গুরুতর অসুস্থ অলকা ইয়াগনিক
দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখন মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়ানোই যেন কঠিন হয়ে উঠেছে। অলকা ইয়াগনিক জানান, বিরল এক শ্রবণজনিত সমস্যায় আপাতত নতুন কোনো গানের কাজ নিতে পারছেন না তিনি।
‘এখনো ভুগছি’—স্বীকারোক্তি অলকার
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অলকা জানান, তিনি এখনো ওই সমস্যায় ভুগছেন। ২০২৪ সালে হঠাৎই নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ করে ভক্তদের চমকে দিয়েছিলেন এই গায়িকা। এর পর থেকেই অনেকটা আড়ালেই রয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে অলকা বলেন, সুরকারেরা এখনো তাঁকে নিয়মিত কাজের প্রস্তাব দেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কারণে সেই প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর কথায়, ‘প্রস্তাব আসে, কিন্তু আমি করতে পারছি না।’
কী সেই রোগ
চিকিৎসকদের ভাষায়, অলকা ইয়াগনিক ভুগছেন সেন্সরিনিউরাল হেয়ারিং লসে শ্রবণশক্তির একটি জটিল সমস্যায়, যা সাধারণত স্নায়ুর ক্ষতির কারণে হয়। তাঁর ক্ষেত্রে একটি আকস্মিক ভাইরাল সংক্রমণের পর এ সমস্যা দেখা দেয়। ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, একদিন ফ্লাইট থেকে নামার পরই হঠাৎ অনুভব করেন, তিনি কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না। সেই মুহূর্তটি ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাগুলোর একটি।
শেষ গান, শেষ শোনা
শেষবার অলকা ইয়াগনিকের কণ্ঠ শোনা গেছে ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত ‘অমর সিং চামকিলা’ ছবিতে। সেখানে ‘নারম কালজা’ গানটি গেয়েছিলেন তিনি, যার সুর করেছিলেন এ আর রাহমান। তার পর থেকে আর নতুন কোনো গান রেকর্ড করেননি।
সম্মান এসেছে, লড়াই চলছে
এ বছরের শুরুতে ভারত সরকার অলকা ইয়াগনিককে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছে। তবে এই স্বীকৃতি নিয়েও তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল বিনয়ী—‘যখনই আসে, তখনই সেটাই স্বাগত।’
ভক্তদের জন্য বার্তা
অসুস্থতার কথা জানিয়ে অলকা ইয়াগনিক ভক্তদের প্রার্থনা করতে বলেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছিলেন উচ্চ শব্দ ও হেডফোন ব্যবহারের বিষয়ে। তাঁর মতে, উচ্চ শব্দে গান শোনা বা শব্দের মধ্যে থাকা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে