গানের দল, বিটিএস
গানের দল, বিটিএস ইনস্টাগ্রাম

কে–পপ রাজ্যের মেগাস্টার বিটিএসের এক টুইট এই মুহূর্তে আলোচনায় বিশ্বজুড়ে। তাঁরাও ‘এশীয়’ হিসেবে বৈষম্য আর বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছিলেন। সেই দুঃখ–কষ্টের কথাই বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন সেখানে। কোরিয়ান আর ইংরেজি—দুই ভাষায় লেখা ওই বার্তা নিয়ে চর্চা চলছে সংগীতের দুনিয়ায়।

default-image

ওই টুইটে লেখা হয়েছে, ‘আমরা জানি, বর্ণবাদী আচরণের শিকার হওয়ার পর কীভাবে আত্মবিশ্বাস ভেঙেচুরে যায়। নিজেদের “ছোট” আর ক্ষমতাহীন বলে মনে হয়। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের বলা হয়েছে, “তোমরা কেন এ রকম অদ্ভুত দেখতে? ও মা, তোমরাও ইংরেজিতে কথা বলো!” আমাদের শুধু একটাই চাওয়া, বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদ নিপাত যাক।’

default-image

বিশ্বজুড়ে বিটিএস–উন্মাদনা কেবল বেড়েই চলেছে। ভি, জাংকুক, জিমিন, সাগা, জিন, জে-হোপ ও আরএম—এই সাত তরুণকে নিয়েই বিটিএস। এর আগেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল বিটিএস। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনে ১০ লাখ ডলার বা ৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিল বিটিএস। প্রিয় ব্যান্ডকে অনুসরণ করে একই তহবিলে একই পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলেন ভক্তরাও।

default-image
বিজ্ঞাপন

ওই টুইটে আরও লেখা হয়েছে, ‘বর্ণবাদী আচরণ কোনো কারণ ছাড়াই হিংসাত্মক, সহিংস আর জঘন্য আচরণ। কারও গায়ের রং, চেহারা বা সে কোন অঞ্চলের—সে জন্য কাউকে কিছু বলা বা খারাপ আচরণ করার অধিকার কারও নেই। যারা এসব করে, তারা কাপুরুষ। আর ইতিহাসে কাপুরুষের কোনো জায়গা নেই। এগুলো ঘোরতর অন্যায়।’

default-image

আরও বলা হয়েছে, ‘কিছুদিন আগে যা ঘটল, তা বীভৎস। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’ গত ১০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক বন্দুক হামলায় আট নারী নিহত হন। তাঁদের ছয়জনই ছিলেন এশীয়। সেই ঘটনাকেই ইঙ্গিত করেছে বিটিএস। বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাব বাড়তে থাকার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় এশীয় অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।

default-image

২০২০ সালের ১৪ জুলাই মুক্তি পেয়েছে বিটিএসের সর্বশেষ স্টুডিও অ্যালবাম ‘ম্যাপ অব দ্য সোল: সেভেন-দ্য জার্নি’। মুক্তির কিছুদিনের ভেতরেই বিশ্বসংগীতের রেকর্ড বইয়ে বেশ কয়েকটি লাইন লেখা হয়েছে অ্যালবামটি ঘিরে। অ্যালবামটি মুক্তির ২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যালবামের ২১ লাখ কপি বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। বিলবোর্ড থেকে নামছেই না এই অ্যালবামের একাধিক গান। শুধু ব্যান্ড আর ব্যান্ডের গানই নয়, এই ব্যান্ডের সদস্যরাও নানা অর্জন দিয়ে আছেন সংবাদ শিরোনামে। ২০২০ সালে ‘সেক্সিয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল ম্যান অ্যালাইভ’ হয়েছেন এই ব্যান্ডের সদস্য ২৩ বছর বয়সী জাংকুক।

default-image

অন্যদিকে জিন ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁর ২৮তম জন্মদিনে রচনা করেছেন ইতিহাস। তিনিই এই ব্যান্ডের সবচেয়ে ‘প্রবীণতম’ সদস্য। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক নিয়ম হলো, তরুণদের বয়স ৩০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে ২ বছর মেয়াদি সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই হিসাবে এ বছরের শুরু থেকেই জিনের প্রশিক্ষণ শুরু করার কথা। কিন্তু জিন যদি প্রশিক্ষণ নিতে যান, তাহলে ভেঙে যেতে পারে ব্যান্ড। তাতে বিশ্বসংগীতে পিছিয়ে পড়তে পারে দক্ষিণ কোরিয়া। তাই তাঁর সম্মানে বদলে ফেলা হয়েছে এই সামরিক আইন। নতুন আইন অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সের ভেতরেও নেওয়া যাবে এই প্রশিক্ষণ। ফলে দুই বছর আয়ু বেড়েছে ব্যান্ডটির।

default-image
বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন