default-image

‘এই তুহিনকে আমরা চিনি না। যে তুহিন শিরোনামহীন ব্যান্ডের সদস্য ছিল, তার সঙ্গে প্রথম আলোতে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছে, তার কোনো মিল নেই।’ বললেন শিরোনামহীন ব্যান্ডের দলনেতা জিয়াউর রহমান। আজ শনিবার রাতে প্রথম আলো কার্যালয়ে আসেন এই ব্যান্ডের সদস্য জিয়াউর রহমান (বেস), কাজী আহমেদ শাফিন (ড্রামস), রাসেল কবির (কি-বোর্ড) ও দিয়াত খান (লিড)। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন শিরোনামহীনের কণ্ঠশিল্পী তানযীর তুহিন। তিনি লিখেছেন, ‘আমি তানযীর তুহিন, ব্যক্তিগত কারণে শিরোনামহীন ছাড়ছি, কিন্তু গান নয়।’ এরপর আজ দুপুরে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে ব্যান্ড ছাড়ার জন্য বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন।

জিয়া বলেন, ‘ফেসবুকে তুহিন এমন স্ট্যাটাস দেবে, আমরা তা ভাবতেও পারিনি। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর ৩ অক্টোবর আমরা তার বাসায় গিয়েছিলাম। তখন ব্যান্ডের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য তুহিন নিজে থেকেই আরেকজন অতিথি কণ্ঠশিল্পী নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। কারণ, ওকে দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকতে হবে। এরপর আবার ওর পরীক্ষা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। এসব নিয়েও ওর সঙ্গে কথা হয়। আমরা ওকে কোনো কিছু ভাবতে নিষেধ করেছি। সেদিন হাসাহাসি করে আমরা ওর বাসা থেকে বেরিয়ে আসি।’

জিয়া বলেন, তুহিন ২০০০ সালে শিরোনামহীন ব্যান্ডে যোগ দেন। শিরোনামহীনের গানের সংখ্যা ৬০। এর মধ্যে ‘নদী’, ‘হয়না’, ‘পরিচয়’, ‘সূর্য’, ‘পরী’ আর ‘আহত কিছু গল্প’ গানগুলোর স্বত্ব তুহিন দাবি করতে পারেন। এ ছাড়া অন্য সব গানের স্বত্ব শিরোনামহীনের। আজ বিকেলে নিজেদের এক বৈঠকে শিরোনামহীনের সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এখন থেকে এই গানগুলো তাঁরা আর করবেন না। এখানে তাঁরা আরও উল্লেখ করেন, ব্যান্ডের গানের ক্ষেত্রে সব স্বত্ব কোনো ব্যক্তি নয়, ব্যান্ডেরই থাকে।

তুহিন প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ব্যান্ডের সদস্যদের আচরণে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি। আমি যখন অসুস্থ, আমাকে সুস্থ করার জন্য আমার পরিবার ছুটছে, তখন ব্যান্ডের সদস্যদের কাছে বন্ধুত্বের চেয়ে টাকা মুখ্য হয়ে যায়।’ এ ব্যাপারে জিয়া বলেন, ‘ওর এই বক্তব্যে আমরা খুবই মর্মাহত। আমরা মোটেও অর্থলোভী নই। ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা, প্রতিদিন হাসপাতালে গিয়ে ওর খোঁজ নেওয়া, পরে ওর বাসায় যাওয়া—এই সব কাজই আমরা করেছি। এরপর ওর কাছ থেকে এমন বক্তব্য আশা করিনি। আমি বলব, ও আমার বন্ধু না।’

default-image

ব্যান্ডে নতুন সদস্য যুক্ত করার ব্যাপারে জিয়া বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কাউকে যুক্ত করিনি। শিরোনামহীন ব্যান্ডের হয়ে যে-কেউ স্টেজে উঠতে পারবে না। তার সেই যোগ্যতা থাকতে হবে।’

শিরোনামহীনের আগামী দিনের পরিকল্পনার ব্যাপারে জিয়া বলেন, ‘তুহিনকে ছাড়াই আমাদের জার্নি শুরু হচ্ছে। ভাঙা-গড়া ব্যান্ড-সংস্কৃতিতে খুব সাধারণ ঘটনা। আমরা তা নিয়ে মোটেও ভাবছি না।’

তুহিনকে ব্যান্ডে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে? জিয়া বলেন, ‘ও যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল, এরপর আমরা এটা ভেবেছিলাম। ওর সঙ্গে কথা বলার জন্য আমাদের এক বন্ধুকে দায়িত্বও দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম আলোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ও যা বলেছে, এরপর এই বিষয় নিয়ে ওর সঙ্গে কথা বলার আমাদের আর কোনো ইচ্ছা নেই।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0