এবার থাকছে না বয়সের বাধা
‘গানে আওয়াজ তোলো প্রাণে’ এই স্লোগান সঙ্গী করে আবারও শুরু হচ্ছে চ্যানেল আইয়ের সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো ‘সেরাকণ্ঠ’। রিয়েলিটি শোর এবারের আসর শুরু উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দুপুরে চ্যানেল আই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার প্রধান দুই বিচারক উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা ও রবীন্দ্রসংগীতের বরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরও। পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে প্রতিযোগিতার আরেক বিচারক সামিনা চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে থাকতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগের প্রতিটি আসরে বয়সের যে বাধা ছিল, তা এবার থাকছে না। সে হিসেবে দেশ ও দেশের বাইরের সব বয়সী আগ্রহীরাও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন।
সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো সেরাকণ্ঠের এবার সপ্তম আসর। এবার এই আয়োজনের সঙ্গে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুক্ত হয়েছে ঐক্য ডটকম ডটবিডি। এরই মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই শুরু হতে যাওয়া সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে চ্যানেল আইয়ের ছাদ বারান্দায় আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলনের। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহীন আক্তার, রিয়েলিটি শোর প্রকল্প পরিচালক ইজাজ খানসহ সেরাকণ্ঠের বিগত আসরগুলোর শিল্পীরাও। আয়োজনে সভাপতির আসনে ছিলেন সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘রিয়েলিটি শো সেরাকণ্ঠ প্ল্যাটফর্মটি গ্রহণযোগ্য একটি প্ল্যাটফর্ম। এমন প্ল্যাটফর্মটি সাতটি সিজন শুরু করতে যাচ্ছে, এ জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। বিশেষ করে ঐক্য ডটকম ডটবিডিকে ধন্যবাদ।’ পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শাহীন আক্তার বলেন, ‘এ ধরনের একটি বৃহত্তর অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমরা অনেক বেশি সম্মানিত মনে করছি। আশা করছি আমাদের এ বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’
সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম কয়েকটি আসরে বিচারকের আসনে ছিলেন রুনা লায়লা। এরপর কয়েকটি আসরে তাঁকে দেখা যায়নি। আবারও বিচারকের আসনে বসতে যাচ্ছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে রুনা লায়লা বলেন, ‘আশা করব, ভালো কিছু কণ্ঠ আমরা পাব। ভালো কিছু ট্যালেন্ট পাব। আমার একটা অনুরোধ, যাঁরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন, তাঁরা গানটা শিখে আসবেন ভালো করে। নিজেকে সব সময় রেওয়াজ ও প্র্যাকটিসে রাখবেন। কারণ, এটা ছাড়া এগিয়ে যাওয়া কোনোভাবে সম্ভব নয়। এর আগে যাদের জাজ করেছি, তারা এখন সংগীতাঙ্গনে কাজ করছে এবং খুব ভালোও করছে। তাই যারা গানকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে চাও, তাহলে এটার প্রতি আগ্রহটা যেন বেশি থাকে। একটা কথা কি, গান শেখার কোনো শেষ নাই, আমি তাই অনুরোধ করব—তোমরা যত দিন গান গাইবে, তত দিন গান শিখবেও। নতুন নতুন কিছু করার ইচ্ছা যেন থাকে, সাধনাটা চালিয়েও যাবে।’
সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতার এবারের আসরের আরেক বিচারক রবীন্দ্রসংগীতের বরেণ্য শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতায় সেরাদের কাছ থেকে সেরা সব গান শোনার অপেক্ষায় আছি। চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে সব প্রতিযোগীকে সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী মানুষ দেখবেন। শুনলাম, এবার বাংলাদেশ থেকে শুধু নয়, সারা পৃথিবী থেকে বাংলা গানে আগ্রহীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। সারা পৃথিবীতে যারা বাংলা ভাষায় গান করেন, তাঁদের কাছে চ্যানেল আইয়ের যে গ্রহণযোগ্যতা, সম্মানের স্থানটি আরও বেশি প্রতিষ্ঠিত হবে। কারণ, তারা সারা পৃথিবীর বাংলা ভাষাভাষী গাইয়েদের কথা মনে করেছে, ভেবেছে, তাঁদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের বাইরেও কিন্তু প্রচুর বাঙালি বসবাস করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে খুব চমৎকার গান করেন, কিন্তু সুযোগ পান না—এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁদের সুযোগ দেওয়াটা নিঃসন্দেহে অনেক বড় ব্যাপার।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৯ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ঐক্য ডটকম ডটবিডি-চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ–২০২৩’–এর কার্যক্রম। শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে নাম নিবন্ধনপ্রক্রিয়া। এবারের আসরের প্রকল্প পরিচালক ইজাজ খান জানান, প্রতিভাবান শিল্পী খুঁজে বের করতে সেরাকণ্ঠের জুড়ি নেই। এর আগে ছয়টি সিজনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান শিল্পীদের তুলে এনে প্ল্যাটফর্ম দিয়েছে চ্যানেল আই। ২০১৭ সালের পর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে সেরাকণ্ঠ আয়োজনটি স্বরূপে ফিরছে। অন্যবার সেরাকণ্ঠে প্রতিযোগীদের বয়সভিত্তিক বাধ্যবাধকতা ছিল, কিন্তু এই আয়োজনে যেকোনো বয়সের প্রতিযোগী আবেদন করতে পারবেন।
এবারের আয়োজনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক বলেন, ‘অন্যবারের তুলনায় এবারের আয়োজনটি আরও বিশাল পরিসরে হবে। যেহেতু বয়সের বাধ্যবাধকতা এবার নেই, ফলে প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়বে। তার ওপর উত্তর আমেরিকাসহ বেশ কিছু জায়গায় প্রথমবারের মতো চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ অডিশন পর্ব রাখা হচ্ছে। সেখান থেকেও প্রবাসী বাঙালিরা এই প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সবকিছু মিলিয়ে এবারের এই আয়োজন বেশ চ্যালেঞ্জিংই মনে করছি। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে হবে অডিশন পর্ব। তৃণমূলের প্রতিভাবান শিল্পীদের খুঁজে আনাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে প্রাথমিক বাছাই। তার আগে ১ ডিসেম্বর থেকে চ্যানেল আই ও চ্যানেল আই ডিজিটালে প্রতিযোগিতায় নাম নিবন্ধনের নিয়মাবলি জানিয়ে দেওয়া হবে। এবারের আসর উপস্থাপনা করবেন মারিয়া নূর।