২৪ কোটি বিনিয়োগে ৮৫৪ কোটি টাকা আয়! বিলিয়নিয়ার র‍্যাপারের অবিশ্বাস্য উত্থান

মার্কিন র‍্যাপার জে-জেড। রয়টার্স

একটি নতুন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছিলেন ২০ লাখ ডলার। ছয় বছর পর সেই বিনিয়োগের মূল্য দাঁড়ায় আনুমানিক সাত কোটি ডলার। মার্কিন র‍্যাপার জে-জেড বিনিয়োগজীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা এটি। প্রতিষ্ঠানটির নাম উবার, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ যাত্রী পরিবহন সেবা।

২০১৩ সালে উবারে ২০ লাখ ডলার (প্রায় ২৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা) বিনিয়োগ করেছিলেন জে-জেড। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় তাঁর ওই বিনিয়োগের মূল্য প্রায় সাত কোটি ডলার হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিল মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। অর্থাৎ প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রায় ৩৫ গুণ মূল্য দাঁড়িয়েছিল তাঁর শেয়ারের।

২০১৯ সালের জুনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছিলেন ফোর্বসের সাংবাদিক জ্যাক ও’ম্যালি গ্রিনবার্গ।

উবারে বিনিয়োগের গল্প
২০১৩ সালে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছিল উবার। সে সময় প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগান জে-জেড। পরে তিনি আরও শেয়ার কেনার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে উবারের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ট্রাভিস কালানিক তাঁকে সেই সুযোগ দেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে জে-জেডের নগদ অর্থ ও বিনিয়োগের সম্মিলিত মূল্য ছিল প্রায় ২২ কোটি ডলার। এর মধ্যে উবারের শেয়ারের আনুমানিক মূল্যই ছিল সাত কোটি ডলার। একই প্রতিবেদনে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি হিপহপ সংগীতের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিতি পান।

জে–জেড কত টাকার মালিক
একসময় র‍্যাপ সংগীতের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করাই ছিল তাঁর লক্ষ্য। সেখান থেকে আজ তিনি এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁর সম্পদের বড় অংশের সঙ্গে সরাসরি গানের সম্পর্ক নেই। ব্যবসা, ব্র্যান্ড, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ও কৌশলী বিনিয়োগ—সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে বিশাল এক আর্থিক সাম্রাজ্য।

মার্কিন র‍্যাপার জে-জেড। রয়টার্স

ফোর্বসের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, জে–জেডের সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এই হিসাব তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জে–জেডের আসল নাম শন কোরি কার্টার। ১৯৬৯ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম তাঁর। বেড়ে উঠেছেন মার্সি হাউজেস নামের আবাসন এলাকায়। ছোটবেলার জীবন খুব একটা সহজ ছিল না। কিন্তু সংগীতের প্রতি আগ্রহ তাঁকে ধীরে ধীরে নিয়ে যায় হিপহপের জগতে।

১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয় জে-জেডের প্রথম অ্যালবাম ‘রিজনেবল ডাউট’। শুরুতে মূলধারার সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিতি তৈরি করতে সময় লাগলেও পরবর্তী সময়ে একের পর এক অ্যালবাম তাঁকে হিপহপের অন্যতম প্রভাবশালী শিল্পীতে পরিণত করে। ‘দ্য ব্লুপ্রিন্ট’, ‘দ্য ব্ল্যাক অ্যালবাম’ ও ‘৪:৪৪’-এর মতো অ্যালবাম তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

আরও পড়ুন

১৯৯০-এর দশকে নিজের সংগীত প্রকাশের জন্য জে–জেড সহপ্রতিষ্ঠা করেন রক-এ-ফেলা রেকর্ডস। পরে সংগীত, ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া ও বিনোদনশিল্পকে ঘিরে তাঁর ব্যবসায়িক উদ্যোগ বিস্তৃত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রক নেশন। প্রতিষ্ঠানটি শিল্পীদের ব্যবস্থাপনা, সংগীত প্রকাশ, ক্রীড়া ও বিনোদনসংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত।

জে–জেডের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিলাসবহুল পানীয়র ব্যবসা। ফোর্বসের মূল্যায়ন অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের বড় অংশ এসেছে এই খাত থেকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্র্যান্ড ডি’উসে কনিয়াক। ২০২৩ সালে এই ব্র্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা বিক্রি করেন তিনি। ক্রেতা ছিল পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বারকার্ডি।
২০১৯ সালে জে–জেডের সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা করে ফোর্বস। এর মধ্য দিয়ে তিনি হিপহপ সংগীতের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর তাঁর সম্পদ আরও বেড়েছে।

ফোর্বস ও হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

মার্কিন র‍্যাপার জে-জেড। রয়টার্স