সোনালির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ কলকাতার বিনোদন অঙ্গন। শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘বিশিষ্ট অভিনেত্রী সোনালি চক্রবর্তীর প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি।....তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র “দাদার কীর্তি”, “সংসার সংগ্রাম” ইত্যাদি।

চলচ্চিত্র ছাড়াও “জননী”, “গাঁটছড়া” ইত্যাদি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালে তিনি অভিনয় করেছেন।...তাঁর মৃত্যু অভিনয়জগতের এক বড় ক্ষতি। আমি সোনালি চক্রবর্তীর স্বামী শংকর চক্রবর্তীসহ অন্যান্য পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’

নব্বইয়ের দশকের একাধিক বাংলা ছবিতে অভিনয় করার পরও ২০০২ সালে ‘হার জিত’, ২০০৮ সালে ‘বন্ধন’-এর মতো বেশ কিছু হিট ছবিতে দেখা গিয়েছিল সোনালিকে। তাঁকে সর্বশেষ দেখা গেছে ‘গাঁটছড়া’ ধারাবাহিকে। একটা সময় দাপটের সঙ্গে কলকাতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এই অভিনেত্রী। খলনায়িকা হিসেবেই মূলত পরিচিত ছিলেন। রচনা-ফেরদৌসের ‘হার জিত’ ছবিতে নায়িকার সৎমার চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলেন এই অভিনেত্রী। ‘বন্ধন’ ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গিয়েছিল। সিনেমার পাশাপাশি মঞ্চ, টেলিভিশন ধারাবাহিকে তাঁর অবাধ বিচরণ। সোনালি চক্রবর্তী শুধু শংকর চক্রবর্তীর জীবনের সঙ্গীই ছিলেন না, কর্মজীবনেরও সঙ্গী ছিলেন। মঞ্চের পাশাপাশি ক্যামেরার সামনেও জুটি বেঁধে কাজ করেছেন তাঁরা।
বিগত বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন অভিনেত্রী। হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল। সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছিলেন। ফিরে আবার কাজ শুরু করেছিলেন।

‘গাঁটছড়া’ সিরিয়ালের মুখ্য চরিত্র খড়ির (শোলাঙ্কি রায়) জেঠিমার ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। কিন্তু কিছুদিন আগে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন সোনালি চক্রবর্তী। ২৪ অক্টোবরও প্রদীপ জ্বালিয়ে পরিবারের সঙ্গে দীপাবলি পালন করেছিলেন সোনালি চক্রবর্তী। কিন্তু তারপরই তাঁর শরীর খারাপ হতে শুরু করে। কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অভিনেত্রীকে। অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।
সোমবার দুপুরে অভিনেত্রীর মৃতদেহ তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শেষকৃত্য হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে।