টাকার জন্য ইসলাম উদ্দিন পালা করে না

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের নয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। নাট্যকলায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার। পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে পালাকারের সঙ্গে কথা বলেছেন নাজমুল হক

প্রথম আলো:

অভিনন্দন। একুশে পদকের খবরটি প্রথম কার কাছে পেলেন?

ইসলাম উদ্দিন পালাকার: ঢাকায় ছিলাম আমি। মহাখালীতে একটা রেকর্ডিংয়ে ছিলাম। ভয়েস দিতে যাওয়ার টাইমে শিল্পকলা থাইকা দীপকদা (দীপক কুমার গোস্বামী) ফোন দিয়ে প্রথম খবরটা দেন। এরপর সাংবাদিকেরা কল দিতে থাকেন। প্রথমে তো বিশ্বাস করতে পারি নাই। মজা করতেছে নাকি! এরপর এত এত কল আইতেছিল, কিছু বুঝতে পারছিলাম না, পরে মোবাইলই বন্ধ করে দিই (হাসি)।

ইসলাম উদ্দিন পালাকার
ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন
প্রথম আলো:

সত্যি মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছিলেন?

ইসলাম উদ্দিন পালাকার: আরে কইলাম না। একটার পর একটা ফোন। কিছু কাছের মাইনষের কল পাইয়া বিশ্বাস করলাম। সবাই কল দিয়া এই কথাই কইতেছিল, অনুভূতি কেমন? আমি আর কী কমু বুঝতে পারছিলাম না। মাথাই আউলাইয়া যাইতেছিল, এরপর দিছি মোবাইল বন্ধ কইরা। এরপর রেকর্ডিং শেষ করলাম। এর মাঝে সবাই জেনে গেছে। স্টুডিওর হেরাও অভিনন্দন জানাল। রাষ্ট্রীয় সম্মান, এত বড় জিনিস, এটা অনেক ইজ্জতের, আলহামদুলিল্লাহ। অনেক ভালো লাগছে।

আরও পড়ুন

প্রথম আলো :

বাড়ি ফিরলেন কখন? পরিবারের সদস্যরা কী বলছে?

ইসলাম উদ্দিন পালাকার: গতকাল রাতেই বাড়ি ফিরছি। সবাই অনেক খুশি হয়েছে। স্ত্রী কইতেছে, ‘আপনে এত নামকরা পুরস্কার পাইছেন, আমরা অনেক খুশি হইছি।’ আমারে মোবাইলে না পাইয়া অনেকে ছেলেরে খুঁজে বাইর করছে। বাড়িত পাড়া দেওয়ার সাথে সাথে ছেলে কইতেছে, ‘আব্বা, আপনার মোবাইল বন্ধ, কতজন যে আমার কাছে আপনার খবর জানতে চাইছে।’ আজকা (শুক্রবার) সকালে মোবাইল চালু করার পর থাইক্কা কল আর কল। এরপর নোয়াবাদ বাজারে (করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ গ্রাম, ইসলাম উদ্দিন পালাকারের বাড়ি) আসার পর থাইক্কা অনেকে খবর নিয়েছেন। সবাই খুশি হয়েছেন। আল্লাহর কাছে অনেক অনেক শুকরিয়া। সম্মান দেওয়ার মালিক তো তিনিই।

ইসলাম উদ্দিন পালাকার
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম আলো:

আপনার ওস্তাদ কুদ্দুস বয়াতির সঙ্গে কথা হয়েছে?

ইসলাম উদ্দিন পালাকার: ওস্তাদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ হয়নি। আমার হিসেবে তিনি তো অবশ্যই খুশি হবেন। ৯ মাস ওস্তাদের পেছন পেছন ঘুইরা তালিম নিছি, পালাগান শিখছি। আমি ইসলাম উদ্দিন তো তাঁরই শিষ্য, তাঁর হাতেই তৈরি।

ইসলাম উদ্দিন পালাকার
শিল্পকলা একাডেমির সৌজন্যে

প্রথম আলো :

পুরস্কার মানেই তো দায়িত্ব বেড়ে গেল...

ইসলাম উদ্দিন পালাকার: পালার জন্য আমি ইসলাম উদ্দিন সব সময় ছিলাম, আছি। দেখবেন, বিভিন্ন ভার্সিটিতে আমি প্রশিক্ষণ দিই। শুধু এখানে না, যে যেখানে আমাকে ডাহেন আমি ছুটে যাই। কখনো মজুরি নিয়ে ভাবি না। সংসার চালাতে টাকা লাগে, দল চালাতে টাকা লাগে, কোথাও গেলে রাস্তাঘাটে টাকা খরচা হয়। তবে টাকার জন্য ইসলাম উদ্দিন পালা করে না। এই সম্মান যেহেতু আল্লাহ দিছে, দায়িত্ব আরও বাড়ছে। যত দিন দুনিয়াতে আছি, পালা কইরা যাইতে চাই।