বর্ষবরণের নতুন সব গান

মহামারির পর আবারও উৎসবে শামিল হতে বেশ কিছু নতুন গান আনছেন শিল্পীরা
কোলাজ

ঢাক বাজিয়ে উৎসবের ডাক দিয়েছেন শিল্পী সন্দীপন। বাংলা নতুন বছরকে বরণ করতে তিনি গেয়েছেন নতুন গান ‘ও ঢাকি বাজা রে ঢাক, বছর ঘুরে এল রে পহেলা বৈশাখ’। দুই বছর পর আবার মহাসমারোহে বাংলা নতুন বছরে একত্রে মেতে উঠছে বাঙালি। মহামারির পর আবারও উৎসবে শামিল হতে বেশ কিছু নতুন গান আনছেন শিল্পীরা।

বাংলা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে দীর্ঘকাল বাঙালির সম্বল ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘এসো হে বৈশাখ’। এমনকি আজও নববর্ষের প্রথম প্রহরে সম্মেলক স্বরে বাংলার শিল্পীরা এ গানই গেয়ে ওঠেন। নব্বইয়ের দশকে নববর্ষে আয়োজিত বৈশাখী মেলাকেন্দ্রিক উৎসব নিয়ে ফিডব্যাকের ‘মেলায় যাই রে’ পেয়েছিল বাঁধভাঙা জনপ্রিয়তা। এরপর বৈশাখকেন্দ্রিক নতুন কোনো গান বেশি দিন আবেদন রাখতে পারেনি। তবু প্রতিবছরই শিল্পীরা নতুন সব গান আনছেন শ্রোতাদের সামনে। সেসবের কোনোটি মৌলিক, কোনোটি পুনর্নির্মাণ।

‘মঙ্গলবারতা’ নিয়ে আসছেন বন্যা ও সজীবরা

এ বছর বৈশাখ উপলক্ষে আসছে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে ‘মঙ্গলবারতা’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূজা পর্যায়ের ‘সকাতরে ঐ কাঁদিছে সকলে’ এবং ইংরেজ কবি জন নিউটনের প্রচলিত ভক্তিগীতি ‘অ্যামেজিং গ্রেস’কে এক করে তৈরি করা হয়েছে এই ‘মঙ্গলবারতা’। সংগীতায়োজন করেছেন সৈকত বিশ্বাস, সংগীতচিত্র নির্মাণ করেছেন শুভব্রত সরকার। ভিডিওসহ এটি অবমুক্ত করা হবে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন থেকে। বন্যার সঙ্গে এ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন স্বপ্নীল সজীবসহ একদল শিল্পী। বটকৃষ্ণ দের কথায় ‘তোমার প্রেমের জন্য’ শিরোনামে আসছে শিল্পী সমরজিৎ রায়ের নতুন গান, যেটি তিনি নিজেই সুর করেছেন। লিটন অধিকারী রিন্টুর কথা ও কুমার বিশ্বজিতের সুরে সংগীতচিত্রসহ আসছে কিশোরের কণ্ঠে ‘কান্দে রে ভাই কান্দে’ শিরোনামে একটি গান। বৈশাখেই সংগীতচিত্রসহ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে কনার নতুন গান ‘মন ভালো’। এটি লিখেছেন শাহান কবন্ধ, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন বাপ্পা মজুমদার। এ ছাড়া ভিডিওসহ আসছে লোপা ও বেলাল খানের নতুন একটি গান।

সমরজিৎ ও সন্দিপন

বৈশাখ উপলক্ষে প্রকাশ করা হলেও বেশির ভাগ গানই আসছে কেবল উৎসবের অনুষঙ্গ হিসেবে। এগুলো কি বৈশাখী উৎসবের গান হিসেবে আবেদন রাখবে? নিজের গান প্রসঙ্গে শিল্পী সন্দীপন বলেন, ‘দুই বছর মানুষ বর্ষবরণে উৎসব করতে পারেনি। মহামারির কারণে মানুষ ছিল হতাশ, বেদনার্ত। আমাদের ইচ্ছা ছিল মানুষকে জাগাবে, কিঞ্চিৎ আনন্দ দেবে, এ রকম একটা গান করা। গীতিকার মইনুল হক, সুরকার বিনোদ রায় মিলে কাজটা করতে গিয়ে আমাদেরই ভালো লেগে গেছে। আশা করি, শ্রোতাদেরও ভালো লাগবে।’ বাংলা নববর্ষে আগের তুলনায় গান কি কম আসছে? জানতে চাওয়া হয় সংগীত প্রযোজক ধ্রুব গুহর কাছে। তিনি বলেন, ‘তুলনামূলক কম আসছে। মহামারি কেবল শেষের পথে। ফলে এই চিত্রও ধীরে ধীরে বদলাবে। সংগীত প্রযোজক হিসেবে আমাদের মৌলিক জায়গা গান, সে কারণে আমরাও অল্পসংখ্যক কাজ করার চেষ্টা করি। যদিও গান থেকে বিনিয়োগ তুলে আনা কঠিন। কিন্তু মান ঠিক রেখে সবাই মিলে এগিয়ে আসতে হবে, থেমে থাকা চলবে না।’

কিশোর দাশের গানের পোস্টার

বৈশাখ উপলক্ষে প্রস্তুত বেশির ভাগ গানই আসছে সংগীতচিত্রসহ। সংগীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পীদের ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজে দেখা যাবে গানগুলো। বাংলা নতুন বছরে বাংলা গানের ভান্ডারে নতুন কিছু গান যুক্ত হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে আশার কথা।