রাহুলের মৃত্যুর পর অভিনয়ে ফেরা, কঠিন সময় নিয়ে বললেন প্রিয়াঙ্কা

প্রিয়াঙ্কা সরকার। ইনস্টাগ্রাম থেকে

গত ২৯ মার্চ মারা যান পশ্চিমবঙ্গের অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। শোক সামলে কাজে ফিরেছেন তাঁর স্ত্রী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যম এই সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী কথা বলেছেন, রাহুলের মৃত্যু থেকে শুরু করে নানা প্রসঙ্গে।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, রাহুলের মৃত্যুর পর দ্রুতই কাজে ফিরেছেন তিনি। কাজ অনেকটা থেরাপির মতো কাজ করেছে। অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘নিজেও জানি না কেমন আছি এই মুহূর্তে। নানা সময়ে নানা রকম আছি। কখনো খুব দুর্বল লাগছে। আবার কখনো নিজেকে খুব স্ট্রং মনে হচ্ছে। কাছের মানুষ, কাজের জায়গা থেকে স্ট্রেংথ খুঁজে নিতে হচ্ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন কেমন আছি! এ প্রশ্নের সত্যিই কোনো উত্তর এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। কাজই আমার থেরাপি। কোনো চরিত্র হয়ে ক্যামেরার সামনে এসে যখন দাঁড়াই, সেটা হলো প্রিয়াঙ্কার সবচেয়ে অথেনটিক সত্তা। তখন আমি বাকি সবকিছু সুইচ অফ করে দিই। সে কারণেই কাজটা করতে ভীষণ এনজয় করি। আর আমি তো একা কাজ করি না। অনেকে থাকেন, কাজের একটা আলাদা পরিবেশ থাকে। সব মিলিয়ে আমি কিছুক্ষণের জন্য হলেও সবকিছু থেকে দূরে থাকতে পারি। ঠিক সে জন্য কাজটা করতে আমি ভীষণ এনজয় করি। কাজের চেয়ে ভালো থেরাপি সত্যিই আর অন্য কিছু নেই।’

সন্তান সহজের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কা ও রাহুল। ফেসবুক থেকে

কঠিন সময় সমালে নেওয়া, বিশেষ করে সন্তান সহজকে সামলানো প্রিয়াঙ্কার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে সামলে ওঠার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় সেই স্পেসটা দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। আমিও কাজে ফিরেছি। সহজও স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। পড়াশোনা নিয়ে সময় কাটাচ্ছে। আমি সত্যিই জানি না সহজ কেমন আছে। কারণ, আমি যেটাই বলব, সেটা অনুমান করে বলা হবে। সেটা উচিত হবে না। আমি সহজকে সময় দিয়েছি। ওর নিজের ভাবনাগুলোকে একটু গোছাতে শিখুক। সহজের যদি মনে হয় এই সময়টা ও কী ভাবে ডিল করল সেটা বলতে চায়, তখন নিজেই বলুক। তার আগে নয়। আমরা শুধু চেষ্টা করছি একে-অন্যের সঙ্গে বন্ধুর মতো থাকতে। সেটা শুধু সহজ নয়। গোটা পরিবার, কাছের মানুষদের ক্ষেত্রেও সেটা জরুরি। যে যার নিজের মতো করে ফিগার আউট করার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন

রাহুলের পডকাস্ট ‘সহজ কথা’ আলোচিত হয়েছিল। অনেক ভক্ত অনুরোধ করেছেন প্রিয়াঙ্কা যেন পডকাস্টটি চালিয়ে নিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘প্রত্যেককে ধন্যবাদ “সহজ কথা”কে এতটা ভালোবাসা দেওয়ার জন্য। এখনো ভালোবাসা পাচ্ছে। আমি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে বলছি, এই অনুষ্ঠানে রাহুলের যে ক্রিয়েটিভ কন্ট্রিবিউশন, ওর তৈরি করা বন্ধুত্ব, রাহুলের হিউমার, লেখা, পড়াশোনা এগুলোই থেকে যাক। সহজ কথার সাফল্যের নেপথ্যে রাহুলের অনেক রিসার্চ, পড়াশোনা রয়েছে। যেটা একেবারেই সহজ ছিল না। সেটা আলাদা সম্মান ডিজার্ভ করে। তাই আমি আর সেখানে হাত দেব না।’