খেয়াল গানের পাশাপাশি বাংলা ভাষার খেয়ালে কেন মনোযোগী হয়েছেন, সেই ঘটনাও শোনালেন সুমন তাঁর ভাষ্যে, তাঁর বাবা মৃত্যুর আগে সুমনকে বাংলা ভাষায় খেয়াল গান করতে বলেছিলেন। বাবার কথামতো খেয়ালে মন দিয়েছেন তিনি। শুধু মন নয়, বাংলা ভাষায় খেয়ালের জন্যই নাকি তার বেঁচে থাকা।
সুমন বলেন, ‘বেঁচে আছি বাংলা ভাষার খেয়ালের জন্য। জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায় একবার বলেছিলেন, বাংলা আধুনিক গানকে নদীর সঙ্গে তুলনা করা হলে আমাদের সুমন হলেন তার প্রধান এক ঘাট। আমি জানপ্রাণ দিয়ে গানের কথা ও গঠনে কিছু পরিবর্তন আনতে পেরেছি। ছোটবেলা থেকে বাংলা আধুনিক গান শুনেছি। এখন যদি আমাকে বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বাংলা আধুনিক বাংলা গান গেয়ে দেব। আপনাদের অসুবিধা হবে না।’

বাংলা ভাষার খেয়ালের পাশাপাশি তাঁর বেঁচে থাকার আরও দুটি কারণ আছে জানিয়েছেন সুমন। তিনি বলেন, ‘এক. বেঁচে থাকতে খারাপ লাগে না। দুই. সুন্দর মেয়েদের খুব ভালো লাগে। তাদের জন্য বেঁচে আছি। হ্যাঁ, সিরিয়াসলি। ভাগ্যিস পরমেশ্বর সুন্দর মেয়ে সৃষ্টি করেছেন। আমার বাঁচার ইচ্ছাটা তাই মরে যায়নি। আর কিসের জন্য বেঁচে আছি। বাইরে তাকিয়ে এখনো দেখতে পাই, কাক ডাকাডাকি করছে, ময়নারা ঘুরঘুর করছে, চড়ুই পাখি লাফালাফি করছে। আমরা পুরোপুরি ধ্বংস করতে পারিনি।’
গান নিয়ে আশার বাণী শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে কিছু আক্ষেপও শুনিয়েছেন সুমন। তাঁর ভাষ্যে, ‘সংগীতশিল্পীরা বুড়ো হয়ে গেলে তাদের স্থান ক্রমেই ছোট হতে থাকে। পরমেশ্বরের দোয়ায় আমি পাঁচ হাজার বছর বেঁচে থাকি গলা কিন্তু থাকবে না। কাজেই বয়স হলে আর দাম থাকে না।’

এ আয়োজনে সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও আজাদ রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন সুমন। খেয়ালে আয়োজনে দর্শক হিসেবে কণ্ঠশিল্পী অর্ণব, গাউসুল আলম শাওনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
২১ অক্টোবর একই মঞ্চে আধুনিক বাংলা গান দিয়ে ঢাকায় এবারের সংগীত সফরের ইতি টানবেন কবীর সুমন।