিশন। কবির বকুলের লেখা গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনায় শিহাব রিপন। গানটিতে কণ্ঠ তরুণ প্রজন্মের সংগীতশিল্পীরা। এঁদের মধ্যে আছেন নির্ঝর, পুলক, নিশীতা, শামীম, নন্দিতা, ইউসুফ, লুইপা ও তাসিফ।
গানটির গীতিকার কবির বকুল বললেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসরে লড়তে যাওয়ার এই মুহূর্তে দলটির দিকে তাকিয়ে আছে পুরো বাংলাদেশ। ক্রিকেটপ্রেমীদের কথা মাথায় রেখে গানটি তৈরি করা হয়েছে। গানটির কথা ও সুরে উৎসাহ ও উদ্দীপনার ব্যাপারটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’
বিশ্বকাপের উম্মাদনা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে গায়ক ও সংগীত পরিচালক আরফিন রুমি তৈরি করেছেন বাংলাদেশ শিরোনামের একটি গান। জনি হকের লেখা এই গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আরফিন রুমি ও কর্নিয়া। 

একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ‘স্বপ্ন দেখার আকাশ’ শিরোনামের গান গেয়েছেন এস আই টুটুল, এর কথা লিখেছেন জাহিদ আকবর। সুর করেছেন এস আই টুটুল ও জে. কে।
মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলালিংকও তৈরি করেছে একটি গান। ‘লড়বে বাংলাদেশ, খেলবে বাঘেরা’ শিরোনামের গান তৈরি করেছে ক্রিপটিক ফেইট। কথাও লিখেছেন এই ব্যান্ডের সদস্যরাই।
কয়েক মাসের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে এসেছেন ডি-রকস্টারখ্যাত গায়ক শুভ। বিশ্বকাপের এই আয়োজনে পিছিয়ে তিনিও। ‘ওরা আসছে’ শিরোনামের গানটিতে চন্দনা মজুমদার আর শফি মণ্ডল কণ্ঠ দিয়েছেন। যৌথভাবে গানটির কথা লিখেছেন মেজবাউর রহমান সুমন ও অনম বিশ্বাস। সংগীতায়োজনে আমজাদ হোসেন।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে বেলাল খানের সুরে ও জেকের সংগীত পরিচালনায় তৈরি হয়েছে ‘জাগো বাংলাদেশ’ শিরোনামের একটি গান। রবিউল ইসলাম জীবনের লেখা এই গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এস আই টুটুল, বিউটি, বেলাল খান, অনিমা রায়, কাজী শুভ, রাফাত, শহীদ কবির পলাশ, রমা, সাবা, জেকে ও ইরা।
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে নিয়েও তৈরি হয়েছে একটি গান। ‘সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের প্রাণ’ গানটি গেয়েছেন অয়ন চাকলাদার ও স্নেহাশীষ ঘোষ। সুর ও সংগীত পরিচালনায় অয়ন চাকলাদার।

default-image

‘লাল-সবুজ’ শিরোনামের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দিনাত জাহান মুন্নি, আইয়ুব শাহরিয়ার, সাব্বির, রন্টি দাস, লোপা হোসাইন, অরিন, মাসুম, আরিফ ও আহমেদ হুমায়ুন। এতে মডেল হয়েছেন ইমন, আনিসুর রহমান মিলন, ববি, কাজী মারুফ, আইরিন, সুব্রত, অ্যানি, অমৃতা খান ও দিঘি। লাল-সবুজ শিরোনমের গানটির কথা লিখেছেন ও ভিডিও নির্মাণ করেছেন জিয়াউদ্দিন আলম। সুর ও সংগীতায়োজনে আহমেদ হুমায়ুন।
এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং গায়ক-গায়িকা নিজস্ব উদ্যোগে প্রিয় দলের শুভকামনায় তৈরি করেছেন কিছু গান। তাদের সবার বিশ্বাস, গানগুলো কোনো না কোনোভাবে প্রিয় দলকে কিছুটা হলেও অনুপ্রাণিত করবে আর দর্শকদের আরও বেশি একাত্ম করবে খেলার সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন