‘রাস্তায় হত্যা করো’ গান পোস্টের দুই ঘণ্টার মধ্যেই গুলিতে মারা গেলেন সেই গায়ক

অঙ্কিত বালিয়ান। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন হরিয়ানভি ভাষার গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ান। গাড়িতে বসে তাঁকে একটি গান গাইতে দেখা যায়। গানের কথায় ছিল—‘মার্ডার মার দে সড়ক কে ওপর’, যার অর্থ ‘রাস্তায় হত্যা করো’। সেই ভিডিও পোস্টের কিছুক্ষণ পরই উত্তর প্রদেশের শামলিতে জিম থেকে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন অঙ্কিত। ফলে তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্টটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বুধবার সন্ধ্যায় শামলি শহরের আর্যপুরী নালা পাটরির কাছে একটি জিম থেকে বের হয়ে গাড়িতে উঠছিলেন অঙ্কিত। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন হামলাকারী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা ১৮ থেকে ২০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় অঙ্কিতকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

অঙ্কিতের বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি হরিয়ানভি সংগীতের পাশাপাশি ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ পরিচিত ছিলেন। ‘ভরি কোর্ট মে গোলি মারেঙ্গে মেরি জান’সহ তাঁর বেশ কিছু গানে অস্ত্র, সংঘর্ষ ও গ্যাংস্টার সংস্কৃতির উপাদান দেখা গেছে। ৫০টির বেশি গানে কাজ করেছিলেন তিনি।

অঙ্কিত বালিয়ান। শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শেষ ভিডিও ঘিরে আলোচনা
হত্যার আগে অঙ্কিতের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওটি এখন নতুন করে নজর কেড়েছে। ভিডিওতে গাড়িতে বসে তিনি যে গানটি গাইছিলেন, তার একটি লাইনে ছিল ‘মার্ডার মার দে সড়ক কে ওপর’। ভিডিওটি প্রকাশের প্রায় দুই ঘণ্টা পরই তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময়ের ব্যবধানই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তবে শেষ ভিডিওটির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ হত্যার কারণ খুঁজতে অঙ্কিতের পুরোনো বিরোধ, হুমকি এবং তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম—সবকিছুই খতিয়ে দেখছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, হামলাটি পরিকল্পিত হতে পারে। অঙ্কিতের গতিবিধি সম্পর্কে হামলাকারীদের আগে থেকেই ধারণা ছিল কি না, তা জানতে জিম ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি অঙ্কিতের অবস্থান ও দৈনন্দিন চলাফেরার তথ্য তাদের কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আরও পড়ুন

হুমকি পাওয়ার অভিযোগও তদন্তে
অঙ্কিতের পরিবার জানিয়েছে, এর আগে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এক ব্যক্তির নামও পুলিশকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় এক মাস আগে অঙ্কিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে অভিযোগ করেছিলেন, হরিয়ানার কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করছেন। তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কথাও বলেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হত্যার পর অঙ্কিতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধও করা হয়। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ আপাতত হত্যার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ চূড়ান্ত করেনি। পুরোনো বিরোধ, হুমকি, অর্থসংক্রান্ত বিষয় কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব দিকই তদন্ত করা হচ্ছে। ফলে মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে প্রকাশিত সেই ‘মার্ডার’ গানটি আপাতত একটি আলোচিত কাকতালীয় ঘটনা হিসেবেই সামনে এসেছে; এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে