বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পাশাপাশি তিনি লিখেছেন, ‘ ‘জানোয়ার’ দেখার সময় এবং পরে বারবারই মনে হয়েছে এবং মনে হচ্ছে, আচ্ছা আমাদের টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বিভাগ কি এখান থেকে কিছু শিখবে? আমি নিশ্চিত, শিখবে না। বরং আমার এ রকম মন্তব্যের জন্য হয়তো আমাকে নিষিদ্ধ করে বসতে পারে। প্লিজ, এ রকম কিছু করলে আমি কিন্তু বেকার হয়ে যাব। বাইশ বছর ধরে এই এক পেশায় আমার জীবনধারণ, বয়স এখন পঞ্চাশ। এই বয়সে এসে নতুন কোনো পেশায় আর নিজেকে নিয়োজিত করতে পারব না। সুতরাং আমার এ রকম মন্তব্যের জন্য আপনাদের কাছে আগাম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। টেলিভিশনকে দিনকে দিন দেখার অযোগ্য করে তুলেছেন আপনারা। আপনাদের কাছে কেউ কাজ করতে গেলেই আপনাদের প্রথম জিজ্ঞাস্য হচ্ছে, “নাটকে কারা কারা আছে? অমুক অমুক অমুক বা অমুক, এরা কেউ নাই? দেখেন না একটু, স্টার কাস্ট না হলে কীভাবে নাটক চালাই বলেন?” “আচ্ছা একটু দেখেন না, এরা যদি না হয়, তমুক আর তমুক হলেও কিন্তু হবে।” “বলেন কী? তাহলে কেমনে নাটক নেব! ভাই, আমাদের তো নাটক বেচতে হয়! কাস্ট ছাড়া তো বেচা যাবে না ভাই। একটা স্টার কাস্ট তো লাগে...’’।

default-image

অরণ্য আনোয়ার লিখেছেন, ‘স্টার কাস্ট লাগে না। লাগে গল্প, লাগে গল্প অনুযায়ী চরিত্র রূপায়নের জন্য অভিনয়শিল্পী। লাগে সুন্দর একটা গল্প বলার জন্য চিত্রনাট্য আর সুনির্মাণ। ‘জানোয়ার’-এর মতো অনেক অনেক কাজ নিয়ে আপনাদের দুয়ারে দুয়ারে কত কত নির্মাতা ঘুরেছেন। তাঁদের সেসব কাজে ফাঙ্গাস পড়েছে, তাঁদের জুতার তলা ক্ষয় হয়েছে, তাঁরা হতদরিদ্র হয়ে নিজ গৃহে ফিরে গেছেন। আপনারা সেসব নিয়ে দারুণ হাসাহাসি করেছেন। আজ ওটিটি যদি না থাকত, এই ‘জানোয়ার’-এর মতো কাজ নিয়েও আপনারা তাই করতেন।’

টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বিভাগকে ভালো গল্প খোঁজার আহ্বান জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘দয়া করে কাস্ট না খুঁজে গল্প আর নির্মাণ খোঁজেন। অনেক অনেক রায়হান রাফি তৈরি করার ক্ষমতা আপনাদের আছে। এ রকম রাশেদ মামুন অপু শত শত তৈরি হবে, আপনারা যদি একটু নজর দেন। আমার কথার ভুল ব্যাখ্যা করতে পারেন। কিন্তু যা বলেছি, শুধু পজিটিভ ভাবনার জায়গা থেকেই বলেছি।’

default-image

ওটিটির অনুষ্ঠান নিয়ে আগেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন অরণ্য আনোয়ার। ওয়েব সিরিজে অশ্লীলতা প্রসঙ্গে গত বছরের জুন মাসে শাহরিয়ার নাজিম জয়ের একটি লাইভ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের টিভি নাটকে যে ধরনের দৃশ্য আমরা দেখি না, আপত্তিকর বলে বিবেচনা করি, সে রকম দৃশ্যের প্রসঙ্গে মত জানতে চান সঞ্চালক জয়। জবাবে অরণ্য আনোয়ার বলেন, ‘যেটা আমাদের শিল্প, বাণিজ্য ও এগিয়ে যাওয়ার জন্য ভালো, আমাদের সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।’

অন্যদিকে টেলিভিশন ধারাবাহিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই হতাশ নির্মাতা অরণ্য আনোয়ার। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘ফুল এইচডি’ প্রচারের আগে আক্ষেপ করে তিনি বলেছিলেন, ‘এত দিনেও আমাদের দেশে ধারাবাহিক নাটকের প্রকৃতি নির্ধারণ করা যায়নি। আমরা একেকজন একেক নিয়মে ধারাবাহিক বানিয়ে যাচ্ছি। অন্যান্য দেশে টিভি ধারাবাহিকের একটি চরিত্র আছে। টেলিভিশনগুলোর উচিত ধারাবাহিকের চরিত্র নির্ধারণে নাট্যকার ও নির্মাতাদের দিকনির্দেশনা দেওয়া।’

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন