জিমে ব্যায়াম করার সময় অসুস্থ হয়ে জসিমপুত্রের মৃত্যু, কী হয়েছিল সেদিন

জিমে আকস্মিক হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট, বেজিস্ট ও শব্দ প্রকৌশলী এ কে রাতুলছবি: ফেসবুক থেকে

রক ব্যান্ড ওন্ডের ভোকালিস্ট, বেজিস্ট ও শব্দ প্রকৌশলী এ কে রাতুলকে হারানোর এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৫ সালের এই দিনে রাজধানীর উত্তরার একটি জিমে ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাতুলের মৃত্যুর খবর প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছিলেন ওন্ড ব্যান্ডের গীতিকার সিয়াম ইবনে আলম। তিনি জানিয়েছিলেন, জিমে ব্যায়ামের সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন রাতুল। তাৎক্ষণিক তাঁকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে লুবানা জেনারেল হাসপাতাল ও কার্ডিয়াক সেন্টারের আইসিইউতে নেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফেরানো যায়নি। তাঁর মৃত্যুর কারণ হৃদ্‌রোগ।

রাতুল ছিলেন প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের তিন সন্তানের মধ্যে মেজ। তাঁর বড় ভাই এ কে সামী ‘ওন্ড’ ব্যান্ডের ড্রামার। ছোট ভাই এ কে রাহুল সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত, তিনি ‘ট্রেনরেক’ ও ‘পরাহো’ ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

রাতুলের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন তাঁর ভাই, সংগীতশিল্পী এ কে রাহুল। তিনি জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে আজ দুপুরে রাতুলের কবর জিয়ারত করা হবে। পাশাপাশি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় সহয়তা, দোয়া ও খাবারের আয়োজন করা হয়েছে।

এ কে রাতুল। শিল্পীর ফেসবুক থেকে

শ্রোতাদের কাছে ওন্ড ব্যান্ডের আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২০১৪ সালে ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম ‘ওয়ান’, ২০১৭ সালে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘টু’ এবং ২০২১ সালে ‘ইপি এইটিন’ প্রকাশিত হয়। ওন্ডের পাশাপাশি রাতুল অর্থহীনের ‘ফিনিক্সের ডায়েরি-১’-এর শব্দ প্রকৌশলীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

আরও পড়ুন

রাতুলের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছিলেন দেশের সংগীতশিল্পী ও তাঁর ভক্ত-শ্রোতারা। সংগীতাঙ্গনে তিনি পরিচিত ছিলেন একজন দক্ষ শব্দ প্রকৌশলী হিসেবে।
মৃত্যুর পর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের পার্ক মসজিদে রাতুলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বনানীতে বাবা, প্রয়াত চিত্রনায়ক জসীমের কবরেই তাঁকে দাফন করা হয়।
মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ১৯৯৮ সালের ৮ অক্টোবর মারা যান চিত্রনায়ক জসীম। বাবার মৃত্যুর প্রায় ২৭ বছর পর অকালেই চলে যান তাঁর ছেলে রাতুলও।