বিজ্ঞাপন

জন্মদিনে তাঁকে আবার নতুন করে জানি আজ। সংগীতজগতে বব ডিলানের প্রবেশ মাত্র ১০ বছর বয়সে। আত্মজীবনীতে বব ডিলান লিখেছেন, তাঁর দাদা-দাদি জিগম্যান ও আনা জিমারম্যান ১৯০৫ সালে সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের কারণে বর্তমান ইউক্রেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। আর নানা-নানি বেন ও ফ্লোরেন্স স্টোন লিথুয়ানিয়া থেকে ১৯০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান।

default-image
জর্জ হ্যারিসন ও রবিশঙ্করের আহ্বানে কনসার্ট ফর বাংলাদেশ এ সাড়া দিয়েছিলেন বব ডিলান। কনসার্টে ডিলান একে একে গেয়েছিলেন পাঁচটি গান ‘আ হার্ড রেইনস আ-গনা ফল’, ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’, ‘ইট টেকস আ লট টু লাফ’, ‘লাভ মাইনাস জিরো’ এবং ‘জাস্ট লাইক আ ‘ওম্যান’। ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’–এর গুঞ্জন প্রতিবাদী করে তুলেছিল সারা পৃথিবীর মুক্তিকামী মানুষকে।

ডিলান কৈশোর থেকেই কবিতা লেখা, পিয়ানো ও গিটার বাজানোয় সিদ্ধহস্ত। এলভিস প্রিসলি, জেরি লি লুইস এবং লিটল রিচার্ডরা ছিলেন তাঁর প্রেরণা। শোনা যায়, হাইস্কুলে পড়ার সময় তো বব ডিলানের জীবনের লক্ষ্যই ছিল লিটল রিচার্ডের দলে যোগ দেওয়া। তরুণ ডিলান ১৯৫৯ সালে ভর্তি হন মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ সময় তাঁকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে লোকজ এবং রকসংগীতের নামজাদা শিল্পী হ্যাঙ্ক উইলিয়ামস, রবার্ট জনসন ও উডি গাথরি। ক্লাসে কম, ক্যাম্পাসের কফি হাউসেই বেশি দেখা যেত তাঁকে। ঠিক এ সময়ই তিনি ‘বব ডিলান’ নাম নেন। অনেকের ধারণা, কবি ডিলান টমাসের নাম থেকে তিনি নিজের নতুন নামটা পছন্দ করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষ না করেই ১৯৬০ সালে বব ডিলান সংগীতের ক্ষুধা নিয়ে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। সেখানকার কলাম্বিয়া রেকর্ডস প্রকাশ করে তাঁর অ্যালবাম ‘দ্য ফ্রিহুইলিং বব ডিলান’। এই অ্যালবাম বেশ সাড়া ফেলে। এ সময় বব ডিলানের গানে গানে উঠে আসতে থাকে মার্কিন ইতিহাস। উঠে আসে যুদ্ধ, বর্ণবাদ এবং নানা সামাজিক অসংগতির কথাও। বব ডিলান খ্যাতি পেয়ে যান নিজ প্রজন্মের মুখপাত্র হিসেবে। হাতে গিটার আর গলায় ঝোলানো হারমোনিকা যেন ছিল ডিলানের ট্রেডমার্ক।

default-image

সে সময় যাঁদের গান আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনে প্রেরণা জুগিয়েছে, তাঁদের মধ্যে বব ডিলান একজন। ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তৃতার সময় ডিলান ছিলেন পিট সিগার, জোয়ান বায়েজদের সঙ্গে মিছিলের সামনের সারিতে। গানে গানে দাসপ্রথার গল্প বলে বরাবরই নাগরিক অধিকার রক্ষায় তৎপর ছিলেন। প্রবল সমাজসচেতন ডিলান আমেরিকার ভিয়েতনাম যুদ্ধের সমালোচনা করে গান বাঁধেন। তাঁর সাড়া জাগানো গান ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’-এর মধ্য দিয়ে প্রতিবাদী সংগীতের প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি।

আমেরিকা থেকে ভিয়েতনাম, পৃথিবীর যে প্রান্তে অন্যায় দেখেছেন, বারবার ফুঁসে উঠেছেন বব। তিনি বলেছেন, ‘আমার বন্দুক নেই, কিন্তু কলম আছে।’
default-image

গানে গানে অনেক আগেই আমাদের দেশে এসেছিলেন ডিলান। তবে বাংলাদেশের অনেক মানুষই তাঁকে চেনেন ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের জন্য অবদানের কারণে। যুদ্ধের সময় ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের আয়োজিত ঐতিহাসিক কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ গান করেছিলেন তিনি। ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এর অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন তিনি। গেয়েছিলেন ছয়টি গান, ‘মি. ট্যাম্বুরিনম্যান’ থেকে শুরু করে তাঁর লেখা ও সুরারোপিত ৫০ লাইনের বিখ্যাত গান ‘আ হার্ড রেইন ইজ গোননা ফল’। সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন।

এ দেশে বা দুই বাংলায় পরোক্ষভাবেও এসেছিলেন বব ডিলান। কবীর সুমনের কণ্ঠে ডিলানের অনূদিত ‘কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়’ গানটি দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। এটি সেই ‘ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’ থেকে নেওয়া। বব ডিলানের ‘মি. ট্যাম্বুরিন ম্যান’ গানটিরও বাংলা অনুবাদ করে গেয়েছিলেন কবীর সুমন, ‘ও গানওয়ালা’ নামে।

default-image

কেবল সুমন নন, অঞ্জন দত্তের গানেও উঠে এসেছে তাঁর কথা। অঞ্জনের জনপ্রিয় গান ‘পুরোনো গিটার’-এর সেই লাইন, ‘জন লেননের সোচ্চার ভালোবাসা, বব ডিলানের অভিমান।’ কবীর সুমন ও অঞ্জন দত্ত বিভিন্ন সময়ে ডিলানের ঋণ স্বীকার করেছেন।
সংগীতের বিভিন্ন ধারায় বব ডিলানের অনবদ্য সব রচনার মধ্য দিয়ে বব ডিলান হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তিসম। লোকসংগীত থেকে ব্লুজ, রক, পপ, জ্যাজ এমনকি একালে র‌্যাপ সংগীতাঙ্গনেও রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। আবার যখন প্রতিবাদের দরকার পড়েছে, তিনি কলম ধরেছেন হাতে, গিটার কোলে মাইক্রোফোনের সামনে দৃঢ়কণ্ঠে গেয়েছেন, ‘হাউ মেনি রোডস মাস্ট আ ম্যান ওয়াক ডাউন...’। কবীর সুমনের ‘বিক্ষোভে বিপ্লবে তোমাকে চাই’ গানের মতোই তাঁকে পাওয়া।

default-image
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন