সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সুজাতা ও পাপিয়া সারোয়ার
সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী, রাইসুল ইসলাম আসাদ, সুজাতা ও পাপিয়া সারোয়ার

চলচ্চিত্র, নাটক, অভিনয় ও সংগীতে অবদানের জন্য ২০২১ সালে যাঁরা একুশে পদক পাচ্ছেন, সেসব গুণীজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে। সংস্কৃতি অঙ্গনে যাঁরা এ বছর একুশে পদক পাচ্ছেন, তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এই ঘোষণা শোনার পর কী অনুভূতি হয়েছিল, জানালেন তাঁরা।

default-image

সৈয়দ সালাহউদ্দীন জাকী, নির্মাতা
চারদিকে এত দুঃসংবাদ, এর মধ্যে এমন সংবাদ আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। একুশে পদকের এবারের তালিকায় কয়েকজনের নাম দেখে ভালো লাগাটা আরও বেড়ে গেল। তাঁদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সম্মান—সবকিছু আছে। আমি রাইসুল ইসলাম আসাদের কথা বলতে পারি। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, ভালো অভিনেতা, শুধু আমার ছবিতে অভিনয় করেছে বলে বলছি না। সবার বিচারে খুব ভালো একজন অভিনেতা ও সংস্কৃতিসেবী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় আমার বয়স খুব কম হলেও বেশ কিছু স্মৃতি জমে আছে। অনেক বছর পেরিয়ে গেলেও আজ সেই স্মৃতিগুলো আবার আমার ঘরে ঢুকল বলে মনে হলো। ‘ঘরে ঢুকল’ এই কারণে বলছি, আমাদের ড্রইংরুমে ১৯৫২ সালে তৎকালীন কয়েকজন ছাত্রনেতা আশ্রয় নিয়েছিলেন, তাঁরা সবাই আমার বাবার ছাত্র ছিলেন। এই প্রাপ্তির খবর জানার পর থেকে আমার শিক্ষকদের কথা খুব মনে পড়ছে। তাঁর মধ্যে ভাষাসৈনিক গাজীউল হক, মুহাম্মদ সুলতান, শহীদ সাবের ও আবদুস সামাদ আজাদ। শহীদ সাবের স্যার আমাদের প্রগতির গল্প শোনাতেন।

বিজ্ঞাপন
default-image

রাইসুল ইসলাম আসাদ, অভিনয়শিল্পী
পুরস্কার পেলে, সম্মান পেলে কার না ভালো লাগে। আমারও ভালো লাগছে। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় পুরস্কার পাচ্ছি, এটা তো পরম পাওয়া। আমাকে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে যখন ফোন করে জানানো হয়, তখন মনে হয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধে যাঁদের হারিয়েছি, তাঁদের কথা। আমার যেকোনো অর্জনে প্রথম মুক্তিযুদ্ধের কথা বেশি মনে পড়ে। আজ বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আমি অভিনেতা হতাম না। দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমি সেই স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। যাঁদের সঙ্গে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম, তাঁরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে আমাকেও যুক্ত হতে হয়েছে। আমি কিন্তু কখনোই অভিনেতা হতে চাইনি। আমাকে অভিনেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা সময় কাজ করতে করতে এটাকে দায়িত্ব মনে হয়েছে। সেভাবেই ’৭২ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

default-image

সুজাতা, অভিনয়শিল্পী
সত্যিকারের শিল্পীরা খুব সাধারণ ও সাদাসিধে মানুষ। তাঁরা কোনো কিছু পাওয়ার আশায় কাজ করেন না। শিল্পের প্রতি ভালোবাসার জন্য তাঁরা কাজ করে যান। কোনো কিছু অর্জন হলে তা বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রধানমন্ত্রী যে স্বীকৃতি দিলেন, তার জন্য শুরুতে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ছোটবেলায় শুনতাম, মা বলতেন, একুশে পদক পাওয়া হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো আনন্দের। মানুষের কাছে দুর্লভ একটা জিনিস। এই দুর্লভ জিনিস আমার জীবনে এসেছে। এটা বড় প্রাপ্তি। আমি অত্যন্ত খুশি। আমার দায়িত্ব হচ্ছে, সরকার আমাকে একুশে পদক দিয়েছে, এর মর্যাদা যেন আমি রাখতে পারি। অনেক আগে যদি এটা পেতাম, আনন্দে প্রাণের জায়গা এফডিসিতে একটা দৌড় দিতাম। সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতাম। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি নেই। স্বপ্ন দেখি, এই এফডিসি আগের মতো সুন্দর হয়ে উঠবে। খবরটি জানার পর আমার মায়ের কথা খুব মনে হয়েছিল। আমাকে তন্দ্রা থেকে সুজাতা বানাতে মা কী যে কষ্ট করেছেন! তিনিই আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন।

default-image

পাপিয়া সারোয়ার, সংগীতশিল্পী
মাসখানেক ধরে মনটা খুব খারাপ। আমার ছোট বোনের বর যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আরও অনেকের মৃত্যুসংবাদ শুনেছি। এর মধ্যেই শুনলাম একুশে পদকপ্রাপ্তির খবরটি। শোনার পর থেকে দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেকেই যোগাযোগ করছেন। অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আমাকে সম্মান জানিয়েছে, ভালো লাগছে। সংগীতচর্চায় আমার যতটুকু অবদান, তা সবার কাছে তুলে ধরা, তার মূল্য যেন মানুষ বুঝতে পারে—এটাই আমার চাওয়া।

বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন