default-image

গতকালের সেই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তাশরীফ বলেন, ‘একটি ইনসিডেন্টের কথা আমি শেয়ার করি। এটা আমার মনের ভেতর থেকে যাচ্ছে না। সারা দিন কাজ করার পর, গতকাল আড়াইটার দিকে ঘটনাটা। আমি জায়গাটার নাম বলব না। সিলেটের মধ্যেই। আমার গলাব্যথা ছিল। সবাই লাল চা খাচ্ছিলাম। গলা বসে গিয়েছিল। সেদিন প্রথম আলোর ভাই যখন ফোন দিয়েছেন, তখন কথা বের হচ্ছিল না। আমি অফেনসিভ কিছু বলতে চাচ্ছি না। তো সেখানে পুলিশের একটি গাড়ি এল। আমরা বসে আছি। গাড়ির ড্রাইভারের পেছনের জায়গাটাকে কী বলে জানি না। সেখানে একজন অফিসার বসে ছিলেন। তিনি এসে ধমকের সুরে বললেন, “আপনারা এখানে কী করছেন?” আমি বললাম, “স্যার আমরা ঢাকা থেকে এখানে ত্রাণ দিতে এসেছি। আপনাদের সিলেটের জন্যই কাজ করছি। আমি একটি চা খেতে এসেছি। খেয়েই চলে যাব।” তিনি সরাসরি আমাকে ধমক দিয়েছেন। বললেন, “চলে যান এখান থেকে।” তখন আমার খুব কষ্ট লাগছে, আমাদের কেন ধমক দেওয়া হবে। আমি তাশরীফ খান বাদ দিলাম, সব বাদ দিলাম। আমি একজন নাগরিক, আমাকে কেন ধমক দেওয়া হবে? আমি বলেছি, “স্যার, একজন নাগরিককে এভাবে ধমক দেবেন না। আমরা সিলেটের জন্য কাজ করছি। আমরা এখানে চুরিচামারি করতে আসি নাই। এটা করবেন না।” আমি তাঁকে অনুরোধ করেছি, “স্যার, আমি চায়ের কাপটা শেষ করে চলে যাব, দুইটা মিনিট সময় দেন।” তখন আমাকে আঙুল তুলে বলা হয়েছে, “এহন ভালো কইরা বলতেছি, এরপরে খারাপ করে বলব। এক্ষুনি চলে যান।”’

default-image

মানুষকে সহায়তা করতে এসে এমন ঘটনায় মর্মাহত হয়েছেন তাশরীফ ও তাঁর টিম। তিনি মনে করেন, ভালো একটি কাজ করতে এসে এমন দুর্ব্যবহার কাজের মনমানসিকতা নষ্ট করে দেয়। প্রশাসন তাদের সহায়তা করছে। কারণ, মানুষের জন্য তাঁরাও রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের খাওয়ার ঠিক নেই। ঘুমানোর ঠিক নেই। সেই ঘটনা প্রসঙ্গে তাশরীফ আরও বলেন, ‘আমি তখন চায়ের কাপ রেখে চলে যাই। কোনো কথাও বলি নাই। কাউকে ব্যবহার শেখাতেও আসিনি। আমি এখানে ফাইট করতেও আসিনি। আমি কারও কাছে বিচারও দিচ্ছি না। আমি শেয়ার করছি, স্যার, আপনি যদি এই লাইভ দেখে থাকেন, আমার হাম্বল রিকোয়েস্ট। আমার টিমের পক্ষ থেকে বলছি, দয়া করে এই সময়টায়, পারলে আমাদের একটু পাশে দাঁড়ান। পারলে আমাদের একটু সাহস দিয়েন। আমাদের আপনাদের সাহসটা খুব দরকার। আপনারা সাহস দিলে আমাদের কাঁধটা আরও ভারী হয়ে যায়। আর আমাদের সহায়তা দেওয়ার মতো সেই যোগ্যতাটা হয়েছে।’ সেখানকার কাউকে তিনি চেনেন না। তবে সিসি ক্যামেরা ছিল বলে লাইভে জানান তাশরীফ। এই সময় তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যদি ফান্ডিং আসে, আর প্রশাসনের ফুল সাপোর্ট পাই, প্লেসের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, আমাদের যদি পর্যাপ্ত সিকিউরিটি দেওয়া হয়, ট্রান্সপোর্ট দেওয়া হয়, তাহলে সিলেটের যতগুলো আশ্রয়কেন্দ্র আছে, সিলেট সুনামগঞ্জ, সারা দেশে বন্যা হচ্ছে, আমরা দায়িত্ব নিয়ে পুরো দেশের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব। এটা আমি স্ট্রংলি বিশ্বাস করি, পারব। আমাদের দায়িত্ব দিয়ে দেখতে পারেন।’

default-image

এ সময় তাশরীফ লাইভে আরও জানান, দেশের মানুষের কাছ থেকে সব মিলিয়ে কয় দিনে দেড় কোটি টাকার মতো সহায়তা পেয়েছেন। এর আগে তিন হাজারের বেশি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার তারা আরও ১২ হাজার প্রত্যন্ত অঞ্চলের পরিবারের মানুষেরা পাশে দাঁড়াবেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি পরিবারের জন্য ১৫ থেকে ২০ দিনের খাবার দেব। এর মধ্যে শিশুদের জন্য আলাদা খাবার থাকবে। চাল, ডাল, গুঁড়া দুধসহ ২০ ধরনের আইটেম থাকবে। আর আমরা নতুন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বেশ কিছু আশ্রয়কেন্দ্রে সাতজনের টিম থাকবে। তারা সুষম খাবার রান্না করে খাওয়াবে। এবং মেডিকেল টিমও থাকবে।’ তাশরীফ প্রথম আলোর সাংবাদিক, প্রশাসনসহ সব গণমাধ্যমকর্মীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আমাদের কর্মপদ্ধতি দেখতে পারেন। আমরা সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার মাধ্যমে কাজ করি। প্লিজ, আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকুন ও দেখে যান।’ এ সময় তিনি জানান, একবার তাঁদের ডাকাত দলের লোকও ধাওয়া দিয়েছিল। সে সময় সেনাবাহিনীর তাঁদের পাশে দাঁড়ায়।

এবার তাঁরা এগোচ্ছেন ১২ হাজার পরিবারকে সহায়তা করার জন্য। এখানে যে কেউ চাইলে খাবার দিয়ে সহায়তা করতে পারেন। এটা ত্রাণের মধ্যে ধরা হবে। খল অভিনেতা ডিপজল তাঁদের জন্য ট্রাকে খাবার পাঠিয়েছেন, আজ থেকে তাঁদের দলে যোগ দিয়েছেন আরও অনেকে। এভাবে সহায়তা পেলে তাঁদের পরিকল্পনায় আরও বেশি পরিবার যুক্ত হবে। তাশরীফ সবশেষে বলেন, ‘সবাইকে হাজার হাজার সালাম। এখন সুযোগ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আপনারা চাইলে আমাদের যেকোনো রকমের খাবারও পাঠাতে পারেন। আমরা সফল হয়েই সিলেট থেকে ফিরব। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন