এআই ছবি–ভিডিওতে বিরক্ত কনকচাঁপা বললেন, ‘আমি আমার আমিকে ভালোবাসি’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও তৈরি করার প্রবণতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি নিয়ে এআই পরীক্ষা–নিরীক্ষা তিনি মোটেও পছন্দ করেন না। এমনকি এ প্রবণতা চলতে থাকলে ফেসবুক ছাড়ার কথাও ভাবছেন বলে জানিয়েছেন।
পোস্টে কনকচাঁপা জানালেন, বহু বছর ধরে তিনি নিজের জীবনের গল্প, স্মৃতি, ভ্রমণ ও ছবি অনুসারীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি অনেকেই এআই ব্যবহার করে তাঁর ছবি ও ভিডিও তৈরি করছেন, কেউ কেউ আবার তা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করছেন। পুরো বিষয়টিকে তিনি ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিওকে বাস্তব মানুষের বিকৃত উপস্থাপন বলে মনে করেন কনকচাঁপা। তিনি বললেন,‘প্রযুক্তি মানুষকে বাহ্যিকভাবে আরও নিখুঁত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে চাইলেও তাতে মানুষের স্বকীয়তা হারিয়ে যায়। বিশেষ করে মানুষের চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি কিংবা বয়সের স্বাভাবিক ছাপ—এসবই একজন মানুষকে অনন্য করে তোলে, যা এআই কখনোই পুরোপুরি ধারণ করতে পারে না।’
নিজের চেহারা, বয়স ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট বলেও জানান কনকচাঁপা। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারকারীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে কনকচাঁপা বলেন, ‘আমার থ্যাবড়ানো নাক, চওড়া চোয়াল, মোটা ঠোঁট, খাটো ঘাড় নিয়েই দিব্যি জীবন পার করে দিলাম। এতে যদি আমার মন খারাপ না হয়, তাহলে আপনাদের অসুবিধা কোথায়?’
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে কনকচাঁপা বলেন, ‘এই প্রযুক্তি দিয়ে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে অসংখ্য সৃজনশীল কাজ করা সম্ভব। কিন্তু অনেকেই সেটিকে ব্যবহার করছেন ছবি সম্পাদনা ও কৃত্রিম ভিডিও তৈরির মতো কাজে। বিশেষ করে মৃত মানুষকে এআই ভিডিওতে কথা বলাতে দেখানো অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও ভয়ংকর বলে মনে হয়।’
সবশেষে কনকচাঁপা লিখেছেন, জীবনে কখনো সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম কোনো পদ্ধতির আশ্রয় নেননি। তাই এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি করা কৃত্রিম সৌন্দর্যও তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, আমি আমার “আমার আমি”কে খুবই ভালোবাসি।