বাপ্পা মজুমদারের শ্রোতাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা কি বেশি? শিল্পী বললেন...
আড়াই বছর পর বড় পরিসরে একক কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন বাপ্পা মজুমদার। আজ ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় কনসার্ট ‘মুনলাইট মেলোডিজ’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বছর ত্রিশেক আগে যে টিনএজাররা ক্যাসেট জমাতেন, তাঁরা আজ পূর্ণ বয়স্ক। ক্যাসেট, সিডি হয়ে গানও এর মধ্যে স্ট্রিমিং দুনিয়ায় ঢুকে পড়েছে। নতুন প্রজন্মের গানের ধরন, পছন্দের শিল্পীর সঙ্গে তিন দশক আগের বাপ্পা মজুমদারের শ্রোতাদের তফাত থাকার কথা। তবু ‘মুনলাইট মেলোডিজ’ কনসার্টের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই কনসার্টটি নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংগীতশিল্পী জয় শাহরিয়ারও নিজের ফেসবুকে টিকিটের ছবি পোস্ট করেছেন। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে চিন্তার ভাঁজের মধ্যেও কি তবে গান নিয়ে আগ্রহী শ্রোতারা?
‘মানুষ আসলে গান শুনতে চায়। আমি এর আগে যে একক অনুষ্ঠান করেছিলাম, সেখানেও তার প্রমাণ পেয়েছিলাম; এবারও পাচ্ছি,’ গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলছিলেন বাপ্পা মজুমদার।
বাপ্পা মজুমদারের সবশেষ একক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদকও ছিলেন। টিনএজার থেকে মধ্যবয়স্ক—প্রায় সব বয়সী শ্রোতাই ছিলেন। তবে কি ২০–৩০ বছর পরও নতুন নতুন শ্রোতা খুঁজে নিচ্ছে বাপ্পার গান? শিল্পী বলছিলেন, ‘আমার যখন যেটা মনে হয়, সেভাবে গানটা করি। সম্প্রতি যেমন সময় নিয়ে একটা গান লিখলাম। সময় যে বয়ে যাচ্ছে, এটা আমাদের মাথায় থাকে না...। আসলে গানটা নিজের সঙ্গে কানেক্ট করলে মানুষকে মানুষ পছন্দ করে। কথা, সুর, অ্যারেঞ্জমেন্ট, গাওয়া—সবকিছু মিলেই পছন্দ করে মানুষ। সে কারণে গানটার একধরনের আবেদন থাকে। আসলে একটা গান কত দিন স্থায়ী হবে, সেটা তো বলা যায় না।’
‘পরী’, ‘দিন বাড়ি যায়’, ‘সূর্যস্নান’, ‘রাতের ট্রেন’, ‘বাজি’, ‘লাভ-ক্ষতি’, ‘আমার চোখে জল’, ‘ছিল গান ছিল প্রাণ’, ‘জোছনা বিহার’, ‘কোথাও কেউ নেই’ থেকে ‘বৃষ্টি’। প্রকৃতি, উদ্যাপন, প্রেম, না পাওয়ার বেদনা আর নাগরিক বিষণ্নতা মিলিয়েই বাপ্পা মজুমদারের গান। বাপ্পা মনে করেন, ‘নিজের সঙ্গে গানের ভাবনাটা মিলে গেলে শ্রোতারা একাত্মবোধ করেন। আমার গানেও প্রেম আছে, বেদনা আছে, প্রকৃতি আছে, নিত্যদিনের ঘটে যাওয়ার ঘটনা আছে; যা মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাপনের অংশ।’
বাপ্পা মজুমদারের গানের আরেক বৈশিষ্ট্য, শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে পাশ্চাত্যের যোগ। ছোটবেলায় বাবা বরেণ্য সংগীতজ্ঞ বারীণ মজুমদার প্রতিষ্ঠিত মনিহার সংগীত একাডেমিতে পাঁচ বছর শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিয়েছেন। আবার ছোটবেলায় ভাই পার্থপ্রতিম মজুমদার ও তাঁর বন্ধুদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পাশ্চাত্য গান শোনার সুযোগ হয়েছিল। একই সঙ্গে শুনেছেন ভূপেন হাজারিকা, মান্না দে, কিশোর কুমারের মতো শিল্পীদের গান। এসব অভিজ্ঞতা মিলেমিশেই পরে তৈরি হয়েছে তাঁর নিজস্ব সংগীতভাষা।
বাপ্পা মজুমদারের শ্রোতাদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা কি বেশি? শুনেই হেসে উঠলেন গায়ক। বললেন, ‘আমার সে রকম মনে হয় না। ছেলে–মেয়ে উভয়ই আমার গান পছন্দ করেন। নারী ভক্ত নাকি পুরুষ ভক্ত বেশি; এভাবে কখনো চিন্তা করিনি।’
স্ট্রিমিংয়ের যুগে বাপ্পা কি সিডি–ক্যাসেটের যুগ মিস করেন? প্রশ্নটা করার কারণ গত বছর ভার্টিক্যাল হরাইজন; সেই সময় এই সময় নামে সিডি প্রকাশ করেছিলেন গায়ক। ‘আমার মনে হয়, সিডি শ্রোতাদের সঙ্গে একধরনের মনস্তাত্ত্বিক যোগাযোগ তৈরি করে। সেই ভাবনা থেকেই সিডি করেছিলাম। আমি জানি না, সিডি নিয়ে কোথায় শুনবেন। যদি সুযোগ থাকে, শুনলে আপনারা সেই আগের অনুভূতি পাবেন,’ বলেন বাপ্পা।
আলাপের শেষে জানালেন, আজকের অনুষ্ঠানে তাঁর নিজের পরিচিত গানগুলোই গাইবেন। সঙ্গে কয়েকটি ইংরেজি গানের কাভার করতে পারেন। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। কনসার্টের শিরোনাম ‘মুনলাইট মেলোডিজ’; বাপ্পার গানের ‘জোছনা বিহার’ কতটা হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষা।