বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

প্রিয় শিল্পীকে সামনাসামনি দেখার স্বপ্ন রুমকির অনেক দিনের। নিয়মিত চিরকুটের ফেসবুকে খোঁজ রাখতেন, বরিশালের আশপাশে কবে তাদের কনসার্ট হবে। প্রায় পাঁচ বছর আগে একবার জানতে পারলেন, কুয়াকাটায় চিরকুট দল আসবে। কাউকে না পেয়ে একাই চলে গিয়েছিলেন রুমকি। কিন্তু শত চেষ্টা করেও সেবার দেখা করা যায়নি। সেই সুমি তাঁকে ঢাকায় ডেকেছেন! উত্তেজয় রাতে তাঁর ঘুমই আসছিল না। আর দেখা হওয়ার পর তো সুমি ছাড়া আর কিছুই বোঝে না মেয়েটি। সুমি বুঝতে পারেন, ‘আমাকে সে এতটাই পছন্দ করে যে আমার সঙ্গেই থেকে যেতে চায়।’ অগত্যা এই ভক্তকে নিজের প্রতিষ্ঠান সল্ট ক্রিয়েটিভসে নির্বাহী ও ডিজাইনার হিসেবে নিয়ে নেন চিরকুটের এই গায়িকা।

চিরকুটের কনসার্ট, গান রেকর্ডিং—সবখানেই নিয়মিত থাকতেন রুমকি। পারলে ব্যান্ডের সব কাজ একাই করেন। সুমি বলেন, ‘চার বছর ধরে সে আমাদের সবকিছুর মধ্যমণি। আমাদের আত্মার একটি অংশ হয়ে গেছে। হাসিখুশি সেই মেয়েই হঠাৎ জ্বর–কাশিতে কাহিল। গত ঈদের সময় টানা ২৭ দিন তার জ্বর। সব পরীক্ষা করে ক্যানসার ধরা পড়ে। চতুর্থ স্টেজ। শরীরের ৮০ শতাংশজুড়ে ছড়িয়ে গেছে। কোনো চাপই যাকে কাবু করতে পারত না, সেই মেয়ের শরীর এখন এতই দুর্বল যে কেমো দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। সিএমএইচে তার চিকিৎসা চলছে। তার চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা দরকার। আগামী ৬ মাসেই লাগবে ২০ লাখ টাকার বেশি। আমাদের তো সাধ্য কম। তারপরও চেষ্টা করছি। শো বন্ধ থাকায় বাড়তি কিছু করতেও পারছি না। এখন সবার কাছে আমরা সহযোগিতা চাচ্ছি। আমাদের রুমকিকে বাঁচাতে হবে।

উদ্যোগী হয়ে নানা রকম কাজ করতে দেখা গেছে মেয়েটিকে । বরিশালের পরিবেশ নষ্ট করছিল একটি অপরিষ্কার খাল। সবার কথা ভেবে প্রশাসনকে চিঠি দেয় রুমকি। তারপর সেই খাল পরিষ্কার করা হয়। বরিশালে কোথাও রক্ত লাগবে, সমাজসেবী কোনো কাজে সবার আগে রুমকির ফোন বেজে ওঠে। হাতের ক্র্যাফটিং কিছু বানাতে হবে, সেখানেও রুমকি। বাংলাদেশ স্টার্টআপ কাপ ২০১৭–এ অন্যতম উদ্যোক্তা পুরস্কার সে পেয়েছে। সবকিছুতেই এত দক্ষ একটা মেয়েকে এত সহজে আমার হার মানতে দেব না।’

default-image

পরে গায়ক ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেসবুকে একটি ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দেন সুমি। গতকাল সেটা চালু হওয়ার পর সেখানে দুই লাখের বেশি টাকা জমেছে। তাঁকে সাহায্যের জন্য ‘রুমকি জোশ’ নামে ক্যাম্পেইন চালাতে চান সুমিরা। বরিশালের সংগঠনের সঙ্গে মিলে তাঁরা কাজ করছেন। কিন্তু রুমকি চান না, এভাবে তাঁর জন্য অন্যের কাছে হাত পেতে টাকা ওঠানো হোক। তাঁরা রুমকিকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, দেশের জন্য তাঁকে দরকার।

default-image

এই সময়ে ভক্তের পাশে থেকে তাঁকে খুশি রাখতে চেষ্টা করছেন সুমিরা। রুমকিকে সাহস জোগানোর চেষ্টা করেন। সুমি বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার জন্ম দিন ছিল। সবার আগে রুমকির সঙ্গে কেক কেটে তাকে সারপ্রাইজ দেব ভেবেছিলাম। হাসপাতালে গিয়ে উল্টো আমিই সারপ্রাইজড। চিকিৎসকদের গ্লাভস ফুলিয়ে আমার জন্য সে বেলুন বানিয়েছে। তার ওপরে আমাকে নিয়ে অনেক কিছু লিখেছে। ওর যত মাস্ক ছিল, সেগুলো দিয়ে আমার জন্য ফুল বানিয়েছে। আমি ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। সে সব সময় জন্মদিনে আমাকে খুশি রাখার চেষ্টা করে। প্রতি জন্মদিনে মাসব্যাপী সে আমার জন্য আয়োজন করত। ঈদের চেয়েও খুশি থাকত। সেদিন জন্মদিনের কেক কেটে চলে আসার পর সে আমাকে একটি উপহার পাঠিয়েছে, একটি বালিশের ওপরে আমার ছবি। সব সময় আমাকে খুশি রাখতে ওর হাজার চেষ্টা। একজন ভক্ত যে কতটা আপন হতে পারে, তার উদাহরণ রুমকি। তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা রক্তের চেয়েও বেশি। তার অসুস্থতায় আমরা পুরোপুরি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

সুমিরা বিশ্বাস করেন, রুমকি স্ট্রং, তিনি ফিরে আসবেন।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন