default-image

‘আরে ও প্রাণের রাজা’, ‘হলুদ বাটো মেন্দি বাটো’, ‘এ আকাশকে সাক্ষী রেখে, এ বাতাসকে সাক্ষী রেখে’, ‘ও দুটি নয়নে স্বপনে চয়নে নিজেরে যে ভুলে যায় তুলনা খুঁজে না পায়’, ‘কে তুমি এলে গো আমার এ জীবনে’—এমন অসংখ্য কালজয়ী গান যার সুরের ছোঁয়ায় প্রাণ পেয়েছে, তাঁর নাম আলী হোসেন। আজ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। প্রথম আলোকে বরেণ্য এই সুরকার ও সংগীত পরিচালকের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর শ্যালক সৈয়দ তসলিম আলী।
তসলিম আলী জানান, আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁর একমাত্র ছেলে প্রকৌশলী আসিফ হোসেনের ইচ্ছায় সপ্তাহখানেক আগে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়। যাত্রাপথে সঙ্গে ছিলেন আলী হোসেনের স্ত্রী আসমা হোসেন। যাওয়ার পথে বিমানের ভেতরই তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর বিমানবন্দর থেকে তাঁকে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বোস্টনের সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান।

বিজ্ঞাপন
default-image

তসলিম আলী জানান, আলী হোসেনের মরদেহ ঢাকায় আনা হবে না। একমাত্র ছেলে আসিফ যেহেতু পরিবার নিয়ে বোস্টনে থাকেন, তাই তাঁর বাবাকে সেখানেই দাফনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বোস্টন সময় বুধবার বাদ জোহর তাঁকে দাফন করা হবে।
সংগীত পরিচালক আলী হোসেনের সুর করা কিছু গান সব সময় শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। বিশেষ করে তাঁর সুর করা ‘হলুদ বাটো মেন্দি বাটো’ গানটি যেন গ্রামীণ বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রাণ। উপমহাদেশের গজলসম্রাট মেহেদি হাসানের গাওয়া ‘ঢাকো যত না নয়নও দুহাতে বাদলও মেঘ ঘুমাতে দেবে না’ গানের সুরও আলী হোসেন করেছিলেন। দেশীয় চলচ্চিত্রের অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গানের সুরস্রষ্টা তিনি। ১৯৬৬ সালে তাঁর সুর ও সংগীতে নির্মিত চলচ্চিত্র মোস্তাফিজ পরিচালিত ‘ডাক বাবু’ মুক্তি পায়। এতে তিনি সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহকে দিয়ে ‘হলুদ বাটো মেন্দি বাটো’ গানটি গাওয়ান। কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘ব্যথার দান’ চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন আলী হোসেন।

default-image

কিছু মানুষ আছেন, যাঁরা শুধু কাজ করতেই ভালোবাসেন। সেই কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কিছু পেলেন কি না পেলেন, তা নিয়ে কখনোই ভাবেন না তাঁরা। যে কারণে এই স্বভাবের ব্যক্তিরা নীরবে–নিভৃতেই জীবন কাটিয়ে দেন। এই ধরনের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এ কারণে জানার সুযোগ হয় কম। আলী হোসেন ঠিক তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি দেশের চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। কিন্তু কখনোই নিজের প্রচারণা নিয়ে ভাবেননি।
তসলিম আলী জানান, আলী হোসেনের বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। কিন্তু তাঁর জন্ম হয়েছে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ নানার বাড়ি কুমিল্লায়। বাবার চাকরির সুবাদে পাকিস্তানের করাচিতে তাঁকে পড়াশোনা করতে হয়। সেখানেই একসময় নজরুল একাডেমিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে তাঁর চাকরি হয়। বাবা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলীর গানের প্রতি দুর্বলতা ছিল বিধায় তাঁর কাছেই গানের হাতেখড়ি। তবে নজরুল একাডেমিতে চাকরি করার সুবাদে একই প্রতিষ্ঠানের উচ্চাঙ্গসংগীতের শিক্ষক পিয়ারে খানের কাছেও তিনি গান শিখেছেন। এভাবেই ধীরে ধীরে গানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা। ১৯৬৪ সালে আলী হোসেন দেশে আসেন। দেশে আসার পর গান নিয়েই সময় কেটে যায় তাঁর।

বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন