default-image

কিশোরী ঐন্দ্রিলা তখন তরুণদের ক্রেজ। বুলবুল আহমেদের মেয়ে বলে নয়, বিটিভিতে তাঁর অভিনীত নাটকগুলো বিশেষভাবে আকর্ষণ করত তরুণদের। চ্যানেল একটি ছিল বলে তারকারা ছিলেন ভীষণ জ্বলজ্বলে। ঐন্দ্রিলার কোচিং সেন্টারের সামনে জটলা বেঁধে ছেলেরা দাঁড়িয়ে থাকত হয়তো সে কারণেই।

গৃহশিক্ষক আসছেন না। মা বলছেন, বাবার কাছে বসো। মেয়ে বলে, বাবার কাছে বসতে ভালো লাগে না। একটু কিছু না পারলে বাবা ধমক দেয়। ‘রূপনগর’ নাটকের এ দৃশ্যের বাবা-মেয়ে বুলবুল আহমেদ ও ঐন্দ্রিলা। কিংবদন্তি বাবা চলে গেছেন। নাচ, গান, অভিনয় কমিয়ে ঐন্দ্রিলা এখন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। তবে বিনোদন দুনিয়া থেকে পুরোপুরি হারাননি তিনি।

দেড় বছর বয়স থেকে ঐন্দ্রিলা ক্যামেরার সামনে। অভিনয় করেছেন বহু নাটকে। ‘রূপনগর’, ‘মোহর আলী’, ‘জীবন কাহিনী’, ‘শেষ থেকে শুরু’, ‘অভিমানে অনুভবে’সহ বহু নাটক। বাবার নাটকের টাইটেল গান, নিজের একক গান, নাটক ও সিনেমার জন্য গান করলেও অ্যালবাম করা হয়নি তাঁর। এ বছর ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে একটি গান করেছেন। তিন বছর আগে অপূর্বর সঙ্গে ‘সাংসারিক ভালোবাসা’ নামে নাটকটি ইউটিউবে ২০ লাখবার দেখেছে লোকে। কিন্তু নাটকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সময় কোথায়? অফিস সামলে সেটা অসম্ভব। কাজের ফাঁকে নিয়মিত রান্নার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন তিনি।

default-image

বিনোদন অঙ্গনকে বেশ অনুভব করেন তিনি। তবে আক্ষেপ বা আফসোস নেই। বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী ছিলেন। একসময় বিনোদনের প্রায় সব শাখায় প্রচুর কাজ করেছেন। বড় বড় ব্র্যান্ডের মডেল হয়েছেন। কৈশোর ও তারুণ্যেই ঐন্দ্রিলা ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। সেসব মনে করে বলেন, ‘জন্মদিনে ভক্তরা কত যে উপহার পাঠাতেন। কেউ কবিতার খাতা, কেউ ছবি বড় করে বাঁধিয়ে পাঠাতেন। কোচিংয়ে গেলে ছেলেরা দাঁড়িয়ে থাকত। আমি তখন অনেক ছোট, অপ্রস্তুত বোধ করতাম।’

মার্কেটিংয়ে স্নাতক ঐন্দ্রিলার স্নাতকোত্তরের বিষয় ছিল ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া। পড়াশোনায় ভালো ছিলেন, পরিবারের সবাই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তিনিও একে পেশা হিসেবে নিলেন। সৃজনশীল কাজ হিসেবে ভালোবেসে কাজগুলো করেন ঐন্দ্রিলা। শৈশব-কৈশোরের মতো এখনো দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়ান, নতুন নতুন সব জিনিস শেখার আনন্দ পান।

default-image

পরিবারকে ফেসবুক ও মিডিয়া থেকে দূরে রাখেন ঐন্দ্রিলা। সন্তানেরা যেন স্বাভাবিক আনন্দ নিয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়, এ ব্যাপারে তিনি সজাগ। তারাও নাচ-গান শিখছে, তবে মিডিয়ায় কাজ করার সিদ্ধান্ত বড় হয়ে তারাই নেবে। তিনি বলেন, ‘তারকার সন্তান হিসেবে আমাদের শৈশব তেমন আনন্দের ছিল না। পড়াশোনার পর শুটিংয়ে চলে যেতাম। পরীক্ষার হল থেকে চাকরির ভাইবা, সবখানে কেবল বাবার প্রসঙ্গ উঠে আসত। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, বেড়ানো, পার্টি করা হতো না। ঢাকা ক্লাবের মাঠ ছাড়া কোথাও একটু শান্তিতে হাঁটতে পারতাম না। নিজের ছেলেমেয়েদের সে রকম জীবন চাই না। বলিউডের অক্ষয় কুমার এ কারণে সন্তানদের ছবি কোথাও প্রকাশ করেন না।’

ঐন্দ্রিলাদের পারিবারিক বন্ধন অটুট। নিয়ম করে সবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়। বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আগামী মাসে। দিনটিকে স্মরণ করে বাবার নামে সম্মাননা দেবেন বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট থেকে। ভাবছেন এ বছর অনলাইনে অনুষ্ঠান করবেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0