মৃত্যুর ১৭ বছর পরও কোটি কোটি ডলার আয় করছেন মাইকেল জ্যাকসন
১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে জন্ম নিল এক শিশু। নাম মাইকেল জোসেফ জ্যাকসন। খুব কম মানুষই হয়তো তখন কল্পনা করতে পেরেছিলেন, একদিন এই শিশুই বদলে দেবেন পপসংগীতের ভাষা। তাঁর গান, নাচ, পোশাক, মিউজিক ভিডিও—সবকিছু মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠবেন এক সাংস্কৃতিক বিস্ময়।মৃত্যুর পরের ১৭ বছরে তাঁর নামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন এক অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য, যা জীবিত অনেক তারকার ব্যবসাকেও হার মানায়।
তাঁকে বলা হবে কিং অব পপ। কিন্তু মাইকেল জ্যাকসনের গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়টি সম্ভবত তাঁর মৃত্যুর পর শুরু হয়েছে। সেটা কতটা চলতি বছর মুক্তি পাওয়া ‘মাইকেল’ সিনেমাই সেটার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সমালোচকদের কাছে তেমন পাত্তা না পেলেও বক্স অফিসে একটার পর একটা নতুন রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি।
২০০৯ সালের ২৫ জুন, মাত্র ৫০ বছর বয়সে মারা যান মাইকেল জ্যাকসন। মৃত্যুর সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্ক ছিল, আইনি জটিলতা ছিল, ছিল বিপুল ঋণের বোঝাও। অথচ মৃত্যুর পরের ১৭ বছরে তাঁর নামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন এক অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য, যা জীবিত অনেক তারকার ব্যবসাকেও হার মানায়। আজ প্রয়াত পপ কিংবদন্তির জন্মদিন উপলক্ষে জেনে নেওয়া যাক সে গল্পই।
মৃত্যুর পরও মাইকেল জ্যাকসন যেন থামেননি
তাঁর গান চলছে। নতুন প্রজন্ম তাঁর নাচ শিখছে। মঞ্চে চলছে তাঁকে নিয়ে বাদ্যনাট্য। লাস ভেগাসে চলছে তাঁর নামে স্থায়ী শো। সিনেমা, স্ট্রিমিং, গান বিক্রি, রয়্যালটি, লাইসেন্সিং—সব মিলিয়ে আজও কোটি কোটি ডলার আয় করছে মাইকেল জ্যাকসনের নাম।
মৃত্যুর পর ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে মৃত্যুর পর থেকে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট আয় করেছে ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি। এই অঙ্ক তাঁকে মৃত তারকাদের আয়ের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
২০২৫ সালের ফোর্বস তালিকাতেও মাইকেল ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা মৃত তারকা। গত ১২ মাসে তাঁর এস্টেটের আয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এই অঙ্ক প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি।
আর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর মোট আয় বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় কয়েক লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাইকেল জ্যাকসন শুধু মৃত তারকাদের তালিকায় শীর্ষে নন; তাঁর এস্টেটের আয় এমন যে অনেক জীবিত বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পীর বার্ষিক আয়ের সঙ্গেও তা প্রতিযোগিতা করতে পারে।
মৃত্যুর সময় ছিল ঋণের পাহাড়
আজকের এই বিপুল অর্থনৈতিক সাফল্যের সঙ্গে মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুকালের আর্থিক অবস্থার পার্থক্য নাটকীয়।
বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় মাইকেল জ্যাকসনের ওপর ছিল প্রায় ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ। হাতে ছিল অসাধারণ মূল্যবান সম্পদ, সংগীতের অধিকার ও বিপুল ব্যবসায়িক সম্ভাবনা। কিন্তু নগদ অর্থের সংকটও ছিল প্রবল।
অর্থাৎ একদিকে পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান সংগীতশিল্পী, অন্যদিকে বিপুল দেনা।
মাইকেলের মৃত্যুর পর মাইকেলের এস্টেটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বুঝেছিলেন, এই সম্পদগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দেওয়া সম্ভব।
আর সেখান থেকেই শুরু হয় মাইকেল জ্যাকসনের ‘দ্বিতীয় ক্যারিয়ার’। এই ক্যারিয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাঁর নিজের করা নয়। এটি পরিচালিত হয়েছে তাঁর রেখে যাওয়া গান, নাচ, ভিডিও, নাম এবং কোটি মানুষের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে।
‘দিস ইজ ইট’: মৃত্যুর পর প্রথম মহাসাফল্য
মাইকেল জ্যাকসন মারা যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বহুল আলোচিত ‘দিস ইজ ইট’ কনসার্ট সিরিজের জন্য। সেই কনসার্ট আর হয়নি। কিন্তু মহড়ার ভিডিও, পর্দার পেছনের দৃশ্য এবং তাঁর শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি করা হয় চলচ্চিত্র ‘মাইকেল জ্যাকসনস দিস ইজ ইট’।
২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বক্স অফিসে আয় করে ২৬ কোটির বেশি ডলার। পরে ডিভিডি, সংগীত ও বিভিন্ন পণ্য বিক্রি থেকেও আসে বিপুল অর্থ।
এক অর্থে, মৃত্যুর পর মাইকেল জ্যাকসনের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য পুনর্গঠনের প্রথম বড় ভিত্তি ছিল এই ছবি।
ভক্তদের কাছে এটি ছিল প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ। আর ব্যবসার দৃষ্টিতে এটি প্রমাণ করে, মাইকেল জ্যাকসনের নাম তখনো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিনোদন ব্র্যান্ড।
বিটলসের গান থেকে সোনার খনি
মাইকেল জ্যাকসনের ব্যবসায়িক দূরদর্শিতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি সংগীতের কপিরাইট।
১৯৮৫ সালে মাইকেল প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে কিনেছিলেন এটিভি নামের একটি সংগীত ক্যাটালগ। এই সংগ্রহে ছিল প্রায় চার হাজার গানের অধিকার, যার মধ্যে জন লেনন ও পল ম্যাককার্টনির লেখা বহু বিটলসের গানও ছিল।
তখন অনেকেই বিষয়টিকে শুধু একটি ব্যয়বহুল বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছিলেন।
কিন্তু সময় প্রমাণ করে, সেটি ছিল সংগীত ব্যবসার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
পরে সনির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই ক্যাটালগের মূল্য আরও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট তাদের অংশ সনির কাছে বিক্রি করে প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে।
একসময় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের বিনিয়োগ—পরবর্তী সময়ে শত শত কোটি ডলারের ব্যবসার ভিত্তি।
আবারও ৬০ কোটি ডলারের চুক্তি
মৃত্যুর বহু বছর পরও মাইকেলের সংগীতের মূল্য কমেনি। বরং বেড়েছে। ২০২৪ সালে তাঁর এস্টেট তাঁর নিজস্ব সংগীত, মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনা অধিকার–সংক্রান্ত সম্পদের ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব সনির কাছে বিক্রি করে প্রায় ৬০ কোটি ডলারে।
এই চুক্তি মাইকেল জ্যাকসনের সংগীতসম্পদের মূল্যকে প্রায় ১২০ কোটি ডলারের পর্যায়ে নিয়ে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
অবশ্য এই চুক্তি নিয়ে পারিবারিক ও আইনি বিতর্কও হয়েছিল। মাইকেলের মা ক্যাথরিন জ্যাকসন এর বিরোধিতা করেছিলেন। পরে আদালত এস্টেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
তবে এ ঘটনা একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেয়—মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর দেড় দশক পরও তাঁর সংগীতের অধিকার বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি।
ব্রডওয়েতে মাইকেল, লাস ভেগাসে মাইকেল
মাইকেল জ্যাকসনের আয় শুধু গান শোনা বা রেকর্ড বিক্রির ওপর নির্ভর করে না।
মাইকেলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে বিশাল লাইভ বিনোদন ব্যবসা। ‘এমজে: দ্য মিউজিক্যাল’ ব্রডওয়েতে মাইকেল জ্যাকসনের জীবন ও সংগীত নিয়ে তৈরি একটি সফল প্রযোজনা। ২০২২ সালে শুরু হওয়ার পর এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্রে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন নতুন প্রযোজনার পথ খুলে দিয়েছে।
ফোর্বসের হিসাবে, এই মিউজিক্যালের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযোজনা মিলিয়ে টিকিট বিক্রির পরিমাণ শত শত মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে লাস ভেগাসে দীর্ঘদিন ধরে চলছে ‘মাইকেল জ্যাকসন ওয়ান’। সার্ক দু সোলেইলের এই শো মাইকেলের গান, নাচ ও দৃশ্যভাষাকে নতুন প্রজন্মের দর্শকের সামনে তুলে ধরছে।
শোটি ইতিমধ্যে পাঁচ হাজারের বেশি প্রদর্শনী করেছে এবং এর মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এক গান, কোটি কোটি শ্রোতা
মাইকেল জ্যাকসনের সবচেয়ে বড় সম্পদ অবশ্য তাঁর গান। তাঁর গান আজও পপ সংস্কৃতির অংশ। হ্যালোইন এলেই গানটি নতুন করে ফিরে আসে। নতুন প্রজন্মের নৃত্যশিল্পীরা অনুকরণ করে এর বিখ্যাত জম্বি নাচ।
ডিজিটাল যুগ মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেটের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করেছে।
একসময় গান বিক্রি হতো ক্যাসেট, সিডি বা রেকর্ডে। এখন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে একটি গান বারবার শোনা হলেই তৈরি হয় রয়্যালটির নতুন উৎস।
অর্থাৎ মাইকেলের ১৯৮০ বা ১৯৯০-এর দশকের গান এখন ২০২৬ সালের এক কিশোরও শুনছে। নতুন শ্রোতা তৈরি হচ্ছে, আর পুরোনো গানও নতুন করে আয় করছে।
মৃত্যুর পরের এই দীর্ঘস্থায়ী আয়ের অন্যতম বড় রহস্য এখানেই।
নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন মাইকেল
মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট শুধু পুরোনো ভক্তদের ওপর নির্ভর করছে না। তাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য নতুন প্রজন্ম।
২০২৬ সালে মুক্তি পেয়েছে মাইকেল জ্যাকসনকে নিয়ে বহুল প্রতীক্ষিত জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘মাইকেল’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন অঁতোয়ান ফুকুয়া, আর মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর ভাতিজা জাফর জ্যাকসন।
ছবিটি শুধু একটি সিনেমা নয়; ব্যবসার দৃষ্টিতে এটি মাইকেল জ্যাকসন ব্র্যান্ডের নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর বড় মাধ্যম।
ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি সফল জীবনীচিত্র শুধু বক্স অফিস থেকে অর্থ আনে না। এর প্রভাব পড়ে সংগীত স্ট্রিমিংয়ে, পুরোনো অ্যালবাম বিক্রিতে, মার্চেন্ডাইজে, মঞ্চনাট্য ও অন্যান্য বিনোদন ব্যবসায়ও।
অর্থাৎ একটি সিনেমা মুক্তির পর মানুষ আবার ‘থ্রিলার’ শুনতে শুরু করতে পারে, নতুন করে ‘ব্যাড’ অ্যালবাম কিনতে পারে, মিউজিক্যালে যেতে পারে।
এ কারণেই মাইকেল জ্যাকসনের নাম এখনো একটি চলমান ব্যবসা।
মৃত্যুর পরও কেন এত আয়
এর উত্তর খুঁজতে গেলে কয়েকটি বিষয় সামনে আসে। প্রথমত, তাঁর গান সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয়নি। নতুন প্রজন্মও তাঁকে আবিষ্কার করছে।
দ্বিতীয়ত, মাইকেল জ্যাকসন শুধু গায়ক ছিলেন না। তাঁর নাচ, পোশাক, মিউজিক ভিডিও—সব মিলিয়ে তিনি একটি বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রতীক।
তৃতীয়ত, মাইকেল জীবদ্দশায় অত্যন্ত মূল্যবান সংগীতসম্পদের মালিক হয়েছিলেন। মৃত্যুর পর সেই সম্পদ সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে। চতুর্থত, তাঁর নামকে শুধু সংগীতের মধ্যে আটকে রাখা হয়নি। সিনেমা, মিউজিক্যাল, সার্কাস শো, লাইসেন্সিং ও অন্যান্য ব্যবসায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে আছে নস্টালজিয়া। মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে কয়েক প্রজন্মের মানুষের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কারও কৈশোর, কারও প্রথম মিউজিক ভিডিও দেখা, কারও নাচ শেখা—সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর নাম। সেই আবেগেরও একটি অর্থনৈতিক মূল্য আছে।
জীবিত না থেকেও সবচেয়ে বড় তারকা
মাইকেল জ্যাকসন মারা গেছেন ১৭ বছর আগে। কিন্তু তাঁর জন্মদিন এখনো বিশ্বজুড়ে উদ্যাপিত হয়। তাঁর গান বাজে রেডিওতে। তাঁর নাচ নকল করে নতুন প্রজন্ম। তাঁর পোশাক অনুকরণ করা হয়। তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি হয় সিনেমা ও মঞ্চনাটক।
আর অর্থের হিসাবে?
২০২৫ সালে মৃত তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেছেন তিনিই—প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। মৃত্যুর পর তাঁর এস্টেটের মোট আয় ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি।
একসময় বিপুল ঋণের ভারে থাকা শিল্পীর রেখে যাওয়া সম্পদ আজ বিনোদন ব্যবসার সবচেয়ে সফল এস্টেটগুলোর একটি।
মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত গানগুলোর একটি ছিল ‘ম্যান ইন দ্য মিরর’। সেখানে তিনি পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। হয়তো তাঁর নিজের গল্পও একধরনের পরিবর্তনের গল্প। মাইকেল জ্যাকসন মারা গেছেন, কিন্তু মাইকেল জ্যাকসনের গল্প এখনো শেষ হয়নি।
বিলবোর্ড, ফোর্ডস ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে