আর শুধু শ্রীলঙ্কাই–বা বলি কেন, এর মধ্যেই গানটি ভারতের ৫০ ভাইরাল গানের মধ্যে শীর্ষ ৬ নম্বরে উঠে গেছে, ১ নম্বরে উঠে গেলেও অবাক হব না। সেই খবর পেয়ে ইয়োহানি তাঁর ফেসবুকে লেখেন, ‘ভারতে “মানিকে” ভাইরাল হয়েছে জেনে আমি আনন্দে অভিভূত। ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’ তারপরও সিংহলি ভাষার এই গান ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশে। ১ কোটি ভিউ নিয়ে খুশি থাকা মেয়েটির অফিশিয়াল গানের ভিউ এখন ৭ কোটি ৪০ লাখ। আর প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা।

default-image

গানটা শুনে অর্থ কিন্তু কিছুই বুঝবেন না। বোঝার কথাও নয়, সিংহলি তো আমার–আপনার জানা কোনো ভাষা নয়। আর তামিল বা মালয়ালমের মতো সিংহলি সিনেমাও আমাদের এখানে জনপ্রিয় নয় যে দেখে বুঝে ফেলবেন। তারপরও কী এক জাদুতে যেন পুরো গান শুনতে চায় মন। গানটি মূলত প্রেমের গান। এখানে প্রেমিকার রূপের গুণকীর্তন করে তার মান ভাঙানোর চেষ্টা করছে প্রেমিক। ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের গানটি বারবার শুনতে ইচ্ছা করে। সংগীতের কোনো ভাষা নেই, দেশ নেই—এটা আবারও প্রমাণ করলেন ২৮ বছর বয়সী গায়িকা।

২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে আগে কোনো গানের ভিউ এত হয়নি। শ্রীলঙ্কার কোনো গান নিয়ে আগে দেশের বাইরে এভাবে এত আলোচনা হয়নি। ট্রেন্ডিংয়ে আন্তর্জাতিক গানের সঙ্গে সেভাবে পাল্লা দিতে দেখা যায়নি। শুধু তা–ই নয়, তাঁর গানটি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, তামিল, থাই, নেপালিসহ বিশ্বের একাধিক ভাষায় কাভার হয়েছে। সেসব গানের ভিউ শত মিলিয়নের বেশি। গানের কথা অনেকটাই প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো।

default-image

শ্রীলঙ্কান গায়িকার মিউজিক ভিডিও যেখানে মিলিয়ন ভিউ পেরোনো দুষ্কর হয়ে যায়, সেখানে ইয়োহানির গান সব রেকর্ড ভেঙেছে। তিন দিন ধরে গানটি প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ মানুষ দেখছেন। ইতিমধ্যে গানটি নিয়ে স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন টুইটারে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘শ্রীলঙ্কার “মানিকে মাগে হিতে” গানটি এককথায় দুর্দান্ত। আমার জিনিয়াস নাতনি কালিয়া ছবির গানের সঙ্গে এডিট করেছে গানটিকে।’

সেই পোস্ট শেয়ার করে ইয়োহানি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ওএমজি।’ এ ছাড়া গানটি এখন বিভিন্ন রিয়েলিটি শোতে জায়গা পাচ্ছে। কোটি ভক্তের মন জয় করা গানটির গায়িকা কে এই ইয়োহানি?

সেনা পরিবারে জন্ম নেওয়া গায়িকা ইয়োহানি ডি সিলভা। শৈশব থেকেই গান করেন। তাঁর বাবা সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন জেলা, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশেও তাঁর সময় কেটেছে। শৈশব থেকেই বিভিন্ন ভাষায় সঙ্গে পরিচিত তিনি। মায়ের উৎসাহে গানের চর্চা। কিন্তু কখনোই পেশাদার গায়িকা হওয়ার পরিকল্পনা ছিল না।

default-image

লজিস্টিক ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনার সময়ে সংগীতের প্রতি আগ্রহী হন। পরে অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স করতে অস্ট্রেলিয়ায় যান। সেখানে গিয়ে নিয়মিত গান কাভার করতে থাকেন। সেগুলো তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ছাড়তেন। সেই সময়েই তাঁর গাওয়া ‘ডেভিয়াঙ্গে বারে’ নামের একটি গান ভাইরাল হয়।

default-image

তিনি শ্রীলঙ্কান ইউটিউব স্টার। র‍্যাপার হিসেবে তিনি বেশ জনপ্রিয়। দেশের মধ্যে নিয়মিত স্টেজ শো করে থাকেন। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার ‘র‍্যাপ প্রিন্সেস’ হিসেবে পরিচিত। প্রথমবারের মতো ‘মানিকে মাগে হিতে’ গানটি দিয়ে দেশের বাইরে থেকে গানের প্রস্তাব পাচ্ছেন। ইয়োহানির সঙ্গে এই গানে ছিলেন শ্রীলঙ্কার আরেক জনপ্রিয় র‍্যাপার সতীসন রত্নায়ক। সতীসনই প্রথমে এই গান গেয়েছিলেন। গানটির কথা লিখেছেন দুলান এআরএক্স। গানটি গত বছর জুলাই মাসে কোভিডের সময়ে তৈরি করলেও এক বছর পর আপলোড করা হয়।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন