বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image
default-image

একটা পরিবার সংস্কৃতিকে কতটা ভালোবাসতে পারে, তা ইনাম ভাইয়ের পরিবারকে দেখলেই বোঝা যায়। লাকী ভাবি যে রকম, হৃদি হকও তেমনি সাংঘাতিক নাটকপাগল। সাজু খাদেম আছে, আমাদের লিটু আনামও আছে, প্রৈতী আছে—পুরো পরিবারই সংস্কৃতিমনস্ক, এমনটা দেখা যায় না। তবে ইনাম ভাই কখনোই সংস্কৃতি অঙ্গনে কাজ করার ব্যাপারটি পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেননি। তাঁর বাড়িতে এ পরিবেশই তিনি তৈরি করেছিলেন। আমার স্পষ্ট মনে আছে, ১৯৬৮-৬৯ সালে আমরা যখন রিহার্সাল করতাম, নাগরিক ছাড়াও বিপ্লবের নাটকগুলোও ইনাম ভাইয়ের বাড়িতেই করতাম। ইনাম ভাই তখন ব্যাচেলরস কোয়ার্টারে থাকতেন। সেই বাড়িতে আমরা রিহার্সাল করতাম। তাঁর বাড়ির দরজা আমাদের জন্য সব সময় খোলা থাকত। ইডিপাস–এর রিহার্সাল তাঁর বাড়িতেই করেছি। এগুলো তো ভালোবাসা থেকেই হয়।

default-image

শিক্ষক হিসেবে ইনাম ভাই খুব জনপ্রিয় ছিলেন। অনেক জ্ঞানী–গুণী মানুষ আছেন কিন্তু ভালো শিক্ষক হওয়া খুব কঠিন। বিশেষ করে ছাত্রদের প্রিয় শিক্ষক হওয়াটা তো অনেক বড় ব্যাপার, সেখানে ইনাম ভাই ছিলেন ব্যতিক্রম। শিক্ষার্থীরা ইনাম ভাই বলতেই অজ্ঞান ছিলেন। পড়াশোনার ব্যাপারে অনেক সময় ব্যয় করতেন। বিদেশি সাহিত্য পড়তেন, অনুবাদ করতেন। রেডিও আর টেলিভিশনে তাঁর অনুবাদ করা নাটক হয়েছে। তাঁকে নিয়ে আসলে বলতে গেলে শেষ হবে না।
সপ্তাহ দুয়েক আগে সর্বশেষ তাঁর সঙ্গে কথা হয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘কী করছ? নাটকে অভিনয় শুরু করছ নাকি?’ শুরু করেছি। আপনি কী করেন? শুরু করেছেন? ‘না, আমি করিনি। আরও কিছুদিন পর বাসা থেকে বের হব। একদমই বের হইনি করোনায়।’ এরপর বললেন, ‘আমি একটা বড় কাজ করে ফেলেছি। অনেকগুলো নাটক অনুবাদ করে ফেলেছি। এখন এগুলোকে প্রিন্ট করব।’ তাঁর অনুবাদও ছিল দারুণ, অনেকগুলোতে অভিনয় করেছি। আমার নির্দেশনায়ও দু-তিনটি নাটকে অভিনয় করেছেন ইনাম ভাই। আমার চোখে তো এ রকম নিবেদিত শিল্পী পাওয়া মুশকিল। তবে তাঁর নির্দেশনায় আমার কাজ করা হয়নি। এই একটা দুঃখবোধ রয়েই গেল।

শ্রুতিলিখন : মনজুর কাদের, ঢাকা

টেলিভিশন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন