অনীক দত্তর শরীরে আঘাতের চিহ্ন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে
গতকাল বুধবার সকালে কলকাতার হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে পরিচালক অনীক দত্তের। পরিচালককে সংকটজনক অবস্থায় প্রথমে উদ্ধার করে ঢাকুরিয়াসংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তারপর বিকেলের দিকে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরিচালকের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট রাতে প্রকাশ্যে এসেছে।
সেখানেই জানা যাচ্ছে, পরিচালকের দেহে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। বাঁ দিকের মাথার খুলির হাড় ভাঙা। বাঁ দিকের পাঁজর ভেঙেছে। বাঁ দিকের পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। পরিচালকের বাঁ দিকের কোমরও ভেঙে গিয়েছে। বাঁ দিকের মুখ, পিঠ ও কোমরে তীব্র ঘর্ষণের চিহ্ন মিলেছে। এমনকি, ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধেছিল বলেও প্রাথমিক রিপোর্ট বলছে। পরিচালক চার তলার ছাদ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় আবাসনসংলগ্ন গাছের ডালসমেত ভেঙে মাটিতে পড়েন। মরদেহ আপাতত শায়িত এসএসকেএম হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, সেখানে রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গিয়ে প্রয়াত পরিচালকের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরিচালককে শ্রদ্ধা জানান।
পুলিশ সূত্রে খবর, একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার হয়েছে, যেটি মেয়ের উদ্দেশ্যে লেখা। মেয়ে সুইডেনে থাকেন। কাউকে দোষ দেওয়া হয়নি নোটে। ছাদে একটি ম্যাগাজিনের মধ্যে একটি খাম থেকে মিলেছে সেই নোট। সিসিটিভিতে পুরো ঘটনাটি দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। হিন্দুস্তান পার্কের আবাসনে ঢুকে প্রাক্তন স্ত্রীর ফ্ল্যাটে ঢোকেননি, বরং সোজা ছাদে উঠে যান অনীক। তারপরই ঘটে যায় এই অঘটন।
২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবির মাধ্যমে রাতারাতি খ্যাতির শীর্ষে উঠে আসেন অনীক। ভৌতিক কাহিনির আড়ালে রাজনৈতিক ও সামাজিক যে শ্লেষ উঠে এসেছিল, সেই ছবিতে, তা বাংলা ছবিতে ‘মাইলস্টোন’ বলে রসিকজনেরা মনে করেন। একই ধাঁচে তার পরের ছবি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এও একই বার্তা দিয়েছিলেন পরিচালক অনীক।
আনন্দবাজার পত্রিকা, সংবাদ প্রতিদিন অবলম্বনে