সবাইকে পেছনে ফেলে স্পটিফাইয়ে শীর্ষে, কে এই তরুণ গায়ক
তানভীর ইভানের সংগীতজীবন এক যুগের একটু বেশি। সেই তুলনায় গানের সংখ্যা কিন্তু খুব বেশি নয়। প্রথমবারের মতো সাতটি গান নিয়ে প্রকাশ করেছেন ইপি মেমোরিজ আর ফরএভার। শ্রোতার বিচারে স্পটিফাইয়ে দেশের প্রথম সারির সব গায়ককে পেছনে ফেলেছেন চট্টগ্রামের এই তরুণ গায়ক। কয়েক বছর ধরে অডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মটিতে তানভীর ইভানই বাংলাদেশের ‘টপ আর্টিস্ট’। এই গায়কের খোঁজ নিয়েছেন মনজুর কাদের
মাঝে দুই বছর গান তুলনামূলক কম প্রকাশ করেছেন তানভীর ইভান। বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত, তাঁকে নিয়ে ঢাকা–দিল্লি করতে হয়েছে। জানালেন, বাবা এখন কিছুটা সুস্থ। তাই আবার গানে মনোযোগী। প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়েছে নিজের ইপি অ্যালবাম ইপি ‘মেমোরিজ আর ফরএভার’। অ্যালবামটিতে সাতটি গান আছে। এসব গানের ভিউ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে। মন্তব্যের ঘরে বেশির ভাগই ইভানের গায়কির প্রশংসা।
ইভান জানালেন, তাঁর ভক্তদের চাওয়া ছিল, অ্যালবাম। সেটা মেনে বিভিন্ন ধাঁচের বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে এই অ্যালবাম। ইভান বললেন, ‘কিছু গানের অডিও বানালাম। কিছু মিউজিক ভিডিওর পরিকল্পনা করছি। আমার ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম থেকে আসবে। আমার কাছে শ্রোতারা যে ধরনের গান শোনেন, তেমন কয়েকটা নতুন গান নিয়ে আসছি।’
সিনেমার গান নিয়ে ভাবনা
২০১৩ সালে নিজের লেখা ও সুরে ‘ম্যায়নে রোয়া’ শিরোনামে প্রথম গান রেকর্ড করেন তানভীর ইভান। তখন অবশ্য গানটি তেমন একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। তবে নিজের ইউটিউবসহ আরও দুটি প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে হিন্দি গানটির ভিউ এখন প্রায় ৪০ কোটি। ২০২১ সালে গানটি নতুন করে গায়কের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করা হয়। গতকাল শনিবার পর্যন্ত গানটির ভিউ প্রায় ২৮ কোটি। হিন্দি গান দিয়ে শুরু করলেও পরে বাংলা গানে থিতু হন তানভীর ইভান। ২০১৬ সালে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ নাটকে ‘অভিযোগ’ গানটি গেয়ে আলোচনায় আসেন। ২০২০ সালে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড ৩’ নাটকের ‘অভিমান’ এই তরুণ শিল্পীর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়। এই গান দিয়েই মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে পাঠকের ভোটে হন সেরা গায়ক। ইভানের গাওয়া ‘বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ’ গানটিও বিভিন্ন বয়সী শ্রোতার প্রিয়।
কথা প্রসঙ্গে তানভীর ইভান জানালেন, অডিও গান, নাটকের গান গাইলেও চলচ্চিত্রের গানের জন্য কেউ তাঁকে এখনো প্রস্তাব দেয়নি। প্রস্তাব পেলে এবং সবকিছু মিলে গেলে তিনি চলচ্চিত্রের গানেও আগ্রহী।
বললেন, ‘আমি তৈরি। যেহেতু রোমান্টিক গান গাই; ভক্তরা আমার কাছ থেকে এই ধরনের গানই শুনতে চান। এটাই আমার সিগনেচার। প্লেব্যাক করলে শাকিব খানের সিনেমা দিয়ে শুরু করতে চাই। সব সময় নতুন কিছু করতে চাই, তাঁর সঙ্গে কাজের সুযোগ হলে ভালো হবে।’
স্পটিফাইয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে
২০১৮ সাল থেকে স্পটিফাইয়ে তানভীর ইভানের গান শোনা যাচ্ছে। স্পটিফাইয়ে বাংলাদেশি শিল্পীদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে সবচেয়ে বেশিবার ইভানকে শুনেছেন শ্রোতারা। তাঁকে ‘টপ আর্টিস্ট’–এর স্বীকৃতিও দিয়েছে এই প্ল্যাটফর্ম। স্পটিফাইয়ের তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, জেমস, হাবিব, অর্ণব, তাহসান থেকে শুরু করে সময়ের জনপ্রিয় ইমরান আর প্রীতমকেও ছাড়িয়ে গেছেন তানভীর ইভান।
তবে এই ধরনের কোনো তুলনায় যেতে চান না ইভান, ‘তাঁরা সবাই অগ্রজ। তাঁদের মতো গুণী সব শিল্পীর কারণে আমাদের সংগীতাঙ্গন ঋদ্ধ হয়েছে। আমি মনে করি, শ্রোতারা আমার গান শুনছেন, এটা শুধুই তাদের ভালোবাসা।’
বিয়ের চাপ
পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি করেছেন ইভান। গানের টানে মাঝে ঢাকায় এসেছিলেন, পরে আবার ফিরে যান প্রাণের শহর চট্টগ্রামে। খুলশীতে নিজের বাড়িতেই স্টুডিও। সেখানেই চলে গানের চর্চা, রেকর্ডিং। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে ইভান মেজ। বছরখানেক ধরে বাবা-মা চাইছেন বিয়ে করে সংসারী হোক ছেলে। ইভানও বললেন, ‘বিয়েটা আসলে করে ফেলা দরকার (হাসি)।’