আত্মহত্যা নাকি হত্যা? কার্ট কোবেইনের মৃত্যু নিয়ে নতুন তথ্য

কার্ট কোবেইনছবি: রয়টার্স

বত্রিশ বছর পেরিয়ে গেলেও নিরভানা ব্যান্ডের ফ্রন্টম্যান কার্ট কোবেইনের মৃত্যু নিয়ে আজও ধোঁয়াশা কাটেনি। এর আগে আত্মহত্যা বললেও সম্প্রতি স্বাধীন গবেষকদের একটি দল তাঁর মৃত্যুর মামলা পুনরায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল, তা নতুন করে পর্যালোচনা করা উচিত—কারণ, কিছু ফরেনসিক তথ্য হত্যার সম্ভাবনার দিকেও ইঙ্গিত করছে।

কার্ট কোবেইন
ছবি: রয়টার্স

কার্ট কোবেইন, যিনি গ্রাঞ্জ ও অলটারনেটিভ রকের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী সংগীতশিল্পী, জন্ম নেন ১৯৬৭ সালে। মেকানিক বাবা ও ওয়েট্রেস মায়ের প্রথম সন্তান হিসেবে বড় হলেও পরিবারে সংগীতের আবহ ছিল প্রবল—মামার ব্যান্ড ও খালার গিটার বাজানো তাঁর সংগীতপ্রেমের সূচনা ঘটায় খুব অল্প বয়সেই। তবে ৯ বছর বয়সে মা–বাবার বিচ্ছেদের পর তাঁর জীবনে বড় অস্থিরতা নেমে আসে। পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়া, বাড়ি ছেড়ে থাকার সময় উইশকা নদীর একটি সেতুর নিচে রাত কাটানো—এসব অভিজ্ঞতা পরে তাঁর গানে প্রতিফলিত হয়।

আরও পড়ুন

এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোই হয়ে ওঠে তাঁর সৃষ্টির প্রধান অনুপ্রেরণা। প্রেমিকা ট্রেসি মারেন্ডারকে ঘিরে লেখা ‘অ্যাবাউট আ গার্ল’-সহ বহু গান তাঁর জীবনের বাস্তবতা থেকে জন্ম নেয়। নিরভানা ব্যান্ডের মাধ্যমে তিনি রক সংগীতে নতুন ধারা এনে দেন; ‘স্মেলস লাইক টিন স্পিরিট’ বা ‘হার্ট শেপড বক্স’-এর মতো গান তাঁকে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা দেয়। তাঁর প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য শিল্পী—মেটালিকার লার্স উলরিখ থেকে জে-জি, লানা ডেল রে বা এমিনেম—স্বীকার করেছেন।
তবে ব্যক্তিগত জীবনে দীর্ঘদিন হেরোইন আসক্তি ও মানসিক হতাশার সঙ্গে লড়াই করছিলেন কোবেইন। ১৯৯৪ সালের ৫ এপ্রিল সিয়াটলের নিজ বাসভবনে ২৭ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। শটগানের গুলিতে আত্মহত্যা—এটাই ছিল আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, যা তাঁকে জিম মরিসন ও জিমি হেনড্রিক্সদের মতো ‘ক্লাব টোয়েন্টি সেভেন’-এর তালিকায় যুক্ত করে।

আরও পড়ুন

সম্প্রতি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ব্রায়ান বার্নেট ও গবেষক মিশেল উইলকিন্স দাবি করেছেন, ময়নাতদন্তের কিছু তথ্য সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তাদের মতে, কোবেইন গুলির আগে হেরোইনের অতিমাত্রায় অচেতন হয়ে পড়েছিলেন এবং ঘটনাস্থল আত্মহত্যা হিসেবে সাজানো হতে পারে। উইলকিন্সের বক্তব্য, ওই অবস্থায় তাঁর পক্ষে অস্ত্র চালানো শারীরিকভাবে সম্ভব ছিল কি না—সেটিও সন্দেহের বিষয়।
তবে কিং কাউন্টি মেডিক্যাল এক্সামিনারের দপ্তর জানিয়েছে, নতুন কোনো প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত মামলাটি পুনরায় চালুর প্রয়োজন দেখছে না তারা। সিয়াটল পুলিশও আগের অনুরোধগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বহাল থাকলেও কোবেইনের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।
রকসংগীতের ইতিহাসে কোবেইনের প্রভাব আজও অমলিন। তাঁর মৃত্যুর তিন দশক পরও গান প্রজন্মকে আলোড়িত করে যাচ্ছে—আর সেই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর রহস্যও বারবার ফিরে আসছে আলোচনায়।


ম্যান্স জার্নাল অবলম্বনে