মিজান কীভাবে এই উদ্যোগে যুক্ত হলেন, সেই গল্প বলতে গিয়ে তিনি জানান, ড্রামার ও সংগীতশিল্পী আমজাদ সুমন একদিন তাঁকে বললেন, একটা গানের কোলাবোরেশন করতে হবে। তিনি স্টুডিওতে গিয়ে মমতাজকে দেখে চমকে যান। আনন্দিত হন। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে এই দ্বৈত গানে তাল মিলিয়ে কাজ করলেন। মিজান আরও জানান, ‘বাবা মওলানা’ গানটি তিনি এই প্রথম শুনেছেন। স্টুডিওতেই সবার কাছ থেকে শিখে নিয়ে তৎক্ষণাৎ এত অসাধারণ পরিবেশনা কেমন করে সম্ভব হলো?
এমন প্রশ্নের জবাবে মিজান বলেন, স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক, তাঁর প্রতি আবেগ ও ভক্তির জায়গা থেকেই এটা সম্ভব হয়েছে।

মমতাজ অনুষ্ঠানে জানান, মিজান নিজ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সুরের সেই কঠিন কারুকাজটি করেছিলেন ইম্প্রোভাইজেশনের মতো। পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর মধ্যেও সেই আধ্যাত্মিক আবেগ সঞ্চারিত হয়েছিল এবং ‘প্রার্থনা’ গানটি আসলে প্রার্থনার মতো করেই গাওয়া হয়েছে।

স্মৃতি রোমন্থন করে মমতাজ বলেন, এমন কাঠফাটা রোদের দাহদিনে গ্রামীণ নারীরা উঠানে কলাগাছ পুঁতে কলসে করে পানি ঢেলে সেই কর্দমাক্ত মাটিতে অনেকটা হাত–পা ছুড়ে আকুতি মিনতি করেই ‘আল্লাহ মেঘ দে’ গানটি গাইতেন। একপর্যায়ে কারও মধ্যে কথিত আসর বা ভাবের সঞ্চার হতো এবং সে হয়তো বলে দিত যে অমুক দিন বৃষ্টি হবে আর কখনো কখনো তা মিলেও যেত।


এমন সব আলাপের মধ্যেই মিজান বলেন, আসলে মমতাজ বা তিনি, তাঁরা ঠিক পরিবেশনার উদ্দেশ্যে সচেতনভাবে গান করেন না। অনেকটা গানের ভাবে মজে, গানের কথা, সুর উপলব্ধি ও অনুভব করেই তাঁরা গান গেয়ে যান। আর এই ভাবের জায়গা থেকেই ‘প্রার্থনা’ গানটির আবেদন সবার কাছে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে গেছে বলে তিনি মনে করেন।

default-image

গানটি মুক্তি পাওয়ার পর কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের উত্তরে মিজান জানান, এখন যেখানেই যাচ্ছেন, সেখানেই কোক স্টুডিওতে তাঁর গাওয়া গানটি নিয়ে সবাই কথা বলছেন তাঁর সঙ্গে। এমনকি বিদেশিরাও সাবটাইটেলের সুবাদে বুঝতে পারছেন গানের মূলভাব ও কথা। বিশ্বব্যাপী গানের মিউজিক কম্পোজিশন, গায়নশৈলী, বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার, কণ্ঠের টোন ইত্যাদি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।
কবির বকুল আরেকটু যোগ করে বলেন, ‘মিজানকে এই গানের মাধ্যমে আমরা একেবারেই নতুন রূপে পেলাম।’

মিজান আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মমতাজের সঙ্গে গান গাইতে পেরে তিনি যেমন আপ্লুত, তেমনি অর্ণবের মতো অসাধারণ মেধাবী মিউজিশিয়ানের সঙ্গে কাজ করে তিনি ধন্য। মেধাবী শিল্পীদের নতুন কিছু করার একটি প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে, তাই তিনি সবার পক্ষ থেকে কোক স্টুডিওকে ধন্যবাদ জানান। তিনি মনে করেন, চৈত্রের দাবদাহের এই দিনে খুবই সময়োপযোগী হয়েছে এই গানের সংযোজন।

default-image

বাংলাদেশকে সংগীতের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করার জন্য অনুষ্ঠানের সবাই কোক স্টুডিওকে ধন্যবাদ জানান। মমতাজ বলেন, কোক স্টুডিওর বিশেষত্বই হলো, তারা একেবারে শেকড়ের সন্ধান করে গান তুলে নিয়ে আসে। অত্যাধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী সব প্রায় বিলুপ্ত বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করে সৃষ্টি করে গানের জাদু ও সুরের মায়া।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন