কোরীয় গায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

চা ইউন-উছবি: ইনস্টাগ্রাম

দক্ষিণ কোরিয়ার তারকাদের মধ্যে কর নিয়ে অভিযোগ আইনের দিক থেকে যতটা সমস্যা, তার চেয়েও বেশি প্রভাব পড়ে তাঁদের খ্যাতি ও জনপ্রিয়তার ওপর। আর এই মুহূর্তে সেই ঝড়ের কেন্দ্রে আছেন দেশটির জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা চা ইউন-উ। জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড অ্যাস্ট্রর এই সদস্যকে ঘিরে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (১৩.৭ মিলিয়ন ডলার) কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় কর দপ্তর (এনটিএস)। এখনো তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়নি, কিন্তু এ বিতর্ক ইতিমধ্যেই বিজ্ঞাপন বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে, তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে একাধিক প্রতিষ্ঠান।

চা ইউন-উ
ছবি: ইনস্টাগ্রাম

মায়ের নামে ‘কাগুজে কোম্পানি’
দেশটির কর দপ্তরের দাবি, চা ইউন-উর মায়ের নামে নিবন্ধিত একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর বিনোদন আয়ের একটি অংশ দেখানো হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই কোম্পানিগুলো ব্যবহার করে আয়কর নথিতে ব্যক্তিগত আয়ের জায়গায় করপোরেট আয় দেখানো হয়েছিল, যাতে করের হার কম পড়ে। কোরিয়ায় ব্যক্তিগত আয়ের কর সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে করপোরেট কর তুলনামূলকভাবে কম।
এনটিএস বলছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। শুধু কাগজেই এর অস্তিত্ব ছিল। সে কারণেই তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০ বিলিয়ন ওনের বেশি কর কম দেওয়া হয়েছে।

সন্দেহ তৈরি হয়েছে
চা ইউন-উর অফিশিয়াল এজেন্সি ফ্যান্টাজিও। কর কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তাঁর ব্যক্তিগত আয় দেখানো হয়েছিল তিন ভাগে—ফ্যান্টাজিও, তাঁর মায়ের নামে নিবন্ধিত কোম্পানি, এবং স্বয়ং চা ইউন-উ। কর্তৃপক্ষের মতে, এই আয়-বণ্টনে চতুরতার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, এবং এর ফলে তাঁর মোট করের হার ২০ শতাংশের বেশি কমে যায়।
কর দপ্তরের এই মূল্যায়ন যদি বহাল থাকে, তাহলে আইনি বিশেষজ্ঞদের ধারণা—এই মামলায় সংশ্লিষ্ট প্রকৃত আয়ের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ওনের বেশি হতে পারে। সে হিসেবে এটি দক্ষিণ কোরিয়ায় কোনো একক বিনোদন তারকাকে ঘিরে বড় আইনি বিতর্কগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

বাণিজ্যিক প্রভাব
আইনি নিষ্পত্তি না হলেও এর প্রভাব পড়েছে দ্রুত। শিনহান ব্যাংক ও কসমেটিকস ব্র্যান্ড এবিব–এর মতো কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান চুপিচুপি চা ইউন-উর বিজ্ঞাপন সরিয়েছে নিয়েছে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় হেলথ কেয়ার ব্র্যান্ড বডিফ্রেন্ড তাঁর সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমগুলো। সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কর–সংক্রান্ত এ জটিলতায় এ তারকাকে নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাই এ পরিস্থিতিতে কেউ ব্যবসায়িক ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।


অভিযোগ অস্বীকার, আইনি চ্যালেঞ্জ
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে চা ইউন-উর এজেন্সি ফ্যান্টাজিও। তাদের বক্তব্য, চা ইউন-উর মায়ের নামে কোম্পানিটি একটি বৈধ প্রতিষ্ঠান। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে চা ইউন-উ বর্তমানে বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে আছেন, তাই প্রকাশ্যে তাঁর কোনো বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই।


গালফ নিউজ অবলম্বনে