বিজ্ঞাপন

আবুল হায়াত জানালেন, নাটকগুলোতে সব চরিত্র অস্থির প্রকৃতির। গল্পে কোনো সৌন্দর্য নেই। নাটকের মাধ্যমে বাঙালির যে চিরচেনা ঐতিহ্য, সংস্কৃতি তুলে ধরার চেষ্টা ছিল, তা মুছে তলানিতে এসে ঠেকেছে। তিনি বলেন, ‘বেশির ভাগ নাটকের চিত্রনাট্য দেখে বোঝা যায়, কোনো ধরনেরই পরিকল্পনা নেই, ভাবনাচিন্তা ছাড়াই শুটিং হয়। এখন আবার নাটকে অকারণে উচ্চ স্বরে কথা বলা একটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিনয়ের মধ্যে মেকি ভাব বোঝা যায়। কিছুক্ষণ পর পর বাইকের আধিক্য। যে যার মতো পারছে, সংলাপ বলে যাচ্ছে। এমন নাটক দেখতেও কষ্ট লাগে।’

default-image

আশির দশক থেকেই নাটকে অভিনয় করছেন আবুল হায়াত। এই সব দিনরাত্রি, আজ রবিবারসহ অসংখ্য নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি, যা এখনো দর্শকপ্রিয়। বাংলা নাটক সব সময়ই দেশের ঐতিহ্য বহন করে। সেই মানের বিষয় মাথায় রেখে সবাই নাটক তৈরি করে থাকেন। সেই মান দিনে দিনে নষ্ট হয়ে যেতে দেখে আফসোস করে এই অভিনয়শিল্পী বলেন, ‘অর্থকড়ি সবারই দরকার আছে। কিন্তু তাই বলে একটি দেশের সংস্কৃতিকে অবহেলা করা মোটেও ঠিক নয়। নাটকে এখন ভাষাকে পুরোপুরি অবজ্ঞা করা হচ্ছে। আমাদের বাংলা ভাষার যে সুনাম ছিল, তা এখন কমে গেছে। দর্শক হাসানোর নামে ভাষাকে নষ্ট করা হচ্ছে। এখনকার নাটকে প্রমিত ও আঞ্চলিক ভাষা মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি অবস্থা তৈরি হচ্ছে। যে ভাষার জন্য বাঙালি প্রাণ দিয়েছিল, সেই ভাষার এমন দুর্দশা দেখলে কষ্ট লাগে। যাঁরা এটা সমাধান করতে পারেন, তাঁরাও চুপ রয়েছেন।’

default-image

একসময় আবুল হায়াত কলকাতায় গেলে তাঁর দেশের ভাষার প্রশংসা শুনতেন। শেষ কয়েকবার যখনই কলকাতায় গিয়েছিলেন, তখন অন্য রকম অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। তিনি জানান, তাঁরা নাটক ও টেলিছবিতে যা দেখছেন, সেটাই বাংলাদেশের মানুষের ভাষা হিসেবে ধরে নিচ্ছেন। জোর করে হাসানোর চেষ্টা করলেও দেশের কথা ভাবতে হয়। আবুল হায়াত বলেন, ‘এই ধরনের মানহীন নাটক এত বেশি প্রচারিত হওয়ার কারণে যাঁরা একটু ভালো নাটকের চর্চা করছেন, তা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। মানসম্মত নাটকের যে স্বপ্ন নিয়ে আমরা শুরুটা করেছিলাম, তা আর সেই জায়গায় নেই। ভাবতেই কষ্ট লাগে। তৈরি একটা ভালো জায়গা আমরাই শেষ করছি।’

default-image

গত মাসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন আবুল হায়াত। এখনো শারীরিক দুর্বলতাসহ বেশ কিছু জটিলতা রয়েছে। এ জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলছেন। আপাতত কোনো শুটিং করছেন না। আজ মঙ্গলবার থেকে একটি সিনেমায় শুটিং করার কথা থাকলেও তা বাতিল হয়েছে। ভবিষ্যতে শারীরিক অবস্থা ও করোনা পরিস্থিতি বুঝেই শুটিংয়ে ফিরবেন তিনি। আবুল হায়াত জানান, বেশ কিছুদিন পরে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন। বেশ ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি স্বাস্থ্য বার্তার নম্বর ও হাসপাতালে দুই দিন ধরে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাননি। হাসপাতালের গেটের ভেতরে তাঁকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত করোনা সেবার নম্বর ফোন দিয়ে কোনো সাড়া পাননি। আবুল হায়াত বলেন, ‘আমার টিকা নেওয়ার তারিখ চলে যাচ্ছিল। দুই দিন ধরে হাসপাতালে ঘুরে আজ মঙ্গলবার টিকা নিয়েছি। এই ভোগান্তি শুধু মিস ম্যানেজমেন্টের কারণে। তারা শুধু ফোন খোলা রেখে জানাবে, কবে টিকা নিতে পারব। সেটাই অনেক চেষ্টা করেও জানতে পারলাম না।’

default-image
টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন