শুভ্র দেবের মতে যে কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশ হারল

শুভ্র দেবপ্রথম আলো

সংগীতশিল্পী শুভ্র দেব এই মুহূর্তে আছেন যুক্তরাষ্ট্রে। ক্রিকেট–ভক্ত শুভ্র দেব সোমবার বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার খেলা মাঠে বসে দেখার সুযোগ হারাতে চাননি। এর আগেও অনেকবার তাঁকে ক্রিকেট মাঠে পাওয়া গেছে। গেয়েছেন ক্রিকেট নিয়ে গানও। তবে বাংলাদেশ দলের গতকালের হারটা মেনে নিতে পারেননি এই সংগীতশিল্পী।  
কেন বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারল এবং কারা খেলায় আরেকটু ভালো করলে নিজ দেশের দলটির ফলাফল অন্য রকম হতে পারত মনে করছেন শুভ্র দেব। বাংলাদেশ দলের হার নিয়ে শুভ্র দেব ফেসবুকে, ‘আমরা কেনো দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে হেরে গেলাম?’ এমন শিরোনামে একটি লেখা লিখেছেন।
শুভ্র দেব লিখেছেন, ‘হাথুরুসিংহে কি বাংলাদেশের দলকে পাকিস্তান–ভারতের খেলাটা মনোযোগ দিয়ে আবার দেখতে বা পর্যালোচনা করতে বলেছিলেন? মনে তো হয় না। নিউইয়র্কের এই অসম বাউন্সি পিচে কি আমরা হুক বা পুল শট খেলতে পারব? আমাদের টিমের দুই ‘এস’ (শান্ত ও সাকিব)–এর কাছে আমার প্রশ্ন। শান্ত আর সাকিবের আউট দেখলেই আমার কথার গুরুত্ব বুঝতে পারবেন।’

শুভ্র দেব তাঁর কথায় সাকিবের বোলিংয়ের ধার কমে গেছে বলেও মনে করছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সাকিবে বলের ধারও কমে গেছে। লো স্কোরিং ম‍্যাচে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তিন ওভারে প্রায় তিরিশ রান দিয়েছে। সাউথ আফ্রিকার সঙ্গেও কোনো পেনিট্রেশন ছিল না বোলিংয়ে। আসলে খেলাকে এনজয় করতে হয়। সাকিব এখন ক্রিকেট খেলা থেকে ব‍্যবসাটাই বেশি এনজয় করে। তাই এই টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর তাঁর ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিংয়েও প্রভাব পড়বে।’

শুভ্র দেব
সংগৃহীত

সাকিবের খেলায় সন্তুষ্ট হতে না পারলেও তৌহিদ হৃদয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন শুভ্র দেব। তিনি লিখেছেন,‘তৌহিদ হৃদয় অসাধারণ। তার টাইমিং শট সিলেকশন দেখার মতো। তার আত্মবিশ্বাস সবাইকে তাক লাগায়। তার একটি কাভার ড্রাইভ আজকের খেলায় সম্ভবত পুরো টুর্নামেন্টের সেরা শট মনে হয়েছে আমার।’

বাংলাদেশ দলের হার নিয়ে শুভ্র দেব লিখেছেন, ‘ভারত–পাকিস্তান ও বাংলাদেশ–দক্ষিণ আফ্রিকার ম‍্যাচের পনেরো ওভারের পর ৮০–এর বেশি রান চার উইকেটে, এতই মিল! পরে যারা ব‍্যাট করছে মনে হয়েছিল, একটা পর্যায়ে ওরাই জিতবে। কিন্তু বিধি বাম। পনেরো ওভারের পর হাতে আমাদের এতগুলো উইকেট থাকা সত্ত্বেও আমরা হার্ডলাইনে যেতে পারিনি। আঠারোতম ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ কাভারের ওপর দিয়ে একটা ইনসাইড আউট শট খেলতে পারতেন। এই শটের একটা বিশেষত্ব হলো, শর্টকাভারে ফিল্ডার থাকে আর তার মাথার ওপর দিয়ে তাই সহজেই চার রান পাওয়া যায়।’

শুভ্র দেব তাঁর ফেসবুক পোস্টে এ–ও লিখেছেন, ‘এই ম‍্যাচে কাউকেই কোনো ইম্প্রোভাইজ শট মারতে দেখা যায়নি। আমরা যদি রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, রবিন্দ্র জাদেজা ও হার্দিক পান্ডিয়ার আউট দেখি, তাহলেই বুঝতে পারব এই পিচে আছে অসম বাউন্স। লিটন কুমার দাস আবারও বলের বাউন্স রিড করতে পারলেন না। ক‍্যাচ মিসটাও ছিল দুর্ভাগ‍্যজনক। ওর পারফরম‍্যান্স হতাশাজনক। মাহমুদল্লাহ রিয়াদ আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন, তাঁকে অভিনন্দন। জাকের আলী ও রিশাদ যদি বিগ শটে না গিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে যদি তাকে স্ট্রাইক দিত, তাহলে হয়তোবা আমরা আজ জয়ী হয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকতাম। জাকের আলীকে এই ম‍্যাচে রাখা কতটুকু যৌক্তিক ছিল, জানি না। তবে ডাগ আউটে আমাদের হাথুরুসিংসহ অনেক তারকার টেনশনলেস চেহারা ক‍্যামেরার ক্লোজ শটে মনে হচ্ছিল, আমরা প্র্যাকটিস ম‍্যাচ খেলছি। বিশেষ করে ১৯ ও ২০তম ওভারে আমাদের দলের একজন সুপারস্টারের মুচকি হাসি দেখে মনে হলো, তিনি কি সত‍্যি দেশ বা খেলা নিয়ে ভাবেন। হয়তোবা ভাবছেন নেপাল, নেদারল‍্যান্ডসের সঙ্গে তো আমরা জিতবই। সেই অপেক্ষাতেই থাকলাম।’