বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

মাসুদ হাসান লেখেন, ‘আমি চারুকলায় লেখাপড়া করেছি, ১৫ বছর ধরে মিডিয়ায় কাজ করছি। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এই অঙ্গনের অধিকাংশ মানুষ হৃদয়হীন, স্বার্থপর এবং সংকীর্ণমনা। একা খাওয়া এবং একা বাঁচার প্রবণতায় এই অঙ্গনের মানুষেরা সব থেকে এগিয়ে। বাংলাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো এজেন্সি, প্রোডাকশন হাউস, নিউজ এজেন্সি, টিভি চ্যানেল, ওটিটি এবং প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে। কোটি কোটি টাকা রোল হয় এই অঙ্গনে। একজন রাসেল ও’নীল বা তানভীরের জন্য এত এত প্রতিষ্ঠানের কোনোটায় কোনো কাজ জোটেনি? তাহলে মরে যাওয়ার পর তাঁদের “মেধাবী” বলে গালি কেন দেন? বরং দম্ভের সঙ্গে ঘোষণা করা উচিত, বাতিল মাল, টিকতে পারে নাই!’

বেশ কয়েক বছর ধরে টেলিভিশন নাটকে একটা সিন্ডিকেট নিয়ে কথাবার্তা চলছে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা তর্ক-বিতর্কও রয়েছে। কেউ কেউ সেই সিন্ডেকেট ভাঙার চেষ্টা করছেন। মাসুদ হাসান তাঁর লেখায় সেই সিন্ডিকেটের দিকেও আঙুল তুলছেন। তিনি লিখেছেন, ‘টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে ঘুরেফিরে একই মুখ। এজেন্সি, বিজ্ঞাপন, ওটিটি সব জায়গায় ঘুরেফিরে একই মুখ। কিছু না, মাত্র ১০-২০ জন মানুষ ভাগ-বাঁটোয়ারা করে সব কাজ করবেন বলে ঠিক করে নিয়েছেন। তাহলে বাকিরা নিশ্চয়ই অযোগ্য? তো এই ১০-২০ জনের মহাযোগ্য দল এত এত সাবস্ট্যান্ডার্ড কাজ কী করে প্রডিউস করে, কী করে একের পর এক কাজ ফ্লপ হয়?’

default-image

ক্ষুব্ধ মাসুদ হাসান কোনোভাবেই মানতে রাজি নন, রাসেল ও’নীল বা তানভীররা অযোগ্য ছিলেন, অযোগ্যতার কারণেই তাঁরা কর্মহীন ছিলেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাসেল ও’নীল বা তানভীরদের ভয়ানক একটা ত্রুটি ছিল, সেই ত্রুটির নাম “আত্মসম্মান”, প্রকৃত শিল্পীদের যেটা থাকে। হাত কচলে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুকে শ্রেয় মনে করেছেন তাঁরা, তাঁদের আমি সালাম জানাই।’

default-image

মাসুদ হাসানের এ বক্তব্য সমর্থন করেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকে। কেউ কেউ তাঁদের ফেসবুক ওয়ালে এই লেখা শেয়ার করেছেন। পরিচালক নুরুল আলম আতিক লিখেছেন, ‘খুব সুন্দর করে জরুরি কথাগুলা বলেছেন।’ তরুণ পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ লিখেছেন, ‘সিন্ডিকেট সবখানেই। এখানে প্রতিভার চেয়ে তেলের খনি খোঁজা হয় বেশি। ভালো থাকুক সিন্ডিকেট বাহিনী।’

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার লিচুবাগান এলাকার বাসা থেকে শুক্রবার গীতিকার মেহবুবুল হাসান রাসেলের (৪৭) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি রাসেল ও’নীল নামে পরিচিত। তাঁকে ময়মনসিংহ শহরে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন