default-image

এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে মনঃক্ষুণ্ন সাজু খাদেম প্রথমেই বলেন, ‘এসব নিয়ে কথা বলে আর কী হবে! প্রতিবাদ করার সময়ও আমাদের বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। একজন নারীর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হয়েছে। তাঁর পাশে দাঁড়ানো কি আমাদের কর্তব্য নয়? কিন্তু আমার প্রতিবাদে মানুষ নানা রকম বাজে শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য করে গালি দিচ্ছেন। এ ধরনের নোংরা মানসিকতা যাঁদের, তাঁদের কী করা উচিত? তাঁরাও তো ইভ টিজার।’

default-image

সাজু খাদেম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘লাল টিপ, লাল সূর্য।’ সেই স্ট্যাটাসে ঢুকে দেখা যায় একাধিক ব্যক্তি তাঁকে গালাগাল করেছেন। গালি ও তির্যক মন্তব্যগুলো লেখারও অযোগ্য। আপত্তিকর মন্তব্যগুলোর মধ্যে একজন লিখেছেন, প্রিয় অভিনেতার মানসিক সুস্থতা কামনা করি! কেউ কেউ লিখেছেন, ‘লিপস্টিক দিতেন, তাইলে না মানুষ অন্য কিছু ভাবত। আপনাকে হিজড়ার মতো লাগছে।’ এ ছাড়া অনেকেই তাঁকে ‘দালাল’ সম্বোধনও করেছেন। সাজু খাদেম বলেন, ‘টিপ, পোশাক বা অন্য যেকোনো প্রতিবাদের সময় যখন আমরা মা-বোনদের পক্ষে দাঁড়াই, তখনই এ ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। যে মানুষগুলো এসব নোংরামি করছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা উচিত। তাঁরাই মানুষের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বুলিং করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংয়ের মামলা হওয়া উচিত।’

default-image

সাজু খাদেম বলেন, ‘একটা স্বাধীন রাষ্ট্রে আমাদের মা-বোনেরা কী পোশাক পরবেন, সেই স্বাধীনতা তাঁদের আছে। টিপ পরা, শাড়ি পরা বাঙালির চিরায়ত সৌন্দর্য। এটা বাঙালির কালচার। বাঙালির সংস্কৃতিতে নারীদের টিপ পরার রেওয়াজ আছে। বাঙালির সংস্কৃতি ধারণ করা যাবে না, এটা কে বলেছে? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালিরা আজ যদি টিপ পরা নিয়ে এ পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে কদিন পর আমরা নাচতে পারব না, গাইতে পারব না, অভিনয় করতে পারব না। এভাবে একদিন আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চা বন্ধ হয়ে যাবে। শিল্পী হিসেবে আমরা যদি এর প্রতিবাদ না করি, তাহলে কে করবে?’

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন