‘মুখের সব অংশ ধুলেও, শুধু ঠোঁট বাদ দিতাম’, পল ম্যাকার্টনির চুমুর স্মৃতি ভক্তের
‘দ্য বিটলস’ কিংবদন্তি পল ম্যাকার্টনির ৮৪তম জন্মদিন আজ। ১৯৪২ সালের ১৮ জুন জন্ম নেওয়া এই ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী বিটলস, উইংস ও একক ক্যারিয়ারে অসংখ্য কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। জন্মদিন উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক তাঁর জন্মদিনের এক ব্যতিক্রমী আয়োজনকে।
১৯৬৪ সালে পল ম্যাকার্টনির ২২তম জন্মদিনের সময়ে ‘দ্য বিটলস’ তখন অস্ট্রেলিয়া সফরে। পরিকল্পনা করা হয় ব্যতিক্রমী এক জন্মদিনের পার্টির। ‘দ্য বিটলস ডাউন আন্ডার’ (১৯৮২) বই এবং সমকালীন বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই পার্টির আয়োজন করে সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডেইলি মিরর’। অনুষ্ঠানটি সিডনির একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিটলসের ম্যানেজার ব্রায়ান এপস্টাইন।
পত্রিকাটি ১৬ থেকে ২২ বছর বয়সী তরুণীদের জন্য একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের ৫০ শব্দের একটি প্রবন্ধ লিখতে বলা হয় ‘কেন আমি বিটলসের জন্মদিনের পার্টির অতিথি হতে চাই’। এই প্রতিযোগিতায় ১০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়ে। বিচারকদের মধ্যে ছিলেন বিটলসের প্রেস অফিসার ডেরেক টেইলর, কৌতুকশিল্পী ডেভ অ্যালেন ও পত্রিকার কয়েকজন সম্পাদক।
প্রথমে ১৫ জনকে নির্বাচিত করার কথা থাকলেও পরে বিটলসের সিদ্ধান্তে আরও দুজনকে যুক্ত করা হয়। ফলে মোট ১৭ জন তরুণী ভক্ত জন্মদিনের পার্টিতে আমন্ত্রণ পান। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁদের নির্বাচন করা হয়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিলেন ১৬ বছর বয়সী জ্যানেট ক্যারল। জন লেননের লেখার ধরন অনুকরণ করে নিজের প্রবন্ধ লেখেন, যা তাঁকে নির্বাচিত হতে সাহায্য করে বলে জানা যায়।
বিটলস সদস্যরা পার্টিতে এসে প্রত্যেক অতিথির সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন। জ্যানেট ক্যারল পরে স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘পল, জর্জ ও রিঙ্গো সবার সঙ্গে মিশেছিলেন, আর জন লেনন শুরুতে কিছুটা লাজুক ছিলেন।’
জ্যানেট আরও বলেন, ‘সবাই নাচলেও জন লেননকে নাচতে দেখছিলাম না। তাই মজা করে জিজ্ঞেস করি, “আপনি কি নাচতে জানেন না? আমি তো ভেবেছিলাম সব ইংরেজই নাচতে পারে।” এতে জন হেসে ওঠেন, আর আমার সঙ্গে নাচতে রাজি হন। উজ্জ্বল লাল পোশাক দেখে জন আমার ডাকনাম দেন “রেড ডেভিল”।’
পার্টি আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হওয়ার পর আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতিথিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিটলস সদস্যরা তখন অনেক বেশি স্বাভাবিক ও বন্ধুসুলভ ছিলেন। রিঙ্গো স্টার নানা রসিকতা করছিলেন, আর পল ম্যাকার্টনি নাচ ও আড্ডায় সবার মন জয় করেন।
আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হলে পার্টি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অতিথিদের মতে, বিটলসের সব সদস্য তখন অনেক বেশি বন্ধুসুলভ আচরণ করছিলেন। রিঙ্গো স্টার নানা রসিকতা করছিলেন, আর পল ম্যাকার্টনি নাচ ও আড্ডায় সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।
রাত শেষে বিদায়ের সময় জ্যানেট পল ম্যাকার্টনির সঙ্গে করমর্দনের বদলে গালে চুমু দেওয়ার ইঙ্গিত করেন। তখন পল তাঁর মুখ ঘুরিয়ে জ্যানেটের ঠোঁটে একটি চুমু দেন। বহু বছর পরে জ্যানেট স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘শুনতে হাস্যকর লাগতে পারে, কিন্তু পরের দুই সপ্তাহ আমি মুখের সব অংশ ধুলেও, শুধু ঠোঁট বাদ দিতাম।’
অন্য এক বিজয়ী স্যান্ড্রা লিংকলেটার ছিলেন নার্সিং শিক্ষার্থী। তিনি জানান, পার্টিতে যাওয়ার আগে তাঁর বাবা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খোঁজ নিয়েছিলেন কোথায় অনুষ্ঠান হবে এবং কারা উপস্থিত থাকবেন। পার্টি শেষে তিনি হাসপাতালে ফিরে এত মানুষের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন যে পরবর্তী কয়েক বছর সবাই তাঁকে ‘দ্য বিটলস নার্স’ নামে চিনত।
আমেরিকান সংরাইটার ম্যাগাজিন অবলম্বনে