‘বড় মামা’ রহস্য! আসলেই কি প্রেমে প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন মিনার
তারকাদের প্রেমে ভক্তদের পড়ার গল্প যেমন প্রায়ই শোনা যায়, তেমনি তারকারাও মাঝেমধ্যে জানান তাঁদের প্রেমে পড়ার গল্প, কখনো তারকা হওয়ার আগে, কখনোবা তারকা হওয়ার পরে। এমনই এক প্রেম হয়েছিল তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় গায়ক, সুরকার মিনার রহমানের জীবনে। তবে এই প্রেম বেশি দিন টেকেনি। সেই প্রেমের গল্পই এখন তাঁর জীবনে প্রতারণার গল্প হয়ে রয়ে গেছে। গল্পটি মিনার শেয়ার করেছেন তাঁর ফেসবুকে। তবে এই গল্প কখনো কাউকে জানাতে হবে—এমনটি ভাবেননি বলেও জানিয়েছেন মিনার।
এদিকে কয়েক দিন ধরে মিনার রহমানের একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, মিনার একজন নারীকে একের পর এক খুদে বার্তা পাঠাচ্ছেন, কিন্তু কোনো উত্তর আসছে না। এ নিয়ে যখন কানাঘুষা চলছিল, ঠিক তখনই মিনার তাঁর প্রথম প্রেমের গল্পটা ফেসবুকে শেয়ার করলেন। ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি তাঁর জীবনের প্রথম প্রেমের গল্পটি জানিয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত প্রতারণার স্মৃতি হয়ে আছে।
মিনার লিখেছেন, জীবনের এই ছোট কিন্তু সত্য গল্পটি কখনো প্রকাশ করবেন—এমনটা তিনি ভাবেননি। কিন্তু বহু বছর পর পবিত্র রমজান মাসের এক নির্জন মধ্যরাতে হঠাৎ মনে হলো, গল্পটি সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া উচিত।
সংগীতজীবন শুরু হয়েছিল মিনার রহমানের অল্প বয়সেই। স্কুলজীবনেই তিনি লিখেছিলেন, সুর করেছিলেন এবং কণ্ঠ দিয়েছিলেন তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘ডানপিটে’র (২০০৮) গানগুলোতে। তখন নবম-দশম শ্রেণিতে পড়তেন। এসএসসি পরীক্ষার পরপরই অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়। অ্যালবামের ‘সাদা’ গানটি বিশেষ জনপ্রিয় হয় এবং অল্প সময়েই মিনার পরিচিতি পান শ্রোতাদের মধ্যে। এর কিছুদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের সময়টাকে তিনি জীবনের অন্যতম সুন্দর সময় বলে মনে করেন। নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ—সব মিলিয়ে জীবনে রঙিন এক অধ্যায়ের সূচনা।
এ সময় প্রথমবার প্রেমে পড়েন মিনার। তাঁর ভাষ্য অনুসারে, তখন তিনি ২০ বছরে পড়েছেন। যাঁকে ভালোবেসেছিলেন, তিনি পড়তেন অন্য একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছয় থেকে সাত মাস স্থায়ী ছিল সেই সম্পর্ক। শুরুর দিকে সম্পর্কটি খুবই সুন্দর ছিল বলে জানান মিনার। তবে ধীরে ধীরে একটি বিষয় নজরে আসে। যতবার তাঁরা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেখা করতেন, মেয়েটির ফোনে প্রায়ই ‘বড় মামা’ নামে কারও কল আসত। তিনি সব সময় বলে রাখতেন, পরে বাসায় গিয়েই কথা বলবেন।
মিনার প্রথমে বিষয়টি নিয়ে খুব একটা ভাবেননি। ধারণা ছিল, পরিবারের সদস্য তো যেকোনো সময় ফোন করতেই পারেন। কিন্তু একদিন একটি রেস্টুরেন্টে বসে থাকা অবস্থায় ঘটনাটি তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি করে। মিনার জানান, সেদিন মেয়েটির ফোন টেবিলের ওপর রাখা ছিল। হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে—‘বড় মামা’ কল করছেন। কল এলেও মেয়েটি ফোন ধরেননি। কিছুক্ষণ পর কোনো কথা না বলেই রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যান তিনি। সেদিনই প্রথমবার সন্দেহ হয়—এই ‘বড় মামা’ আসলে কে?
ফোনের স্ক্রিনে নম্বরটি দেখেন মিনার। সন্দেহ দূর করতে তিনি নম্বরটি মনে রাখেন। পরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, যাঁর নম্বর ‘বড় মামা’ বলে ফোনে সেভ করা ছিল, তিনি ছিলেন ওই মেয়ের সাবেক প্রেমিক। এভাবেই তাঁর প্রথম প্রেমের সমাপ্তি হয়।
মিনার লিখেছেন, ওই ঘটনার পর থেকে ‘বিশ্বাস’ শব্দটি তাঁর কাছে অনেকটা মিথের মতো হয়ে গিয়েছিল। জীবনে তখন নতুন একটি শব্দের সঙ্গে পরিচয় হয়—‘চিট’ বা প্রতারণা। তবে তিনি জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মানুষটিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। যদিও ঘটনাটি ভুলে যাননি। মিনার বলেন, ‘সে যেখানে থাকুক, ভালো থাকুক—এই কামনাই করি।’
জীবনের এই স্মৃতি মনে পড়লে কখনো হাস্যকর মনে হয়, আবার কখনো করুণও মনে হয় বলে উল্লেখ করেছেন এই সংগীতশিল্পী। একই সঙ্গে তিনি দোয়া করেছেন, ‘যেন অন্য কেউ জীবনে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হয়।’