বিশ্বকাপের হাফটাইম শো মাতাল বিটিএস
লাল, কালো ও সাদা রঙের পোশাকে মঞ্চে উঠেছিল বিটিএস। গতকাল রোববার ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হাফটাইম শোতে পারফর্ম করে কে-পপ ব্যান্ডটি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের বিরতিতে বিটিএসের পরিবেশনা ছিল।
‘রেড ডেভিলস’ সমর্থকদের রং থেকে অনুপ্রাণিত কালো, লাল ও সাদা পোশাক পরেছিলেন জিমিন, জাংকুকরা।
বিটিএস পরিবেশন করে তাদের জনপ্রিয় গান ‘ডায়নামাইট’-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। ২০২০ সালে প্রকাশিত এই ইংরেজি গানটি বিলবোর্ড হট ১০০ তালিকায় বিটিএসের প্রথম ১ নম্বর গান হয়েছিল।
বিশ্বকাপের এই বিশেষ আয়োজনের জন্য গানের কিছু কথাও বদলানো হয়। ‘কিক দ্য ড্রাম’-এর জায়গায় ব্যবহার করা হয় ‘কিক দ্য বল’। আর ‘আ গেম অব পিং পং’-এর বদলে ব্যবহার করা হয় ‘আ গেম অব ফুটবল’।
গ্লোবাল সিটিজেনের সঙ্গে যৌথভাবে এই হাফটাইম শোর আয়োজন করা হয়। এর পরিকল্পনা করেন কোল্ডপ্লের প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন। অনুষ্ঠানে বিটিএস ছাড়াও পারফর্ম করেন ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা ও বার্না বয়।
হাফটাইম শোতে ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডের কথাও তুলে ধরা হয়। বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে কাজ করে এই তহবিল।
পারফরম্যান্সের পর বিগ হিট মিউজিকের মাধ্যমে বিটিএস জানায়, বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হাফটাইম শোতে পারফর্ম করতে পারা তাদের জন্য সম্মানের।
বিটিএস বলেছে, ‘ছোটবেলা থেকেই আমরা বিশ্বকাপ দেখে আসছি। এই মঞ্চে অসাধারণ সব শিল্পীর সঙ্গে দাঁড়ানোটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আর্মিদের (বিটিএসের ভক্তগোষ্ঠী) সমর্থনের কারণেই আমরা এখানে আসতে পেরেছি।’
এ আয়োজন বিটিএসের জন্য আরেকটি মাইলফলক। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদস্য জাংকুক ‘ড্রিমার্স’ গান পরিবেশন করেছিলেন। চার বছর পর এবার বিশ্বকাপের ফাইনালের হাফটাইম শোতে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ দল হিসেবে ফিরল বিটিএস।
‘আরিরাং’ বিশ্ব সফরের ইউরোপ পর্ব শেষ করার এক দিন পরই এ পরিবেশনায় অংশ নেয় বিটিএস। মাদ্রিদ, ব্রাসেলস, লন্ডন, মিউনিখ ও প্যারিস—এই ৫ শহরের ১০টি কনসার্টে প্রায় ৭ লাখ ১৭ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১ ও ২ আগস্ট মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দুটি কনসার্টের মাধ্যমে উত্তর আমেরিকা পর্ব শুরু করবে বিটিএস। সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত চলবে তাদের এই বিশ্বসফর।
কোরিয়া হেরাল্ড অবলম্বনে