বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে নতুন গান, বিজয় মামুনকে নিয়ে ফিরছেন আরমান খান
বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে একসময় ব্যস্ততম সুরকার ও সংগীত পরিচালকদের একজন ছিলেন আরমান খান। জনপ্রিয় অসংখ্য গান, অডিও অ্যালবাম ও নাটকের আবহসংগীতের পেছনে ছিল তাঁর সৃজনশীল স্পর্শ। দীর্ঘ সময় সংগীতচর্চা থেকে অনেকটা দূরে থাকার পর আবারও নতুন উদ্যমে ফিরছেন তিনি। বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে তৈরি করেছেন নতুন গান ‘ফুটবল ফুটবল’, যা প্রকাশিত হবে আগামী ১০ জুন।
গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন বিজয় ব্যান্ডের প্রধান ভোকাল বিজয় মামুন। গানটির কথা ও সুর করেছেন আরমান খান। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে গানের ভিডিও নির্মাণের কাজ।
চাকরির কারণে বর্তমানে শ্রীমঙ্গলে বসবাস করেন আরমান খান। তবে সংগীতকে কখনোই পুরোপুরি ছাড়েননি। গত বছরের নভেম্বরে সেখানে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ একটি স্টুডিও চালু করেছে তাদের প্রতিষ্ঠানে। সেখানে চাকরির পাশাপাশি অবসরে সময় দিচ্ছেন সংগীতচর্চায়। নতুন নতুন গান তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে।
নতুন গান প্রসঙ্গে আরমান খান বলেন, ‘চাকরির ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত গান তৈরিতে সময় দিতে পারিনি। অনেক শিল্পী আমার কাছে গান চেয়েছেন, কিন্তু সময়ের অভাবে দিতে পারিনি। গত বছরের নভেম্বরে শ্রীমঙ্গলে একটি স্টুডিও করেছি। এখন চাকরির পাশাপাশি নিয়মিত স্টুডিওতে সময় দিচ্ছি। নতুন নতুন গান তৈরি করছি। আশা করছি, সামনে আরও ভালো কিছু গান শ্রোতাদের উপহার দিতে পারব।’
আরমান জানান, প্রায় ১৪ বছর পর তাঁর লেখা ও সুর করা কোনো গান অন্য একজন শিল্পীর কণ্ঠে প্রকাশ পাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে নিজের তৈরি অধিকাংশ গান তিনি নিজেই গেয়েছেন।
‘ফুটবল ফুটবল’ গানটি নিয়ে আরমান খান বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল পৃথিবীর সব ফুটবলপ্রেমীর জন্য অন্য রকম এক আনন্দের উপলক্ষ। ফুটবলপ্রেমীদের মনে রং ছড়িয়ে দিতেই এ আয়োজন।’
গানটির শিল্পী বিজয় মামুনও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম আরমান ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করলাম। তাঁর কথা ও সুরে অনেক জনপ্রিয় গান রয়েছে। আমাদের ব্যান্ড সংগীতের অগ্রজ শিল্পী জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, হাসান ও বিপ্লব ভাইদের কণ্ঠে তাঁর লেখা ও সুরের গান শুনে বড় হয়েছি। আমারও স্বপ্ন ছিল তাঁর লেখা ও সুরের গান গাওয়ার। অবশেষে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো।’
বিশ্বকাপ ফুটবলের আবহে তৈরি ‘ফুটবল ফুটবল’ গানটির পৃষ্ঠপোষক ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সংগীতার ব্যানারে প্রকাশিত হতে যাওয়া গানটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমী ও সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আগ্রহ।
আরমান খানের সবচেয়ে বড় পরিচয়, তিনি বাংলাদেশের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক আলম খানের ছেলে। ১৯৭৭ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জন্ম নেওয়া আরমানের বেড়ে ওঠা সংগীতময় পরিবেশে। তাঁর মা হাবিবুন্নেছা গুলবানু খান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং দুই হাজার দশকের শুরুতে বাংলা ব্যান্ড ও আধুনিক গানের জগতে দ্রুত পরিচিত হয়ে ওঠেন আরমান খান। প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লবের কণ্ঠে ‘চান্দের বাতির কসম দিয়া’, আর্ক ব্যান্ডের হাসানের গাওয়া ‘শীত নয় গ্রীষ্ম নয় এসেছে বসন্ত’ ও ‘লাল বন্ধু নীল বন্ধু’সহ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গানের সুর ও সংগীতায়োজন তাঁর। ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মাত্র তিন বছরে তিনি প্রায় ২৩টি অডিও অ্যালবামের কাজ সম্পন্ন করেন। সে সময় দেশের প্রায় সব জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গেই কাজ করেছেন তিনি।
তবে সংগীতেই থেমে থাকেননি আরমান। নাটকের আবহসংগীতেও গড়ে তোলেন নিজস্ব পরিচিতি। নাট্যকার আবদুল্লাহ আল-মামুনের লেখা বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক ধারাবাহিক নাটক ‘জোয়ার ভাটা’র মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর নাট্যসংগীতের যাত্রা। এরপর একের পর এক নাটকে কাজ করে তিনি হয়ে ওঠেন নির্মাতাদের আস্থার নাম। ক্যারিয়ারে প্রায় ১ হাজার ২০০ নাটকের আবহসংগীত নির্মাণ করেছেন তিনি।
সংগীতজীবনের ব্যস্ত সময় পেরিয়ে ২০১৩ সালে আরমান খান জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন। সিলেটের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। সংগীতে যেমন নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তেমনি পেশাগত জীবনেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দক্ষতার সঙ্গে। ধীরে ধীরে তাঁর দায়িত্ব ও পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল ম্যানেজার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংগীত ও পেশাজীবন—দুই ক্ষেত্রেই সমানতালে এগিয়ে চলা আরমান খান এখন নতুন করে ফিরতে চাইছেন তাঁর প্রথম ভালোবাসা সংগীতের কাছে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের প্রথম ধাপ হিসেবে আসছে ‘ফুটবল ফুটবল’।