বাবার সঙ্গে রাতুলের ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতি
প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের কোলে ছোট্ট রাতুল—ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বিকেলে ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করে জসীমের আরেক ছেলে এ কে রাহুল লিখেছেন, ‘এক সাথে থাকো।’
গতকাল রোববার বিকেলে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এ কে রাতুল; যিনি ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, বেজিস্ট ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। রাতুলের মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ সকালে রাজধনীর বনানী কবরস্থানে বাবা জসীমের কবরে রাতুলকে সমাহিত করা হয়েছে। মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মারা গেছেন জসীম। জসীমের মৃত্যুর ২৭ বছর পর তাঁর সন্তান রাতুলও অন্যলোকে পাড়ি দিয়েছেন।
রাহুল ছবিটি পোস্ট করার পর সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ঈশা খান দূরে লিখেছেন, ‘আল্লাহ এই শোক সইবার শক্তি তোমার পরিবারের সবাইকে দিন।’
এর আগে সকালে রাতুলের আরেকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন রাহুল। ছবিতে রাতুলের বুকে হাত রেখেছেন রাহুল। ছবিটি পোস্ট করে রাহুল লিখেছেন, ‘আমার ভাইটার বুকে আমার হাত।’
রাতুলের বড় ভাই এ কে সামী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি মাত্রই ছোট ভাইটাকে সমাহিত করে এলাম।’
রাতুলের মৃত্যুতে ফেসবুকে ঢাকার ব্যান্ড ও শিল্পীদের অনেকেই শোক জানিয়েছেন। ওয়ারফেজ লিখেছে, ‘রাতুলের প্রয়াণের খবরে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। ওয়ারফেজ পরিবার রাতুলের পরিবারের জন্য সমবেদনা জানাচ্ছে এবং তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গন এক মূল্যবান রত্ন হারাল।’
আর্টসেল ব্যান্ড লিখেছে, ‘ওর চলে যাওয়ায় আমাদের বাংলাদেশের সংগীত জগতে যে ক্ষতি হয়ে গেল, তা অপূরণীয়। এমন মৃত্যু কারও কাম্য নয়। একসঙ্গে ওর স্টুডিওতে আমাদের গানের কাজ করা, বিভিন্ন কনসার্টে দেখা হওয়া, কত স্মৃতি...আজীবন এগুলো থেকে যাবে আমাদের আত্মার অন্তস্তল।’
শিরোনামহীন লিখেছে, ‘আল্লাহ তার জীবনের সকল গুনাহ মাফ করুক এবং তার পরিবারকে শক্তি দিক, যাতে তারা এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারে।’
শ্রোতাদের মধ্যে ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১৪ সালে ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘ওয়ান’ ও ২০১৭ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘টু’ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়েছে ইপি ‘এইটিন’।
রাতুল অন্য ব্যান্ডেও কাজ করেন। তিনি অর্থহীনের ‘ফিনিক্সের ডায়েরি-১ ’-এর সাউন্ডের কাজ করেছেন। জসীমের তিন সন্তানের মধ্যে রাতুল মেজ। বড় ছেলে এ কে সামী ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের ড্রামার, ছোট ছেলে এ কে রাহুল ‘ট্রেনরেক’ ও ‘পরাহো’ ব্যান্ডের সঙ্গে ছিলেন।