মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত মাহবুবা রহমান

মাহবুবা রহমানকোলাজ

ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমানকে। আজ শুক্রবার বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ শেষবারের মতো বাসায় আনা হয়। আত্মীয়স্বজন ও পরিবারের মানুষজন শেষবার তাঁকে একনজর দেখে বিদায় দেন। মরদেহ নেওয়া হয় মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখানেই সমাহিত করা হয় তাঁকে। প্রথম আলোকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন মাহবুবা রহমানের মেয়ে সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।

ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি মারা যান বলে জানান রুমানা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। বছরখানেক কথাবার্তা বলতেও পারতেন না। সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, গতকাল সন্ধ্যায় চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিল্পী মাহবুবা রহমান
ফাইল ছবি

একুশে পদকপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী মাহবুবা রহমান ‘মুখ ও মুখোশ’ চলচ্চিত্রে ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানে কণ্ঠ দিয়ে আলোচনায় আসেন। পরে ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ সিনেমায় ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’ গান গেয়ে জনপ্রিয়তা পান। মাহবুবা রহমানের অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’, ‘আমার না বলা কথা’, ‘সোনালি এই ধানের খেতে’, ‘আগে জানি না রে দয়াল’, ‘তুমি দাও দেখা দরদি’, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’, ‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’ ও ‘আমার মন ভালো না গো প্রাণ ভালো না গো’।

‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘রাজা সন্ন্যাসী’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘কখনো আসেনি’, ‘সূর্যস্নান’, ‘সোনার কাজল’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো ঢাকার প্রথম দিকের অনেক সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন তিনি।
কয়েক দশক ধরেই অনেকটা নিভৃতে জীবন যাপন করছিলেন মাহবুবা রহমান। তাঁর প্রকৃত নাম নিভা রানী রায়। ১৯৩৫ সালের ৩ মার্চ চট্টগ্রামে জন্ম। বাবা সুরেন্দ্র মোহন রায়ের সঙ্গে শৈশবেই ঢাকায় চলে আসেন তিনি। ঢাকায় সুধীরলাল চক্রবর্তী, ওস্তাদ পিসি গোমেজ এবং মোমতাজ আলী খানের কাছে কিছুদিন গান শেখেন। গীত, গজল শিখেছিলেন ওস্তাদ কাদের জামেরী ও ওস্তাদ ইউসুফ কোরেশীর কাছে। মোমতাজ আলীর কাছে শিখেছিলেন লোকসংগীত। রাগপ্রধান আধুনিক, নজরুলসংগীত, পল্লিগীতি, ভজন–কীর্তন ও হামদ–নাত প্রভৃতি ক্ষেত্রে তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। মূলত লোকসংগীতই তাঁকে সবচেয়ে বেশি পরিচিতি এনে দেয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৬ সালে প্রথম অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ঢাকা কেন্দ্র থেকে গান পরিবেশন করেন মাহবুবা রহমান, তখন তাঁর নাম ছিল নিভা রানী দাস। একটা পর্যায়ে এসে তিনি আবুল হাসনাতের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে জড়ান। সেই সংসারে মারুফ হাসনাত ও বাবন হাসনাত নামে ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। ১৯৫৯ সালে মাহবুবা রহমান বিয়ে করেন খান আতাউর রহমানকে। এই সংসারে তাঁর তিন সন্তান—রাহিলা খান, রুমানা ইসলাম, খান ইমানুর রহমান। রাহিলা চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে এখন যুক্তরাজ্যে কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ও ছেলে ইমানুর রহমান মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে এখন অস্ট্রেলিয়ায় চাকরি করছেন। আরেক মেয়ে রুমানা ইসলাম বুয়েট থেকে পড়াশোনা শেষ করে দেশের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে কর্মরত আছেন।