আনিসুর রহমান মিলন
আনিসুর রহমান মিলনছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

এক মাস চার দিন বিশ্রাম নিলেন অভিনেতা আনিসুর রহমান মিলন। অক্টোবর মাসের শুরুতে শুটিংয়ের সময় একটু অসুস্থ অনুভব করলে শুটিং বাতিল করে বাসায় চলে যান তিনি। তারপর হঠাৎ জ্বর বোধ করেন, সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর কোনো রোগ নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শে এক মাস বিশ্রাম নিয়ে সম্প্রতি শুটিংয়ে ফিরেছেন মিলন, মূলত শরীরের কন্ডিশন বুঝতে। শরীর সায় দিলে নিয়মিত শুটিং করবেন।

default-image

দুর্বলতা পুরোপুরি কাটেনি মিলনের। বিশ্রামে এখন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো বোধ করছেন। দুই মাস আগে ‘গোলমাল’ নামে একটি নাটকের শিডিউল দেওয়া ছিল। সেই নাটক দিয়েই শুরু করলেন কাজ। মিলন বলেন, ‘ডাক্তার আগেই শারীরিক অবস্থা দেখে সতর্ক করে বলেছিলেন টানা ৩০ দিন বিশ্রাম নিতে। পুরো মাস সব কাজ থেকে দূরে ছিলাম। এখন আগের চেয়ে কিছুটা ভালো বোধ করায় শুটিংয়ে ফিরছি। পেশা যেহেতু অভিনয়, একসময় তো ফিরতেই হতো।’

বিজ্ঞাপন
default-image

অভিনয়ে প্রায় সারা মাস ব্যস্ত থাকতে হয় মিলনকে। অসুস্থতার কারণে ‘গাঙচিল’সহ একাধিক ধারাবাহিক এবং একক নাটকের শুটিং বাতিল করতে হয়েছে তাঁকে। প্রায় দেড় মাস পরে শুটিংয়ে ফিরে নিয়মিত হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত হব কি না এখনই সেই সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। একদিন আগে শুটিং করে দেখি কেমন লাগে, শুটিং ফিজিক্যালি আমার সঙ্গে যায় কি না। শরীরের কন্ডিশন বুঝেই শুটিং করব। যদি শুটিংয়ের ধকল নিতে পারি, তাহলে বিরতি দিয়ে শুটিং করব। ভালো না লাগলে আবারও বিশ্রামে চলে যাব।’

মিলন অসুস্থ হওয়ার পর গত মাসে অভিনয়শিল্পী সংঘ সূত্র জানায়, এই অভিনেতার হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তখন জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। শ্বাসকষ্ট থাকায় সেখানকার চিকিৎসকেরা ধারণা করেছিলেন, এই অভিনেতা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তবে পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ আসে। এমনকি পরীক্ষায় তাঁর হার্টেও কোনো সমস্যা পাননি চিকিৎসকেরা। শ্বাসকষ্ট থাকায় তাঁকে সিসিইউতে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়। পরে কিছুটা ভালো বোধ করায় সে সময় তাঁকে এইচডিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় বিশ্রামে যান তিনি।

default-image

শৈশব থেকেই ‘আর্তনাদ’ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন মিলন। ইচ্ছা ছিল বিমানবন্দরে চাকরি করার। পড়াশোনা শেষ করে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেমোক্রেসি ওয়াচের একটি প্রকল্পে কাজ শুরু করেন। কিছুদিন একটি ব্যাংকেও চাকরি করেছেন। পরে সেই চাকরি ছেড়ে অভিনয়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। সালাহউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় চ্যানেল আইয়ের ধারাবাহিক নাটক ‘রঙের মানুষ’-এ অভিনয় করে তিনি পরিচিতি পান। তিনি ‘জয়িতা’, ‘অতঃপর’, ‘শুভাগমন’, ‘প্রজাপতিকাল’, ‘হাটকুঁড়া’, ‘মধুময়রা’সহ বহু নাটকে অভিনয় করেছেন। মিলন অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘হাজার বছর ধরে’। সেখানে মাঝি করিম শেখের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0