ঘোড়া থেকে ফেলে দেওয়া ও চুম্বন–বিতর্কে বারবার আলোচনায়, কে এই নন্দিনী
‘বিগ বস বাংলা ৩’–এ নন্দিনী দত্ত এখন আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রে। কখনো ক্যাপ্টেন্সি টাস্কে সহপ্রতিযোগী সৃজলা গুহকে ঘোড়া থেকে ফেলে দেওয়ার ঘটনায়, কখনো রাজবীর দের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায়, আবার কখনো রান্নাঘরের ঝামেলায়—বারবারই উঠে আসছে তাঁর নাম। এর মধ্যেই রাজবীরের সঙ্গে চুম্বনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অভিনয়ের পরিচয়ের বাইরে রিয়েলিটি শোর বিতর্কই এখন নন্দিনীর পরিচিতির বড় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু কে এই নন্দিনী দত্ত? ‘বিগ বস’–এর ঘরে ঢোকার আগে টেলিভিশনে কী কাজ করেছেন তিনি?
অভিনয়ে পথচলা শুরু ২০১৯ সালে
নন্দিনী দত্ত পশ্চিমবঙ্গের বাংলা টেলিভিশন ও ওটিটির পরিচিত মুখ। তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু ২০১৯ সাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘এখানে আকাশ নীল’ দিয়ে অভিনয়ে যাত্রা শুরুর পর ধীরে ধীরে ছোট পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। পরে ‘বসন্ত বিলাস মেসবাড়ি’ ও ‘রামকৃষ্ণা’ ধারাবাহিকে কাজ করেন।
‘বসন্ত বিলাস মেসবাড়ি’তে নন্দিনী ছিলেন নিয়মিত অভিনয়শিল্পীদের একজন। সিরিজটির ২০২১ থেকে ২০২২ সালের প্রচারে তিনি ১৯২টি পর্বে কাজ করেছেন। পরে ‘রামকৃষ্ণা’ ধারাবাহিকে কৃষ্ণা চরিত্রে অভিনয় করেন।
টেলিভিশনের পাশাপাশি ওয়েবেও কাজ করেছেন নন্দিনী। তাঁকে দেখা গেছে আলোচিত সিরিজ ‘বোধন’–এ। পরে ‘দুই শালিক’ ধারাবাহিকে ঝিলিক চরিত্রে অভিনয় করে আরও পরিচিতি পান তিনি। ২০২৫ সালে একটি সাক্ষাৎকারে নন্দিনী নিজেই বলেছিলেন, তাঁকে দেখে অনেকেরই মনে হয়েছিল, তিনি ‘হিরোইন ম্যাটেরিয়াল’ নন। সেই জায়গা থেকে ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
‘বিগ বস’–এ এসে বদলে গেল পরিচিতি
গত ৩০ আগস্ট শুরু হওয়া ‘বিগ বস বাংলা ৩’–এ প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দেন নন্দিনী। শুরুতে তাঁর পরিচয় ছিল অভিনেত্রী হিসেবে। কিন্তু রিয়েলিটি শোর ঘরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মতবিরোধ ও বিভিন্ন টাস্কে তাঁর আচরণ সামনে আসতে থাকায় দ্রুতই নন্দিনী হয়ে ওঠেন আলোচিত প্রতিযোগীদের একজন।
বিশেষ করে ওয়াইল্ড কার্ড হিসেবে রাজবীর দে ঘরে ঢোকার পর তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
রাজবীরের সঙ্গে সম্পর্ক–বন্ধুত্ব, না প্রেম
রাজবীর দে ঘরে ঢোকার পর থেকেই নন্দিনীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ক্যামেরায় ধরা পড়ে। দুজনের দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকা, কথাবার্তা ও একই বিছানায় সময় কাটানো নিয়ে ঘরের অন্য সদস্যদের মধ্যেও আলোচনা হয়েছে।
দর্শকদের একাংশ নন্দিনী ও রাজবীর জুটির নাম দিয়েছে ‘রাজনন্দিনী’। এমনকি নন্দিনীর মা পূজা দের হাতেও ‘রাজনন্দিনী’ লেখা ট্যাটু দেখা যাওয়ার দাবি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টিভি৯ বাংলা।
তবে নন্দিনী ও রাজবীরের সম্পর্ককে শুধু ‘প্রেম’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে সংজ্ঞায়িত করার মতো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তাঁদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি সম্পর্ক নিয়ে নন্দিনী ও রাজবীরের মধ্যে অভিমান ও মনোমালিন্য দেখা গেছে। আবার অল্প সময়ের মধ্যেই সেই দূরত্ব কমে গেছে।
তারপর সেই চুম্বন
রাজবীর–নন্দিনীর সম্পর্কের আলোচনা আরও তীব্র হয় সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। দুজনকে ‘বিগ বস’–এর ঘরের একটি দৃশ্যে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। রাজবীর নন্দিনীকে চুম্বন করেন।
এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের একাংশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁদের সম্পর্ককে স্বাভাবিক প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, রিয়েলিটি শোর ক্যামেরার সামনে এমন ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখানো কতটা প্রয়োজনীয়।
এর আগে রাজবীর–নন্দিনীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ঘরের ভেতরেও কথা হয়েছে। এমনকি রাজবীরকে কেন্দ্র করে নন্দিনী ও অন্য প্রতিযোগীদের মধ্যে কথা–কাটাকাটির খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক সৃজলাকে ঘিরে
তবে নন্দিনীকে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মুখে ফেলেছে সৃজলা গুহকে ঘিরে ক্যাপ্টেন্সি টাস্ক। টাস্কে প্রতিযোগীদের কাঠের ঘোড়ায় বসতে হয়েছিল। অন্যদের কাজ ছিল নির্দিষ্ট কৌশলে পছন্দের প্রতিযোগীকে এগিয়ে দেওয়া এবং অন্যদের নামানোর চেষ্টা করা। কিন্তু ‘বিগ বস’–এর নির্দেশ ছিল—কাউকে সরাসরি ধাক্কা, টানাটানি বা শারীরিকভাবে আঘাত করা যাবে না।
টাস্ক চলার সময় প্রথমে রাজবীরের ঘোড়া উল্টে দেন নন্দিনী। এরপর সৃজলার সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর কাঠের ঘোড়াটিও উল্টে দেন তিনি। সৃজলা মেঝেতে পড়ে গিয়ে ব্যথায় কাঁদতে থাকেন। পরিস্থিতি দেখে বিগ বস টাস্ক থামিয়ে তাঁকে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি প্রচারিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নন্দিনীর সমালোচনা শুরু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে শো থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও ওঠে। তবে নন্দিনীর টিম পরে একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এ ঘটনায় নন্দিনী নিজেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।
অন্যদিকে সৃজলার টিমের প্রতিক্রিয়া ছিল কঠোর। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খেলার কৌশলের নামে কারও শারীরিক ক্ষতি হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
রান্নাঘরেও নতুন ঝামেলা
সৃজলা–কাণ্ডের কয়েক দিন পরও আলোচনায় নন্দিনীর নাম থামেনি। ‘বিগ বস’–এর রান্নাঘরে খাবার নিয়ে মনামী ঘোষ ও রাজবীরের সঙ্গে তাঁর তুমুল কথা–কাটাকাটি হয়েছে। নন্দিনী তাঁদের ‘বেইমান’ বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সময়, সংবাদ প্রতিদিন ও টিভি৯ বাংলা অবলম্বনে